মৃত্যুর পাঁচ দশক পরে ফিরে এলেন বৃদ্ধ! গ্রামবাসীদের কৌতূহল চরমে, পুলিশ বলছে ‘বিশ্বাসে মিলায় বস্তু’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মৃত্যুর ৫০ বছর পরে জীবিত অবস্থায় ফিরে এলেন মৃত মানুষ!

আজগুবি গল্পের মতো শোনালেও, আদতে গল্প নয়। এমনটা সত্যিই ঘটেছে কর্নাটকের চিত্রদুর্গ জেলার চাল্লাকেরে এলাকার চিত্রনয়াকানাহালি গ্রামে। ৮০ বছরের বৃদ্ধ সান্না ইরেজ্জা ফিরে এসেছেন নিজের পরিবারে। ৫০ বছর আগে অসুখে ভুগে, যুবক বয়সে মারা গেছিলেন তিনি। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ও কৌতূহলে ফেটে পড়েছেন গ্রামবাসীরা। দিনরাত তাঁর বাড়ির সামনে ভিড় লেগে রয়েছে তিনি ফেরার পর থেকে।

গ্রামবাসীরা বলছেন, ৩০ বছরের ইরেজ্জা মারা গেছিলেন রোগে ভুগে। কী রোগে ভুগেছিলেন, তা আর মনে করতে পারেন না কেউ। তবে সে যাই হোক, গ্রামে প্রতি বছর নিয়ম করে ইরেজ্জার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়েছে এত বছর ধরে। এমনই জানালেন এক গ্রামবাসী শ্রীনিবাস রেড্ডি। তাঁর কথায়, “ওকে চিনতে একটুও ভুল হয়নি আমাদের। ও আমাদের সেই ইরেজ্জাই। কিন্তু ওর মৃত্যু চোখের সামনে দেখেছিলাম আমরা! এখন তো নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছি না!”

ইরেজ্জা অবশ্য জানিয়েছেন, তিনি সব স্মৃতিই হারিয়ে ফেলেছেন। এত দিন ভবঘুরে জীবন কাটিয়েছেন। কিন্তু এই গ্রামের মানুষজনকে দেখে, তাঁর হঠাৎই খুব চেনা চেনা লাগতে শুরু করে। তার পরে গ্রামের মানুষই তাঁকে চিনে নেন।

কিন্তু গ্রামবাসীদের সঙ্গে কী করে দেখা হল ইরেজ্জার?

জানা গেছে, ঘুরতে ঘুরতে সম্প্রতি অন্ধ্রপ্রদেশের একটি ছোট্ট গ্রামে থাকতে শুরু করেছিলেন ইরেজ্জা। দিন কয়েক আগে, চিত্রনয়াকানাহালি গ্রামের কিছু কৃষক গবাদি পশু কেনাবেচার উদ্দেশে অন্ধ্রপ্রদেশের ওই গ্রামে গিয়েছিলেন। তাঁদের সঙ্গেই হঠাৎ দেখা হয়ে যায় ইরেজ্জার। ইরেজ্জা আচমকাই তাঁদের দেখে জানতে চান, তাঁরা চিত্রনয়াকানাহালি গ্রামের বাসিন্দা কি না। গ্রামের কিছু বৃদ্ধ মানুষেরও খোঁজ নেন ইরেজ্জা। তাতেই প্রবল সন্দেহ হয় গ্রামবাসীর।

শুধু তাই নয়, গ্রামবাসীদের দাবি, হঠাৎ করে ইরেজ্জা তাঁর বৌয়ের নামও করেন। সকলে চমকে যান। তার পরেই কারও কারও মনে পড়তে শুরু করে ৫০ বছর আগে ইরেজ্জার মৃত্যুর ঘটনা। এর পরেই তাঁরা ইরেজ্জার ভাই বেভিগান্নাকে ফোন করেন। সব কথা জানান।

সকলের মতামত নিয়ে গ্রামে ফিরিয়ে আনা হয় ইরেজ্জাকে। এত বছর পরে স্বামীকে দেখে চমকে যান ইরেজ্জার স্ত্রী ইরাম্মা। তিনি বলেন, “আমি জানতাম ও ফিরে আসবে।” ইরাম্মার দাবি, ইরেজ্জাকে কবর দেওয়ার পরে তিনি রোজ যেতেন সেখানে। কিন্তু তৃতীয় দিন গিয়ে দেখেন, কবরটি খোঁড়া। সন্দেহ হলেও সকলে ভেবেছিল, শিয়াল বা কোনও বন্য জন্তুর কাজ। ইরেজ্জা যে বেঁচে থাকতে পারেন, এ কথা কেউ আন্দাজ করেননি।

যদিও এই গোটা বিষয়টা জানার পরে মোটেও বিশ্বাস করতে পারছে না পুলিশ। বরং তারা তদন্ত করে সামনে এনেছে অন্য এক তথ্য। পুলিশের দাবি, ইরেজ্জা সম্ভবত মারা যাননি, স্বেচ্ছায় ঘর ছেড়েছিলেন ৫০ বছর আগে। এই বিষয়ে কথা বলার মতো প্রাজ্ঞ ও অভিজ্ঞ গ্রামবাসী যাঁরা ছিলেন, তাঁরা কেউই আজ বেঁচে নেই। ফলে স্ত্রীয়ের কথা খানিক বাধ্য হয়েই বিশ্বাস করতে হচ্ছে। তবে এ কথা জানা গিয়েছে, যে অন্ধ্রপ্রদেশে আরও দু’টি বিয়ে করেছেন ইরেজ্জা। ১২টি সন্তানও রয়েছে তাঁর সেই দুই বিয়ে মিলিয়ে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ইরেজ্জার নামে কোনও নিখোঁজ ডায়েরি নেই পুলিশের খাতায়। নেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগও। এমনকী কবর থেকে মৃতদেহ উধাও হওয়ার কোনও অভিযোগও দায়ের করা হয়নি পুলিশে। ফলে কাগজে-কলমে এ বিষয়ে কিছুই বলার নেই সরকারের তথা প্রশাসনের। সবটাই গ্রামবাসীদের মুখের কথা ও ইরেজ্জার স্ত্রীয়ের বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে দাঁড়িয়ে আছে।

পড়ুন ‘দ্য ওয়াল’ পুজো ম্যাগাজিন ২০১৯–এ প্রকাশিত গল্প

http://www.thewall.in/pujomagazine2019/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ab%e0%a6%b2%e0%a6%a8/

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More