‘রগরগে’ ছবিতে কাজ করেছি বাধ্য হয়ে, জীবনের কঠিন সত্য সামনে আনলেন কঙ্গনা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য‌ ওয়াল ব্যুরো: কেরিয়ারের শুরুতে অনেক কঠিন লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। এমন অনেক ছবি করতে হয়েছে যা করতে মন সায় দেয়নি। তবু করেছেন অর্থের জন্য। কারণ, তখন অনেক অর্থের দরকার ছিল। বোনের চিকিৎসাই ছিল তাঁর ধ্যানজ্ঞান। এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই বলেছেন অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত।

‘কুইন’ অথবা ‘তন্নু ওয়েডস মনু’-র মতো ছবি রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। শীঘ্রই তাঁর অভিনীত ছবি ‘পাঙ্গা’মুক্তি পেতে চলেছে। ওই ছবিতে এক মহিলা কাবাডি খেলোয়াড়ের ভূমিকায় দেখা যাবে তাঁকে। কিন্তু কেরিয়ারের একেবারে শুরুর দিকে তাঁকে এমন কিছু ছবি করতে হয়েছে যেগুলিকে কঙ্গনা সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকারে ‘ট্যাকি’ বা রগরগে বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু মন না চাইলেও এমন সব ছবিতে কাজ করেছেন তিনি? উত্তরে কঙ্গনা জানিয়েছেন, বোন রঙ্গোলির চিকিৎসার জন্যই ওই ছবিগুলি তাঁকে করতে হয়েছিল।

তাঁর বোনের কথা কারও আজনা নয়। দুই বোন কঙ্গনা রানাউত ও রঙ্গোলি চান্দেল। সব সময়ে একে অপরের পাশে থাকেন। এই নিবিড় সম্পর্ক সেই ছেলেবেলা থেকে। এটা হয়তো অনেকেরই জানা নেই যে, কঙ্গনার বোন রঙ্গোলি অত্যন্ত অল্প বয়সে অ্যাসিড আক্রান্ত হয়েছিলেন। আর তার পর থেকেই বোনের চিকিৎসা ধ্যানজ্ঞান হয়ে যায় অভিনেত্রী দিদি কঙ্গনার।

রঙ্গোলিকে যাতে সব থেকে ভালো চিকিৎসা দেওয়া যায়, তার জন্য কঙ্গনা অনেক কষ্ট করেছেনষ আর সেই কষ্টের কথাই সম্প্রতি জানিয়েছেন মুম্বই মিরর-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ।

কঙ্গনা বলেছেন, “মাত্র ১৯ বছর বয়সে সবে কেরিয়ার শুরু করতে চলেছি, তখনই অ্যাসিড আক্রমণে ঘটনা। শুরু হয় এক কঠিন সংগ্রাম। তখন আমার অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল ছিল না। সেই সময়ে আমার চারপাশে থাকা সমবয়সী মেয়েরা, খারাপ খাবার নিয়ে কিংবা চুল ঘেঁটে গেলে ডিপ্রেসড থাকত। আর আমি তখন একটা সত্যিকারের লড়াইয়ে নেমেছি। এক কোণায় বসে চোখের জল ফেলার সময়ও ছিল না। ওই সময়ে আমাকে রগরগে ছবি করতে হয়েছে, এমন চরিত্রে কাজ করতে হয়েছে যে চরিত্রগুলো ডিজার্ভ করে না। এমনকী গেস্ট অ্যাপিয়ারেন্সের কাজও নিতে হয়েছে। সবই করেছি যাতে বোনের জন্য দেশের সেরা সার্জনদের কাছে যেতে পারি। মোট ৫৪টা সার্জারি হয়েছিল রঙ্গোলির।”

রঙ্গোলির এই ব্যয়বহুল চিকিৎসার জন্যে লড়াইয়ের পথটা সহজ ছিল না। তার জন্য অনেক এমন পথেও চলতে হয়েছে যা সুখকর ছিল না বলেও ওই সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন কঙ্গনা। বলেছেন, খারাপ সঙ্গও মেনে নিতে হয়েছে অনেক সময়ে।

তিনি বলেন, “ওই সময়টা আমি একা থাকায় কিছু মানুষ তার সুযোগ নিয়েছে। সে সব কথা তো বাবা-মাকেও আমি বলতে পারিনি। কিন্তু এই অভিজ্ঞতাগুলো আমাকে মানুষ হিসেবে পোক্ত করেছে। কিন্তু আমার সঙ্গে যা যা ঘটেছে, আমি কখনোই চাইব না আমার ছেলেমেয়েকে এমন চূড়ান্ত প্রতিকূল অবস্থায় পড়তে হোক। ওদের জন্য আমি থাকব সব সময়ে।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More