‘জীবনের কন্টেন্টটা যেন আর দরকারি নয়, ব্র্যান্ডটাই গুরুত্বপূর্ণ!’ এক্সক্লুসিভ আলোচনায় কমলেশ্বর

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

    তিনি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে উত্তীর্ণ ব্রিলিয়ান্ট এক স্কলার ডাক্তার। কিন্তু ডাক্তারির পাশাপাশি কাজ করেছেন বিজ্ঞাপন সংস্থায়, বানিয়ে চলেছেন ছবি, নিজে অভিনয়ও করছেন, আবার প্রয়োজনে করোনা এবং উমফানে বিপর্যস্ত মানুষদের পাশে গিয়ে চিকিৎসা পরিষেবার হাতও বাড়িয়ে দিচ্ছেন। তিনি একাধারে পরিচালক, অভিনেতা, নাট্যকার ও গবেষক ডঃ কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়। দিন কয়েক আগেই দ্য ওয়ালের সঙ্গে এক্সক্লুসিভ আড্ডায় যোগ দিয়েছিলেন তিনি। জানিয়েছেন, নানা অজানা গল্প।

    প্রথমেই তাঁর নাম দিয়ে শুরু করা যাক। তিনি যখন প্রথম ইন্ডাস্ট্রিতে আসেন তখন সবার কাছেই তাঁর নামটা ছিল বেশ অপ্রচলিত। কমলেশ্বর নামের ইতিহাস কি?

    পরিচালক জানালেন, এই নামের শেষে ঈশ্বর রাখা, এটা তাঁদের পারিবারিক নামকরণের ট্র্যাডিশন। কমলেশ্বর নাম দিয়েছিলেন তাঁর জ্যাঠামশাই। তাঁর বাবার নাম সমরেশ্বর, জেঠুর নাম সত্যেশ্বর। অন্য এক জেঠুর নাম শৈলেশ্বর। বাবা, মা আর জ্যাঠাই ছোটবেলায় থাকতাম। ছোটবেলায় পড়াশোনা, খেলাধুলো সবকিছু সেই জেঠুর কাছেই। নামটা আনকমন হলেও, বহু আগে এই কমলেশ্বর নামেই বম্বেতে একজন বিখ্যাত চিত্রনাট্যকার ছিলেন। সে যাইহোক, পারিবারিক ধারা থেকেই নামকরণ হয় কমলেশ্বরের।

    কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে প্রতিবাদী ও শানিত লেখা দেখলেই বোঝা যায়, প্রতিটি বক্তব্যে সততা ও যুক্তিবাদ প্রবল। ইন্ডাস্ট্রির অনেকের চেয়েই অন্যরকম তিনি, অনেকটা যেন মাটির কাছাকাছি। নিজেকে প্রদর্শন করা নয়, বরং প্রচারবিমুখতাই তাঁর ধরন। সবসময় নম্র থাকা যেন তাঁর বিশেষ গুণ, যা স্বীকার করে প্রায় গোটা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিই।।

    তিনি কি ছোট থেকেই শান্ত?

    কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় জানালেন তাঁর ছেলেবেলা নিয়ে। বললেন, “হ্যাঁ, ছোটবেলায় শান্তই ছিলাম। সেন্ট লরেন্স স্কুলে ক্লাস টুয়েলভ অবধি পড়েছি। তার পরে ডাক্তারি। আসলে আমাদের ওই ছেলেবেলার সময়টায় নম্রতার অনুশীলন চলত। তখনকার সিনেমা ‘ইন্দ্রাণী’র গান উত্তম-সুচিত্রার লিপে ‘নীড় ছোট ক্ষতি নেই, আকাশ তো বড়।’ এই পঙক্তিটাই আমাদের জীবনের সারসত্য ছিল। অল্পেতে খুশি থাকা।

    আমার মনে হয় এটা বদলে গেল নব্বই দশকে এসে। সবার কাছে যেন ব্র্যান্ডটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল। জীবনের কন্টেন্টটা যেন আর দরকারি নয়। সব জায়গায় মানুষ নিজে যা নয়, সেই কাল্পনিক আর্টিফিসিয়াল স্টেটাস প্রদর্শন করছে। আমার যেমন মনে পড়ছে মৃণাল সেনের ‘আকাশ কুসুম’ ছবিতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের চরিত্রটার কথা। যে অলীক জগতে বিচরণ করছে মিথ্যের আশ্রয় নিয়ে। প্রদর্শনসর্বস্ব যুগ। মুখোশটাই সত্য, মানুষটা আর সত্য নয়।

    Filmmaker Kamaleswar Mukherjee goes back to treating patients in ...

