সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৩

সরকার বাঁচানো মুশকিল, কর্ণাটকে বৈঠকে কংগ্রেস, জেডি এস

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কর্ণাটকের ২৮ টি আসনে যৌথভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল কংগ্রেস আর জনতা দল সেকুলার। দু’টি দলই একটি করে আসন পেয়েছে। কেন্দ্রে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের বিপুল জয়ের পরে রাজ্যে শাসক কংগ্রেস ও জেডি এস জোটের ভয়, যে কোনও সময় তাদের সরকার ফেলে দিতে পারে বিজেপি। সেজন্য দুই দলের নেতারা জরুরি বৈঠকে বসেছেন। একটি সূত্রের খবর, মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ করা হতে পারে। কিছু রদবদলও করা হতে পারে।

রবিবার মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া বৈঠকে বসেন। দুই নেতা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। কীভাবে সরকার রক্ষা পাবে, তা নিয়েও কথা বলেন। একটি সূত্রে খবর, বিজেপি ভাবছে কুমারস্বামীর দলের সঙ্গে জোট বেঁধে নতুন সরকার গড়বে। সেক্ষেত্রে সরকার থেকে বাদ পড়বে কংগ্রেস। যদিও রাজ্য বিজেপির প্রধান বি এস ইয়েদুরাপ্পা এমন সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, জোট সরকার যদি পড়ে যায়, বিজেপি চাইবে নতুন করে ভোট হোক।

কর্ণাটকে কংগ্রেসের কয়েকজন নেতা ভোটের আগেই দলের সমালোচনা করছিলেন। সুধাকর নামে এক কংগ্রেস নেতা প্রকাশ্যেই কর্ণাটকের জোট সরকারকে ‘দুই দলের অশুভ আঁতাত’ বলে বর্ণনা করেন। বিক্ষুব্ধরা যাতে দল ছেড়ে না যান, সেজন্য তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন সিদ্দারামাইয়া। কিন্তু মন্ত্রী সতীশ জারকোহলির ভাই রমেশ জারকোহলি দলবদল করার জন্য তৈরি হয়ে গিয়েছেন বলে জানা যায়।

২২৪ আসনবিশিষ্ট কর্ণাটক বিধানসভায় কংগ্রেস ও জেডি এসের মোট বিধায়ক সংখ্যা ১১৭। বিজেপির বিধায়কের সংখ্যা ১০৫। রাজ্যে গরিষ্ঠতা পেতে গেলে চাই ১১৩ টি আসন। দুই নির্দল বিধায়ক ইতিমধ্যে বিজেপিকে সমর্থন করেছেন বলে জানা যায়। বিজেপি যদি শাসক জোট থেকে আরও কয়েকজনকে ভাঙিয়ে আনতে পারে, তাহলে সরকার গরিষ্ঠতা হারাবে।

এবারের ভোটে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়ার পরিবারের প্রার্থীদের ফল হয়েছে খুব খারাপ। দেবগৌড়া নিজে ভোটে হেরেছেন। তাঁর নাতি নিখিল বিজেপি সমর্থিত নির্দল সুমালতা অম্বরীশের কাছে হেরে গিয়েছেন। তিনি কর্ণাটকের কংগ্রেস নেতা তথা সুপারস্টার অম্বরীশের স্ত্রী। অম্বরীশ গত বছর মারা গিয়েছেন।

ইতিমধ্যে রাজ্যে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছে কুমারস্বামী সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর ছেলে নিখিল কুমারস্বামীর বিরুদ্ধে কাগজে নিবন্ধ লিখেছিলেন সাংবাদিক বিশ্বেশ্বর ভাট। তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিজেপি।

Comments are closed.