বুধবার, জুলাই ১৭

পুলিশকে ফোন, বিদ্রোহী বিধায়কদের হোটেলে ঢুকতে বাধা কংগ্রেসের ট্রাবলশুটারকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কর্ণাটকে শাসক কংগ্রেস-জেডি এস জোটের ১৪ জন বিধায়ক ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু স্পিকার এখনও ইস্তফা গ্রহণ করেননি। এই অবস্থায় সরকার বাঁচাতে শেষ চেষ্টা করছে কংগ্রেস। মুম্বইয়ের যে হোটেলে বিদ্রোহী বিধায়কদের রাখা হয়েছে, বুধবার সেখানে ঢুকতে চেষ্টা করেছিলেন কংগ্রেসের ডি কে শিবকুমার। তিনি কংগ্রেসের ‘ট্রাবলশুটার’ বলে পরিচিত।  এদিন হোটেলে ঢুকতেই দেওয়া হল না তাঁকে।

বিদ্রোহীরা যে পাঁচতারা হোটেলে আছেন, তার নাম হোটেল রেনেসাঁস। তাঁরাই নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশকে চিঠি লিখেছিলেন। হোটেলে ঢোকার মুখেই পুলিশ শিবকুমারের গাড়ি আটকে দেয়। তিনি দাবি করেন, ওই হোটেলে তাঁর নিজের ঘর বুক করা আছে। তাঁকে আটকানো বেআইনি। কিন্তু কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার তাঁকে বলেন, স্যার, তাঁরা আপনাকে ভয় পাচ্ছেন। নিরাপত্তা চেয়ে তাঁরা পুলিশকে চিঠি লিখেছেন। এই অবস্থায় আপনাকে হোটেলে ঢুকতে দিতে পারি না। ‘তাঁরা’ বলতে অফিসার বিদ্রোহী বিধায়কদের বুঝিয়েছেন।

শিবকুমার তখন বলেন, আমি যদি ঢুকতে না পারি, তাহলে সারা দিন হোটেলের বাইরেই অপেক্ষা করব। হোটেলের বাইরে অনেকে তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান। ‘গো ব্যাক’ ধ্বনি দেন।

পুলিশ যখন তাঁকে কিছুতেই ঢুকতে দিচ্ছে না, তখন উপস্থিত সাংবাদিকদের শিবকুমার বলেন, আমাকে হোটেলের ঘরে যেতে দেওয়া হোক। আমার কয়েকজন বন্ধু হোটেলে আছেন। তাঁদের সঙ্গে আমি গল্প করব। কফি খাব।

হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিবকুমার সত্যিই ঘর বুক করেছিলেন। কিন্তু ‘জরুরি কারণে’ বুকিং ক্যানসেল করে দেওয়া হয়েছে।

হোটেলের বাইরে শিবকুমারের সঙ্গে যখন পুলিশের তর্কবিতর্ক চলছে তখন মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। তা সত্ত্বেও তিনি হোটেলের সামনে থেকে নড়েননি। তিনি মহারাষ্ট্রে শাসক বিজেপির সমালোচনা করে বলেন, তারা কর্ণাটকে কংগ্রেস-জেডি এস সরকারকে ফেলে দিতে চায়।

মঙ্গলবার রাতে কর্ণাটকের বিদ্রোহী বিধায়করা পুলিশের কাছে আবেদন জানান, মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামীর হাত থেকে বাঁচান। তাঁরা যে হোটেলে আছেন, কুমারস্বামী ও শিবকুমার হয়তো জোর করে সেখানে ঢুকতে চাইবেন। তাঁদের যেন ঢুকতে না দেওয়া হয়। পুলিশ ওই চিঠি পাওয়ার পরে রেনেসাঁস হোটেলের সামনে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে।

Comments are closed.