বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

কাশ্মীরে স্কুল খুলল, শিক্ষকরা হাজির, ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা খুব কম

দ্য ওয়াল ব্যুরো : জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল ও রাজ্যটিকে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভেঙে দেওয়ার পরে অশান্তির সম্ভাবনায় সেখানকার সব স্কুল-কলেজ ও অফিস বন্ধ রাখা হয়। সোমবার অফিস খুলেছে। কয়েকটি স্কুলও চালু হয়েছে। স্কুলে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরা উপস্থিত হয়েছেন। কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতির হার খুবই কম। স্কুলগুলি ফাঁকাই রয়েছে বলা চলে। প্রশাসন দাবি করেছে, কাশ্মীর উপত্যকায় যত ল্যান্ডলাইন আছে, তার দুই তৃতীয়াংশ চালু হয়ে গিয়েছে। মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা চালু হবে কিনা, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা ও মেহবুবা মুফতি সহ কয়েকশ রাজনীতিক এখনও বন্দি হয়ে রয়েছেন।

শ্রীনগরের ডেপুটি কমিশনার শাহিদ ইকবাল জানিয়েছেন, শহরে ৯০০ টি প্রাথমিক স্কুল আছে। তার মধ্যে ১৯৬ টি খুলেছে সোমবার। তাঁর কথায়, আমরা বিভিন্ন এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছি কোন কোন স্কুল খোলা হবে। আমরা বাবা-মায়েদের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, ছেলেকে স্কুলে পাঠান। তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা আমাদের দায়িত্ব।

সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, সকালে কয়েকটি স্কুলের গেট খুললেও বেলায় বন্ধ করে দেওয়া হয়। শ্রীনগরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি স্কুলের জনৈক কর্মচারী জানিয়েছেন, কয়েকজন শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী এসেছেন। কিন্তু ছাত্ররা আসেনি বললেই চলে।

শ্রীনগরের প্রতিটি বেসরকারি স্কুলই বন্ধ আছে। শনি ও রবিবার শহরে হিংসাত্মক বিক্ষোভের পরে অভিভাবকরা ছেলেমেয়েকে স্কুলে পাঠানোর ঝুঁকি নিচ্ছেন না। কেবল বেমিনায় পুলিশ পাবলিক স্কুল ও কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়গুলিতে অল্প কয়েকজন ছাত্র উপস্থিত হয়েছে।

রবিবার রাতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা রক্ষীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। তারপর শ্রীনগরের কয়েকটি জায়গায় ফের নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা একবার চালু করেও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের ভয়, ফেসবুকে ও হোয়াটস অ্যাপে গুজব ছড়ানো হতে পারে।

জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্য সচিব রোহিত কানসাল বলেন, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে আরও বেশি সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে। তিনি স্বীকার করেন রবিবার রাতে দু’-তিনটি ঘটনা ঘটেছে। মাত্র দু’জন আহত হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যপাল সত্যপাল মালিকের উপদেষ্টা কে বিজয় কুমারকে জিজ্ঞাসা করা হয়, আর কতদিন নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে? তিনি বলেন, আমরা চাই, একজনও যাতে না মারা যায়। ২০১০ সালে বিক্ষোভে ১১০ জন মারা গিয়েছিলেন। এবার আমরা চেষ্টা করছি যাতে মানুষের জীবন রক্ষা পায়।

Comments are closed.