    তবে আজকাল আবার বহু মানুষ সোচ্চার প্রতিবাদী হয়ে উঠছেন, যেটা আমরা ষাট-সত্তরের দশকে দেখেছি। নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা কিন্তু অনেক বেশি ফোকাসড।”

    তবে একথাও সত্য, আজকের বহু শিশু কম্পিউটার গেম, মোবাইল গেমে মগ্ন। শিশুরা বাড়ির বাইরে গিয়ে মাঠে আর খেলে না। বাড়িতেই বন্দি। খেলা তো একটা মানসিক বিকাশের মাধ্যম। কমলেশ্বর নিজে যেহেতু একজন ডাক্তার, সেইসঙ্গে ভারসাম্যে পরিপূর্ণ ও সফল একজন মানুষ, তিনি কী ভাবছেন এই বিষয়টা নিয়ে?

    “আমার স্কুল সেন্ট লরেন্সের বড় আকর্ষণ হল খেলার মাঠ, ভলিবল গ্রাউন্ড, বাস্কেট বল গ্রাউন্ড। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের বাচ্চাদের সব উচ্চকাঙ্ক্ষা এখন ভার্চুয়াল মাধ্যমে সীমাবদ্ধ। আর কেউ কারও বাড়িতে আসে না তো। সোশ্যাল মিডিয়ার ভাল দিক হল, খুব তাড়াতাড়ি যোগাযোগ, আড্ডা বাড়ানো যায় আজকাল ফেসবুকে টুইটারে। কিন্তু লেখা কিংবা অডিওর মাধ্যমে আড্ডা একে অন্যের স্পর্শ অভিব্যক্তি কিছুই উপলব্ধি করতে পারে না। আমাদের স্কুলে ফাদাররা এক ঘন্টার লাঞ্চ ব্রেক দিতেন, ওই সময়টায় ফুটবল খেলা হত। স্কুল দশটায় শুরু ছিল, কিন্তু আমার সকাল ন’টা থেকে গিয়েও একদফা খেলতুম। আবার স্কুল ছুটির পরে একটু খেলে নিতুম। আমাদের নামে ফাদারদের কাছে কমপ্লেন যেত এই এত খেলা নিয়ে।

    ফাদাররা বলতেন, ‘ভবিষ্যতে যখন এরা কাজ করতে বেরবে তখন রোদের মধ্যেই বেরোতে হবে। তাই এখন থেকে রোদে-জলে খেলাটা খুব জরুরি। শরীর অভ্যস্ত হয়ে যাবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে খেলাধূলা করলে।’

    আর এখন শুধু বাচ্চারা কেন, আমরা বড়রাও নানা রকম বদঅভ্যাস করে ফেলেছি। সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা না করে সবসময় লিফট ব্যবহার, রাস্তায় না হেঁটে গাড়িতে যাতায়াত– আমরা আমাদের লাক্সারির ব্যবস্থা করে নিয়েছি, কিন্তু এতে আমাদের ক্ষতিই হচ্ছে। আমরা রোগের প্রকোপে পড়লে তখন হাঁটছি, জিম করছি, বাড়িতে ব্যায়াম করছি। কিন্তু যদি আমরা রোজকার জীবনে হাঁটাচলা ও খেলাধুলো রাখতে পারি, তাহলে এইসব রোগ অনেক এড়ানো যাবে। আমাদের ছোটবেলায় এই সহজ সরল প্রদর্শনহীন জীবন অভ্যাস ছিল বলেই আজও আমরা লড়ে যেতে পারছি। মাল্টিস্টোরিডে না ভরিয়ে বাচ্চাদের খেলার মাঠ বিকশিত হবার ক্ষেত্র রাখতে হবে।

