৬৬ দিন পরে খুলেছে উপত্যকার সব কলেজ, তবু খাঁ খাঁ করছে ক্লাসরুম! যোগাযোগ সেই তিমিরেই

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার থেকে কাশ্মীরের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলি খুলে গিয়েছে বলে খবর এসেছে। ৬৬ দিনের দীর্ঘ অবরোধের পরে খুলেছে শিক্ষাঙ্গন। মনে করা হয়েছিল, শিক্ষার্থীরা বুঝি মুখিয়ে আছেন এই দিনটার জন্য। কিন্তু বাস্তবে ঘটল অন্য। স্থানীয় সূত্রের খবর বলছে, বুধবার কলেজ-ইউনিভার্সিটির ক্লাসরুমগুলো একেবারেই ফাঁকা ছিল। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশ এসেছে সিলেবাস শেষ করার। যা শেষ হবে না, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় মেটেরিয়াল পড়ুয়াদের বিলি করার। কিন্তু কাদের নিয়ে হবে এ সব! পড়ুয়া কই!

    শ্রীনগরের লাল চকে অবস্থিত শ্রী প্রতাপ কলেজ হোক বা মৌলানা আজাদ উইমেন্স কলেজ। এ দিন এই শূন্যতা চোখে পড়েছে সর্বত্র। শ্রী প্রতাপ কলেজের বিএসসি পড়ুয়া শহিদ উল রহমান বলছিলেন, কুপওয়ারা থেকে ১০০ কিলোমিটার পথ উজিয়ে কলেজে এসেছেন তিনি। অশান্তি শুরুর আগে যখন কলেজ খোলা ছিল, তখন নিজের বইখাতা কলেজেরই এক বন্ধুর কাছে রেখে গেছিলেন তিনি। আজ কলেজ খোলার খবর পেয়েই এসেছেন। ভেবেছিলেন, বন্ধুও আসবে, বইখাতা নিয়ে নেবেন। কিন্তু বন্ধু কেন, তাঁর ব্যাচের ৩০০ ছাত্রের মধ্যে কাউকেই আসতে না দেখে রীতিমতো বিস্মিত তিনি!

    শহিদের কথায়, “জুলাইয়ে আমাদের থার্ড সেমেস্টার হওয়ার কথা ছিল, এখনও হয়নি। কলেজ থেকে বলেছে, থার্ড আর ফোর্থ সেমেস্টার একসঙ্গে হবে। আমাদের বলা হয়েছে বাড়িতে বসেই ফোর্থ সেমেস্টারের জন্য প্রস্তুতি নিতে। কিন্তু এক জন বিজ্ঞানের ছাত্র কোনও ল্যাবরেটরি ক্লাস না করে কী ভাবে তৈরি হবে পরীক্ষার জন্য! এভাবে আমরা কী করে পড়াশোনা শেষ করব, কী করে ডিগ্রি পাব, কী করে কেরিয়ার গড়ব, বুঝতে পারছি না। এই রাজনৈতিক তোলপাড় আমাদের পিছিয়ে দিচ্ছে অনেক।”

    মৌলানা আজাদ উইমেন্স কলেজের ছাত্রী নাজিয়া জান যেমন বললেন, “আমি আর কোনও আশাই দেখছি না কলেজে এসে পড়াশোনা করার। ৬৬ দিনের অবরোধ ভাবা যায় না! তার পরে কলেজ খুললেও, পঠন-পাঠনের পরিস্থিতি মোটেই নেই। আমি আজ এটা জানতে এসেছিলাম, এ বছর আদৌ পরীক্ষা দিতে পারব কি না। সেটাও অনিশ্চিত এখনও।”

    শ্রীনগরের আর এক সরকারি কলেজ, অমর সিংহের এক অধ্যাপক জানালেন, বুধবার কলেজ খোলার পরে ৫ হাজার ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে ৫০ জনও আসেননি। ফলে পড়াশোনা স্বাভাবিক করাতে চাইলেও, তা কী ভাবে সম্ভব বুঝতে পারছেন না তিনি।

    স্থানীয় মানুষেরা বলছেন, কলেজ খুলেছে ঠিকই। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও সাংঘাতিক ভাবে অবরুদ্ধ। ল্যান্ডফোন ছাড়া আর কিছু কাজ করছে না। যানবাহনের সংখ্যাও সঙ্কুচিত। পড়াশোনা স্বাভাবিক ভাবে চালু হওয়ার জন্য কেবল কলেজ খোলাই যথেষ্ট নয়। এ জন্য জরুরি ভীতিহীন একটি স্বাভাবিক পরিবেশ।

    কবে ফিরবে সেই স্বাভাবিক পরিবেশ? উত্তর নেই কোথাও।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More