পোষা বেড়ালকে নিয়েই ইকোয়েডর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঝগড়ার সূত্রপাত জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো : টানা সাত বছর উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে আশ্রয় দিয়েছিল ইকোয়েডর দূতাবাস। আচমকা তাঁকে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করল কেন? এই নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে বিশ্ব জুড়ে। একটি সূত্রের খবর, পোষা বিড়ালকে নিয়ে অ্যাসাঞ্জের সঙ্গে দূতাবাস কর্তৃপক্ষের ঝগড়া শুরু হয়। তারপর যখন জানা গেল, অ্যাসাঞ্জ লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনোর বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন, সঙ্গে সঙ্গে ইকোয়েডর সরকার অ্যাসাঞ্জকে জানিয়ে দেয়, তাঁকে আর আশ্রয় দেওয়া হবে না।

    ইকোয়েডরে মোরেনোর আগে যিনি প্রেসিডেন্ট ছিলেন, সেই রাফায়েল কোরিয়া মনে করতেন, আমেরিকার গোপন নথিপত্র ফাঁস করে দিয়ে অ্যাসাঞ্জ ভালো কাজ করেছেন। কিন্তু তাঁর পরে ক্ষমতায় এসে মোরেনো কখনই ভালো চোখে দেখেননি তাঁকে। ২০১৭ সালে মোরেনো ক্ষমতায় আসার পরেই অ্যাসাঞ্জকে নির্দেশ দেওয়া হয়, যত্রতত্র রাজনীতি নিয়ে কথা বলা বন্ধ করুন। দূতাবাসের হলঘরে স্কেট পরে ঘুরবেন না। আপনার বেড়াল যদি কোথাও নোংরা করে, আপনিই পরিষ্কার করে দিন।

    সবশেষে মোরেনো সরকার অভিযোগ করে, উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা বেনামে একটি ওয়েবসাইট চালাচ্ছেন। তাতে লেখা হয়েছে, মোরেনোর ভাই বিদেশে বিপুল সম্পত্তি অর্জন করেছেন। ইউরোপে মোরেনোর পরিবার বিলাসবহুল জীবনযাপন করে। যে গোপন নথিপত্র থেকে মোরেনোর পরিবারের গোপন কথা জানা গিয়েছে, তার নাম আইএনএ পেপারস। তাতে মোরেনো ও তাঁর পরিবারের এমন অনেক ছবি ছিল যা কখনই বাইরে প্রকাশ করা হয়নি। মোরেনো অভিযোগ করেন, তাঁদের প্রাইভেট ই-মেল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা বা ফোনে আড়ি পাতার কোনও অধিকার নেই। উইকিলিকস অবশ্য ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

    ইকোয়েডর দূতাবাসের বক্তব্য, অ্যাসাঞ্জ অকৃতজ্ঞ। তিনি দূতাবাসের মধ্যে যতদিন ছিলেন, সকলকে উত্যক্ত করেছেন। ২০১২ থেকে ২০১৮-র মধ্যে অ্যাসাঞ্জের জন্য দূতাবাসের খরচ হয়েছে ৬২ লক্ষ ডলার।

    ইকোয়েডরের বিদেশমন্ত্রী হোসে ভ্যালেনসিয়া বলেন, দূতাবাসে থাকাকালীন অ্যাসাঞ্জ মোবাইল ব্যবহার করতেন। কিন্তু সেই মোবাইলটি দূতাবাসে রেজিস্ট্রি করা ছিল না। ইকয়েডরের সংসদে ভ্যালেনসিয়া বলেছেন, এতরকম অপরাধ করার পরেও অ্যাসাঞ্জ বলছেন, তাঁর ওপরে অবিচার করা হয়েছে।

    অ্যাসাঞ্জের বন্ধুরা বলেছেন, মোরেনো ক্ষমতায় আসার পরে লন্ডনে ইকোয়েডরের দূতাবাসের সব কর্মীকে সরিয়ে দেওয়া হয়। নতুন রাষ্ট্রদুত নিয়োগ করা হয়। দূতাবাসের নতুন কর্মীরা অ্যাসাঞ্জের অতিথিদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতেন না বটে কিন্তু তাঁর প্রতি ছিলেন শত্রুভাবাপন্ন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More