    এই সোশ্যাল মিডিয়ার ফলে মানুষের পার্সোনাল টাচ কমছে, মানসিক অবসাদ বাড়ছে। শুধু নিজেদের পিআর সাইটে কাজের চেয়ে বেশি অকাজের আলোচনা করছি। কিন্তু মানুষের সঙ্গে প্রকৃত অর্থে মিশছি না। বড় হওয়ার পথটা টেকনোলজিকাল হয়ে গেছে। সেই বিকেল চারটেয় আর খেলার মাঠ ডাকছে না। সেই সমাজ, ছেলেবেলা আর নেই আজকাল।”– একটানা বলে চলেন কমলেশ্বর।

    Kamaleswar to direct Padmanabha in a play | Bengali Movie News ...

    অথচ কমলেশ্বর নিজে পড়াশোনা যেমন করেছেন, খেলাধুলোও করেছেন চুটিয়ে। পাশাপাশি থিয়েটারও করেছেন। নিজেদের বন্ধুদের নাটকের দল আছে তাঁদের। যে বন্ধুত্ব ৪২ বছর পেরিয়েও অটুট, যাঁরা একসঙ্গে নাটকের শো আজও করেন। তাঁদের নাট্যদল ‘শৈলুষিক’। এই দল আজও পারফর্ম করে কমলেশ্বরের নির্দেশনায়। থিয়েটার প্রীতি থেকেই কমলেশ্বর চলে আসেন চিত্রনাট্য লেখার কাজে। ফিল্ম জগতে আসার আগে ছিল বিজ্ঞাপন সংস্থায় কাজের অভিজ্ঞতা। ডাক্তারি করার পাশাপাশি নিজের ভাল লাগাটাও বজায় রাখতে ক’জন পারেন!

    ২০১০ সালে রিলিজ পাওয়া অমিত সেনের ছবি ‘নটবর নটআউট’-এর ছকভাঙা চিত্রনাট্য ছিল কমলেশ্বরের লেখা। এর পরে নিজেই চলে এলেন ছবি পরিচালনায়। কমলেশ্বরের ছবি ‘মেঘে ঢাকা তারা’ অনেকেরই পছন্দের তালিকায় প্রথম দিকে রয়েছে। তিনি যেমন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে ডিরেক্ট করেছেন, তেমনই দেবকেও শংকর রূপ দিয়েছেন চাঁদের পাহাড়ে।

    কমলেশ্বর আর কাদের সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক?

    পরিচালক বললেন, “যাঁদের সঙ্গে করেছি তাঁরা তো দারুণ সব হিরো-হিরোইন। আর যাঁদের সঙ্গে কাজ করে উঠতে পারিনি তাঁদের মধ্যে অবশ্যই সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন। পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ককপিট’-এ ছোট রোলে করছিলেন, ওঁকে বড় ও ভাল চরিত্র দিতে চাই, অনির্বাণ ভট্টাচার্য একটা ছোট রোল করেছিলেন ‘ক্ষত’তে, ওঁকে বড় হিরো চরিত্রয় নিতে পারলে ভাল লাগবে আমার।

    আর এক জন আছেন, কৌশিক গাঙ্গুলি। যাঁর পরিচালনায় ‘খাদ’ ছবিতে আমি অভিনয় করেছি এবার কৌশিকদাকে আমার ছবিতে অভিনয় করাতে চাই। এবং অবশ্যই রিনাদি। আমি অপর্ণা সেনের ভক্ত ছোট থেকে। রিনাদির সঙ্গে কাজ করেছি, রিনাদির ছবিতে কাজ করেছি কিন্তু আমার পরিচালনায় রিনাদিকে অভিনয় করাতে চাই। বলিউডে ইরফান খান চলে গেছেন, ওম পুরি চলে গেছেন। আমি নাসিরুদ্দিন শাহ আর পঙ্কজ কাপুরের সঙ্গে কাজ করতে চাই।”

    Kamaleshwar Mukherjee Movies: Latest and Upcoming Films of ...

