আমাকে হেনস্থা করার জন্যই তিহড়ে পাঠাতে চায় সিবিআই, সুপ্রিম কোর্টে বললেন চিদম্বরম

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো : আই এন এক্স মামলায় বৃহস্পতিবার প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরমকে সুপ্রিম কোর্টে পেশ করে সিবিআই। গোয়েন্দা সংস্থা আর্জি জানায়, তাঁকে ১৫ দিনের জন্য তিহড় জেলে পাঠানো হোক। এখন তিনি আছেন সিবিআইয়ের হেফাজতে। সিবিআইয়ের আর্জি শুনে চিদম্বরমের উকিল কপিল সিব্বল বলেন, তাঁকে কেন জেল হেফাজতে পাঠানোর চেষ্টা হচ্ছে। সিবিআই তাঁকে ১৫ দিন হেফাজতে পেয়েছে। এরপর তাঁকে জেলে পাঠানো উচিত নয়। প্রবীণ কংগ্রেস নেতাকে হেনস্থা করার জন্যই সি বি আই এমন আর্জি জানাচ্ছে।

    গত ২১ অগস্ট দিল্লির জোড়বাগ অঞ্চলের বাড়ি থেকে সিবিআই চিদম্বরমকে গ্রেফতার করে। তার আগে তিনি আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন। দিল্লি হাইকোর্ট সেই আবেদন নাকচ করে দেয়।

    সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতি আর ভানুমতী ও এ এস বোপান্নার ডিভিশন বেঞ্চ এ দিন জানিয়ে দেয়, অর্থনৈতিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে চিদম্বরমের উপর। তাই আগাম জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে সব নথি ও তথ্য খতিয়ে দেখেই কোনও সিদ্ধান্ত দেওয়া যেতে পারে। এই মুহূর্তে এই প্রোটেকশন দেওয়া যাবে না। এ দিনের এই শুনানি চিদম্বরমের ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা বলেই মনে করা হচ্ছে।

    আইএন এক্স মিডিয়া দুর্নীতি মামলায় ২১ অগস্ট প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরমকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। তারপর থেকে ১৫ দিন সিবিআই হেফাজতেই রয়েছেন তিনি। এ দিনের সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের পর এ বার ইডিও তাঁকে গ্রেফতার করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে এ বার ইডি-র হেফাজতেও জেরার জন্য থাকতে হতে পারে তাঁকে।

    এর আগে ২৯ অগস্ট তাঁর শুনানির দিন ধার্য হয়েছিল। কিন্তু সে দিন সকালেই শীর্ষ আদালতে চিদম্বরমের বিরুদ্ধে হলফনামা জমা দেয় ইডি। তা ছাড়াও চিদম্বরমের জামিনের আবেদনের মামলা তালিকাভুক্ত হয়নি বলেও জানিয়ে দেয় শীর্ষআদালত। তাই সে দিন শুনানি হয়নি।

    এর মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের তরফে ইডিকে নির্দেশ দেওয়া হয়, চিদম্বরমের বিরুদ্ধে তাঁদের যে সব অভিযোগ রয়েছে, তা একটা মুখবন্ধ খামে করে সুপ্রিম কোর্টে জমা দিতে। বিচারপতিরা সেই মুখবন্ধ খাম খুলে দেখবেন কিনা, তা অবশ্য নির্ভর করবে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের উপর। জানিয়ে দেওয়া হয়, যদি সুপ্রিম কোর্ট সেই খাম না খুলে দেখে তাহলে তা ফের ইডি-র কাছেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

    চিদম্বরমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন আইএনএক্স মিডিয়া নামে এক সংস্থাকে বেআইনিভাবে বিদেশ থেকে ৩০৫ কোটি টাকা পাইয়ে দিয়েছিলেন। সংস্থার তৎকালীন দুই মালিক পিটার ও ইন্দ্রাণী মুখার্জি চিদম্বরমের ছেলে কার্তিকে কিকব্যাক বাবদ বিপুল অর্থ দিয়েছিলেন।

    গত জুলাই মাসে ইন্দ্রাণী রাজসাক্ষী হন। চিদম্বরম ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে ইন্দ্রাণীর বিবৃতি রেকর্ড করা হয়। ইন্দ্রাণী বলেছিলেন, তিনি ও তাঁর স্বামী দিল্লির নর্থ ব্লকের অফিসে চিদম্বরমের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। চিদম্বরম তাঁদের বলেন, আইএনএক্সে বিদেশি বিনিয়োগের অনুমতি দিতে তিনি রাজি। কিন্তু তার বিনিময়ে ইন্দ্রাণীদেরও চিদম্বরমের ছেলের ব্যবসায় সাহায্য করতে হবে।

    ২০১৭ সালের ১৫ মে সিবিআই প্রথমবার আইএনএক্স মামলায় এফআইআর করে। তাতে বলা হয়, চিদম্বরম অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন বিধি ভেঙে ইন্দ্রাণী মুখার্জিদের কোম্পানিকে বিদেশি বিনিয়োগ পাইয়ে দিয়েছিলেন। ২০১৮ সালে এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেট চিদম্বরমের বিরুদ্ধে টাকা তছরুপের মামলা করে। ওই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কার্তিকে গ্রেফতার করে সিবিআই। পরে দিল্লি হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দেয়।

    তবে এ দিনের সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের পরে চিদম্বরমের চাপ আরও বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ, একে তো সিবিআই তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করছিলই, এ বার সেখানে যোগ হল ইডি। ফলে দু’দিক থেকে এ বার চাপ বাড়বে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর উপর।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More