শুক্রবার, জুলাই ১৯

৮ জনের ইস্তফা নিতে নারাজ স্পিকার, কর্ণাটকে এখনই পড়ছে না সরকার

দ্য ওয়াল ব্যুরো : মঙ্গলবার পর্যবেক্ষকরা বলেছিলেন, কর্ণাটকে শেষ অবধি কংগ্রেস-জেডি এস সরকার টিকবে কিনা, তা স্থির করবেন স্পিকার কে আর রমেশ কুমার। গত শনিবার থেকে একে একে শাসক জোটের মোট ১৪ জন বিধায়ক ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছিলেন স্পিকারের অফিসে। তিনি অফিসে ছিলেন না। রমেশ কুমার বলেছিলেন, মঙ্গলবার খতিয়ে দেখবেন, পদত্যাগপত্রগুলি গ্রহণযোগ্য কিনা। তিনি যদি ১৪ জনের ইস্তফা গ্রহণ করতেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সরকার বিধানসভায় সংখ্যালঘু হয়ে পড়ত। কিন্তু এদিন বিকালে জানা গেল, তিনি আটজনের রেজিগনেশন লেটার বাতিল করে দিয়েছেন।

বিধানসভার অধ্যক্ষ আগেই বলেছিলেন, রেজিগনেশন লেটার গ্রহণ করার আগে তিনি দু’টি বিষয় খতিয়ে দেখবেন। প্রথমত, চিঠিটি আসল না নকল। দ্বিতীয়ত, সংশ্লিষ্ট বিধায়ক তা স্বেচ্ছায় দিয়েছেন কিনা। সেই দুই মাপকাঠি অনুযায়ী আট বিধায়কের ইস্তফাপত্র বাতিল হয়ে গিয়েছে। স্পিকার জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা যদি সত্যিই ইস্তফা দিতে চান, তাহলে নিয়ম মেনে নতুন করে রেজিগনেশন লেটার জমা দিতে হবে। তাঁর কথায়, ওই আটজন যদি নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকেন, তাহলে নতুন করে চিঠি দিয়ে সেকথা জানান। যে পাঁচজনের রেজিগনেশন লেটারে তিনি কোনও ভুল পাননি, তাঁরা হলেন প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রামলিঙ্গ রেড্ডি, গোপালাইয়া, আনন্দ সিং, নারায়ণ গৌড়া ও প্রতাপ গৌড়া পাতিল। তবে এখনই যে তিনি তাঁদের ইস্তফা গ্রহণ করেছেন এমন নয়। রেজিগনেশন লেটার নিয়ে স্পিকার তাঁদের সঙ্গে আগামী ১২ ও ১৫ জুলাই আলোচনায় বসবেন।

বিদ্রোহী বিধায়কদের আচরণে অসন্তুষ্ট হয়ে স্পিকার দু’টি চিঠি দিয়েছেন রাজ্যপাল বাজুভাই বালাকে। তাতে লিখেছেন, যে বিধায়করা বিদ্রোহ করেছেন, তাঁদের কেউ তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি। পরে রমেশ কুমার জানান, রাজ্যপাল আমাকে বলেছেন, সাংবিধানিক রীতিনীতি মেনে কাজ করুন।

মঙ্গলবার সকালেই বিধানসভার অধ্যক্ষ বলেন, আমি বরাবর কয়েকটি নিয়ম মেনে চলি। সেই নিয়ম মেনেই সিদ্ধান্ত নেব। পরে তিনি বলেন, বিদ্রোহী বিধায়কদের গোপন আস্তানা ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হবে। আমার সঙ্গে দেখা করে কথা বলতে হবে। চিঠি দিয়েই যদি সব কাজ হয়ে যেত, তাহলে আর আমাকে দরকারই হত না।

বিদ্রোহী বিধায়করা এখন গোপন আস্তানায় আছেন। স্পিকারের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দেওয়ার পরেই তাঁদের চ্যাটার্ড বিমানে মুম্বইয়ে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সফিটেল নামে এক পাঁচ তারা হোটেলে তাঁদের রাখা হয়েছিল। জানতে পেরে যুব কংগ্রেস হোটেলের সামনে বিক্ষোভ দেখায়। তারপর বিধায়কদের কোনও অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

Comments are closed.