    সম্প্রতি লাইট-সাউন্ড-অ্যাকশনের বাইরে বেরিয়ে এসে তিনি সময়ের দাবিতেই হাতে তুলে নিয়েছেন স্টেথোস্কোপ। প্রায় ১৪ বছর পরে আবারও ডাক্তারিতে ফিরেছেন পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়। এই ‘ফিরে আসা’র পেছনে রয়েছে উমফান-বিধ্বস্ত বাংলা ও সাধারণ মানুষ।

    Acclaimed director chooses stethoscope over celluloid, returns to ...

    রোগগ্রস্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। তাই সুন্দরবন ও সংলগ্ন অন্যান্য অঞ্চলে বিনামূল্যে যে স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করেছিল ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরাম, রাসবিহারী শৈলুষিক, শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগ-সহ একাধিক সংগঠন, সেই সমবেত উদ্যোগেই সামিল হয়েছিলেন তিনিও। দক্ষিণবঙ্গের উমফান-বিধ্বস্ত গ্রামে গিয়ে সেখানকার অসহায় মানুষগুলোর স্বাস্থ্যপরীক্ষায় অংশ নেন তিনিও।

    কমলেশ্বরবাবু একজন ডাক্তার। তাই স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর কাছে প্রশ্ন করা হয় এই সময়ে মাস্ক আর স্যানিটাইজারের ব্যবহার নিয়ে।

    কমলেশ্বর বললেন “মাস্ক বেশি পরলে কার্বন ডাই অক্সাইড বেড়ে যায় ও অক্সিজেন কমে যায়। যাঁদের বিপি হাই তাঁদের এতে খুবই প্রবলেম। তবু এখন মাস্ক পরে বেরোন। জনসমাগম হয় এমন স্থান এড়িয়ে চলুন। আর স্যানিটাইজারের ব্যবহার কম করলেই ভাল। স্যানিটাইজার হাতে দিতে দিতে হাতের চামড়ার রং পাল্টে যাচ্ছে। আমার মনে হয় সাধারণ সাবান দিয়ে হাত কচলে কচলে ভাল করে ধুলে সেটা স্যানিটাইজ করার মতোই কাজ করে। চরণামৃতর মতো স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন, কিন্তু বাড়িতে সাবান-জল যথাযথ।”

    নবীন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা শর্ট ফিল্ম বানাতে খুব আগ্রহী। অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রীও আজকাল এই লকডাউনে বানাচ্ছেন শর্ট ফিল্ম। সেই নতুনদের ও ছোটদের জন্য কমলেশ্বরের টিপস কী কী?

    “কাজে সততা আর নিজের কাজের উপর বিশ্বাসই শেষ কথা।”– বললেন কমলেশ্বর। আর বললেন, “আমরা অনেক সময়ে ফাঁকিবাজি করে ছবি বানাই, ভাবি দর্শক বুঝবে না। দর্শক কিন্তু ভালই বোঝে কোনটা ফাঁকিবাজি দিয়ে বানানো। তাই দর্শককে ঠকালে নিজেও ঠকবে। আর কে কী বানিয়েছে আগে সেসব ভেবে না বানানো নিজের যেমন বানাতে ইচ্ছে করছে ছবি সেভাবেই বানাও। তাতে নিজের সিগনেচার মার্ক থাকবে। সত্যজিৎ রায় কিংবা শ্যাম বেনেগালের ছবির ইনফ্লুয়েন্স থাকতে পারে কিন্তু আমি যেন আমারটা করি, কাউকে কপি বা ফলো না করি। আর মানুষ তো লেজেন্ডদের কাজগুলো দেখেছেন, তাঁরা কেন একই কাজ আমার কাছে দেখতে চাইবেন? এইসব কথা আমি ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েই বলছি।”

    অভিনেতা কমলেশ্বর, পরিচালক  কমলেশ্বর, ডাক্তার কমলেশ্বর– এই তিন জনের মধ্যে কোনজনকে বেশি পছন্দ করেন মানুষ কমলেশ্বর ?

