সোমবার, আগস্ট ২০

বাংলাদেশের মাঠে বসেই কাঞ্চনজঙ্ঘা, গল্প নয় সত্যি!

আজিজুর রহমান

কিন্তু তার জন্য আপনাকে আসতে হবে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। পঞ্চগড় শহর থেকে  বাংলাদেশের উত্তরে শেষ সীমান্ত বাংলাবান্ধা আসতে সময় লাগে মাত্র ৪০ মিনিট। এখান থেকে শিলিগুড়ি আট কিলোমিটার, নেপাল ৬১ কিলোমিটার  ও ভুটান  ৬৪ কিলোমিটার। তেঁতুলিয়ার পুরানো ডাকবাংলোর পাশ দিয়ে চলে আসুন সীমান্ত নদী (নদীর ওপারেই  ভারত) উচ্ছল মহানন্দার তীরে। বছরের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত মেঘমুক্ত আকাশ থাকলে চমৎকার দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা-সহ তুষারমৌলি হিমালয়ের অনান্য বিখ্যাত শৃঙ্গরাজি। মাঠে বসে বাদাম খেতে বসে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখুন। দার্জিলিং থেকে দেখা সেই কাঞ্চনজঙ্ঘা বাংলাদেশে বসেই। দার্জিলিঙের  হাড়কাঁপানো ঠান্ডা নেই। প্রাণ ভরে হিমালয়ের রূপ উপভোগ করুন। আশ মিটলে পায়ে পায়ে বা স্কুটার ভাড়া করে  ঘুরে দেখুন বাংলাবান্ধা বর্ডার, স্থলবন্দর, জ়িরো পয়েন্ট ও অনান্য দ্রষ্টব্য স্থান।

বাংলাদেশের একেবারে উত্তরে পঞ্চগড় জেলা এমনিতেই রূপের খনি। পুন্ড্র, গুপ্ত, সেন ও সুলতানী যুগের বহু নিদর্শন ছড়িয়ে আছে গোটা পঞ্চগড় জেলা জুড়ে। দুয়েক দিন সময় নিয়ে আসুন। পঞ্চগড়ের বিখ্যাত সমতলের চা বাগান দেখুন। পঞ্চগড়ের চায়ের স্বাদ কিন্তু দার্জিলিংয়ের চেয়ে কোনও অংশে কম নয়। দেখুন সতীর একান্ন পিঠের এক পিঠ জাগ্রত মা বদেশ্বরী  মন্দির, আউলিয়ার মাজার, বাংলাদেশের একমাত্র রক মিউজ়িয়াম, কুচবিহারের মহারাজার তৈরি ভিক্টোরিয়ান স্থাপত্যের পুরনো ডাকবাংলো, পিকনিক কর্নার, চিলড্রেন পার্ক। মির্জাপুরে শাহী মসজিদ। ১৫০০ বছর পুরনো মহারাজ দীঘি। দ্রষ্টব্য স্থানের শেষ নেই। এ ছাড়া দেখতে ভুলবেননা পঞ্চগড়ের বাঁশ। পঞ্চগড়ের মতো মোটা বাঁশ সারা পৃথিবীতে পাবেন না।

সব শেষে দেখুন মহানন্দায় নয়নাভিরাম সূর্যাস্ত। দেখুন সীমান্তের ও-পারে ধীরে ধীরে কিভাবে জেগে উঠছে আলোকময় শিলিগুড়ি শহর। শিলিগুড়ি এখান থেকে মাত্র আট কিলোমিটার। দার্জিলিং মাত্র ৫৮ কিলোমিটার। আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে  তারায় ভরা আকাশের মতো রাতের  দার্জিলিংয়ের বাড়ি ঘরের  আলো নজরে আসবে। তেঁতুলিয়াতে থাকার জায়গা কিন্তু বিশেষ নেই। থাকতে পারেন  মহানন্দা নদী তীরে ত্রিপুরার মহারাজার স্মৃতিবিজড়িত ডাকবাংলোয়।  ডাকবাংলোয় থাকতে গেলে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হবে। ডাবল বেডরুমের ভাড়া ৪০০ টাকার মতো। বন বিভাগের রেস্টহাউসে থাকার জন্য বনবিভাগের জেলা সদর দফতর বা তেঁতুলিয়ায় বন বিভাগ থেকে থাকার অনুমতি পাবেন। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরেও জেলা পরিষদের ডাকবাংলো আছে, এ ক্ষেত্রে অনুমতি নিতে হবে কিন্তু পঞ্চগড় থেকে। জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয়  রুমপিছু  ভাড়া ২০০ টাকা। তবে ভাল হটেলে থাকতে গেলে তেঁতুলিয়া থেকে পঞ্চগড় শহরে চলে আসুন।


পঞ্চগড়ে থাকার  অজস্র হোটেল আছে।  নন এসি ডাবল রুম  ৪০০-৮০০ টাকা এবং এসি ডাবল রুম ৯০০-১০০০ এর মধ্যে পেয়ে যাবেন।

এ বার বলি কী ভাবে বাংলাবান্ধা বা  তেঁতুলিয়া আসবেন।  ঢাকা থেকে সরাসরি  বাংলাবান্ধা এবং বাংলাবান্ধা থেকে সরাসরি ঢাকা পর্যন্ত হানিফ, শ্যামলী বা নাবিল পরিবহনের এসি/ননএসি বাস চলে রোজ। এ ছাড়াও ঢাকা থেকে বিমানে সৈয়দপুর আসুন । সেখান থেকে  বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট গাড়িতে করে আসুন বাংলাবান্ধা। যদি পঞ্চগড় আগে আসতে চান, তা হলে আপনি হানিফ কিংবা নাবিল পরিবহনের বাস পাবেন ঢাকা থেকে।  ভাড়া  ৪০০-৫০০ টাকার মধ্যে। যদি এসি বাসে যেতে চান, তা হলে আগমনী, গ্রিন লাইন, টি-আর ট্র্যাভেলস বাসগুলোর একটায় উঠে পড়ুন। ভাড়া  ৭৫০-৮০০ টাকার মধ্যে। তবে এই বাসগুলো সরাসরি পঞ্চগড় যায়না, যায় রংপুর পর্যন্ত। রংপুর থেকে পঞ্চগড় আপনাকে অন্য গাড়িতে যেতে হবে। খরচ বেশি নয়। রংপুর পঞ্চগড়ের মধ্যে যানবাহন অঢেল। পঞ্চগড় উপজেলার সদর  থেকে তেঁতুলিয়ার  বাস চলাচল করে সারা দিন, ভাড়া পড়বে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। সময় নেবে চল্লিশ মিনিট।

পঞ্চগড় থেকে গাড়ি রিজ়ার্ভ করে সারা দিন তেঁতুলিয়া-সহ বিভিন্ন ট্যুরিস্ট স্পট ঘুরতে পারেন। খরচা  পড়বে ২০০০-২৫০০ টাকা মতো। যদি মাইক্রো বাস নেন, তা হলে  খরচ হবে ২৫০০-৩৫০০ টাকা। পঞ্চগড় শহরের চৌরঙ্গী মোড় ও  শহরের  কেন্দ্রীয় বাস স্টেশনে  এই গাড়িগুলো পেয়ে যাবেন। যাক তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্যে মোহিত হয়ে পঞ্চগড়ের ছানা ও গুড় দিয়ে তৈরি  মিষ্টি খেতে ভুলবেন না যেন।

Shares

Leave A Reply