রবিবার, মার্চ ২৪

এখন আর গণভোটের প্রয়োজন নেই, সুর বদলে মন্তব্য কমল হাসানের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : পুলওয়ামায় জঙ্গি হানার পরে অভিনেতা তথা রাজনীতিক কমল হাসান মন্তব্য করেছিলেন, সরকার কাশ্মীরে গণভোট করাচ্ছে না কেন? এর পরে দেশ জুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। চাপের মুখে অভিনেতা সোমবার মন্তব্য করেন, কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এখন আর সেখানে গণভোট প্রাসঙ্গিক নয়।

গত বছরেই মক্কাল নিধি মাইয়াম নামে এক রাজনৈতিক দলের জন্ম দেন কমল। ৬৪ বছর বয়স্ক অভিনেতা সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, তাঁর দল তামিলনাড়ুতে ৪০ টি লোকসভা আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

রবিবার সেই দলের সমর্থক ছাত্রদের সমাবেশে কমল ভাষণে বলেন, মানুষ প্রশ্ন করছে, কাশ্মীরে গণভোট করা হচ্ছে না কেন? তারা কাকে ভয় পাচ্ছে ? তারাও কি দেশকে বিভক্ত করছে না? একইসঙ্গে তিনি পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরকে বলেন ‘আজাদ কাশ্মীর’।

তাঁর কথায়, আমি আগে একটা পত্রিকা বার করতাম। তার নাম ছিল ‘মাইয়াম’। আমি সেই পত্রিকায় লিখেছিলাম, কাশ্মীরে গণভোট করাও। মানুষ কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা করুক। কাশ্মীর নিয়ে গণভোট করা হচ্ছে না কেন? কীসের এত ভয়? আসলে তারা দেশকে বিভক্ত করতে চায়। তোমরা আবার গণভোট করাতে বল। দেখবে, তারা করাচ্ছে না।

এরপরই তিনি তথাকথিত আজাদ কাশ্মীরের কথা বলেন। তাঁর কথায়, আজাদ কাশ্মীরে ট্রেনে জেহাদিদের ছবি আটকে দেওয়া হয়। তাদের বীর হিসাবে তুলে ধরা হয়। আমরা যদি প্রমাণ করতে চাই ভারত উন্নত দেশ, আমাদের তেমন আচরণ করা উচিত নয়। এখান থেকেই আমাদের রাজনীতি শুরু হওয়া উচিত। এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্ম হওয়া উচিত।

অন্য একটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের রাজিনীতিকরা যদি ‘ভালো আচরণ’ করেন, তাহলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখাও শান্ত থাকবে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, সৈনিকরা মরছে কেন? ভারত ও পাকিস্তান, দু’পক্ষই যদি যথাযথ আচরণ করে তাহলে সৈনিকরা আর মরবে না।

সোমবার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগে তিনি যে পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন, তাতে গণভোটের কথা লিখেছিলেন। কয়েক দশক আগে ওই পত্রিকা বেরত। এখন আর গণভোটের প্রাসঙ্গিকতা নেই।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় জঙ্গি হানায় ৪০ জনের বেশি সিআরপিএফ জওয়ান শহিদ হন। আহত হন অনেকে। তার পরে দেশ জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। এমন সময়ে কমলের মন্তব্যে অবাক হয়েছিলেন অনেকে।

Shares

Comments are closed.