    কমলেশ্বরের উত্তর, “কোনওটাই ঠিক ভাবে বা যথাযথ ভাবে করা হয়নি। ঐ বুড়ি ছোঁয়া কাজ করেছি। তবে অবশ্যই ভাল লাগে পরিচালনার কাজ। কারণ মাতব্বরি করার সুযোগ এটাতেই পাওয়া যায়। নিজের ইচ্ছানুযায়ী কাজ করতে পারি, কারও অধীনে নয়। সৃজনশীল কাজ সবসময় ভাল লাগার।

    দেখুন কমলেশ্বরের লাইভ আড্ডা।

    The Wall Adda-aha with Dr Kamaleswar Mukherjee & Roopsha

    চিত্রপরিচালনার জগতে তিনি উজ্জ্বল নাম। এই কাজের বাইরেও তাঁর যুক্তিবাদী ও মানবদরদী মননের কথা অনেকেই জানেন। পাশাপাশি একজন দক্ষ চিকিৎসক হিসেবেও তিনি সফল। তিনি কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়।তাঁর সঙ্গে আলোচনায় রয়েছেন Roopsha Dasguupta – Ray।

    The Wall এতে পোস্ট করেছেন বৃহস্পতিবার, 2 জুলাই, 2020

    লকডাউনের পর থেকেই দ্য ওয়াল তার ফেসবুক পেজে আয়োজন করেছে একটি বিশেষ বিভাগের, ‘দ্য ওয়াল আড্ডা’। চিকিৎসক থেকে অভিনেতা, গায়ক থেকে অর্থনীতিবিদ– বিভিন্ন জগতের বিভিন্ন মানুষ প্রতিদিন লাইভ ভিডিওয় শেয়ার করছেন তাঁদের নানা অভিজ্ঞতা, গল্প, গান। রূপসা দাশগুপ্ত রে-র পরিচালনায় সপ্তাহে তিন দিন সন্ধেয় ঘণ্টা খানেকের জন্য জমে ওঠে দ্য ওয়াল ফেসবুক পেজ। সেখানে অভিনেতা ও পরিচালক টিনু আনন্দের মতোই উপস্থিত হয়েছেন গায়ক রূপঙ্কর বাগচি, সঙ্গীত পরিচালক শান্তনু মৈত্র, অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ, পরিচালক অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরী, চিকিৎসক পরাগবরণ পাল, অর্থনীতিবিদ হায়দর খান, অভিনেতা-পরিচালক টিনু আনন্দের মতো ব্যক্তিত্বরা।

    কোনও দিন যেমন গানের আসর বসিয়েছেন কোনও গায়ক, কোনও দিন তেমনই সুস্থতা ও সাবধানতা নিয়ে আলোচনা করেছেন কোনও চিকিৎসক। কোভিড পরবর্তী অর্থনীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রশ্নের উত্তর ও নানা মতামত নিয়ে হাজির হয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরাও। মান্না দের জন্মদিনে যেমন দ্য ওয়ালের ফেসবুক পেজে এসে তাঁর স্মৃতির উদ্দেশে লাইভ অনুষ্ঠান করেছেন মান্না দের ভাইপো সুদেব দে। তেমনই কিশোরকণ্ঠী গৌতম ঘোষ বহুদিন পরে আত্মপ্রকাশ করেছেন দ্য ওয়ালের লাইভ আড্ডায়। গান গেয়েছেন রূপঙ্কর বাগচি, আড্ডা দিয়েছেন শান্তনু মৈত্র। আবার মনোবিদ শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী ভরসা দিয়েছেন মানুষকে। অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ভাগ করে নিয়েছেন তাঁর অভিজ্ঞতা। ড্রামস বাজিয়েছেন শিবমণি।

    সম্প্রতি তেমনই এসেছিলেন কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়। তাঁর অনবদ্য গল্পে-কথায় মুগ্ধ দর্শক-পাঠকরা।

    এই লাইভ আড্ডাগুলি সবই পাবেন দ্য ওয়ালের ফেসবুক পেজে। 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More