প্রবেশিকার দাবি না মানলে শুরু হবে অনশন, হুঁশিয়ারি পড়ুয়াদের

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছাত্রছাত্রীরা অবস্থান আন্দোলন শুরু করার পরে প্রায় তিন দিন কাটতে চলল। দাবি একটাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষার নীতি বহাল রাখতে হবে। অন্য দিকে কর্তৃপক্ষের ঘোষণা, প্রবেশিকা  পরীক্ষা নয়, দ্বাদশ শ্রেণিতে পাওয়া নম্বরের ভিত্তিতেই হবে ছাত্রভর্তি। দু’পক্ষের এই বিরুদ্ধ মতে আপাতত অচলাবস্থা জারি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। জট না কাটলে পড়ুয়ারা অনশনে বসবেন বলে জানালেন বৃহস্পতিবার গভীর রাতে।

    চলতি বছরে প্রবেশিকা পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পরে, হঠাৎই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেন, প্রবেশিকা নয়, নম্বরের ভিত্তিতেই প্রকাশিত হবে মেধাতালিকা। প্রতিবাদে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন পড়ুয়ারা। দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধার মান কমে যাবে এতে। যে কোনও বিষয়ের অধ্যাপকেরা পরীক্ষার মাধ্যমে ছাত্রদের মূল্যায়ন করলে তা অনেক বেশি স্বচ্ছ ও সঠিক হয়।

    মঙ্গলবার পড়ুয়াদের দাবি মেনে প্রবেশিকা পরীক্ষা বহাল রাখার নির্দেশ দিলেও, বুধবার কর্মসমিতির বৈঠকে ফের বদলে যায় সিদ্ধান্ত। প্রবেশিকা হবে না বলেই জানিয়ে দেন কর্তৃপক্ষ। ঘোষণা করেন, উচ্চমাধ্যমিক বা দিল্লি বোর্ডের দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষার ফলের উপর ভিত্তি করেই তৈরি হবে মেধা তালিকা।

    এর পরে এই বিষয়ে মুখ খোলেন অধ্যাপকেরাও। শঙ্খ ঘোষ, নবনীতা দেবসেনদের মতো বিশিষ্ট জনেদের স্বাক্ষর-সহ একটি বিবৃতি উপাচার্যের কাছে জমা দেন অধ্যাপক সুকান্ত চৌধুরী। তাঁদের অভিমত, কোনও পাঠ্যক্রমের সম্ভাব্য ছাত্রদের যোগ্যতার বিচার সেই পাঠ্যক্রমের শিক্ষকেরাই সব থেকে ভাল ভাবে করতে পারেন। সম্পূর্ণ অকারণে ছাত্র ভর্তির সফল ব্যবস্থা ভেঙে দিয়ে যে পরিবর্তিত ব্যবস্থার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে তাতে মেধার মূল্যায়নে গুরুতর বিঘ্ন ঘটতে বাধ্য। এর ফলে ছাত্রদের প্রতি অবিচার হবে এবং রাজ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়টির সারস্বত মানের অবনতি ঘটবে বলেও মনে করছেন সকলে।

    এর পরেও অবশ্য নড়ে বসেননি কর্তৃপক্ষ। অটল থেকেছেন পড়ুয়ারাও। বিক্ষোভ অবস্থান চালিয়ে গিয়েছেন টানা। ৫৮ ঘণ্টা এমন চলার পরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বেরিয়ে যান উপাচার্য, সহ-উপাচার্য ও অন্যান্য় আধিকারিকেরা। পড়ুয়াদের তীব্র স্লোগান উপেক্ষা করেই বেরিয়ে যেতে দেখা যায় তাঁদের।

    এর পরেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ছাত্রছাত্রীদের তরফে জানানো হয়, শুক্রবার বিকেল তিনটের মধ্যে প্রবেশিকা বহাল রাখার দাবি না মানলে শুরু হবে অনশন।

    ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন অধ্যাপকেরাও। সমস্ত বিভাগের পঠনপাঠন বন্ধ রাখবেন তাঁরা। পড়ুয়াদের পাশাপাশি অবস্থানেও বসবেন তাঁরা। বৃহস্পতিবারই ছাত্রভর্তিতে প্রবেশিকা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করতে বৈঠকে বসেছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন জুটা। বৈঠক শেষে সংগঠনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবার প্রবেশিকা বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গান্ধী ভবনের সামনে দুপুর ১২টা থেকে ৩টে পর্যন্ত অবস্থান বিক্ষোভ করবেন তাঁরা। এ ছাড়াও শুক্রবার দিনভর কর্মবিরতি পালন করবেন সংগঠনের সদস্য শিক্ষকরা।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা নিয়ে আজ শিক্ষা সচিবের সঙ্গে কথাও বলেছেন  উপাচার্য। তিনি বলেন “আমার সঙ্গে শিক্ষা সচিবের সঙ্গে কথা হয়েছে। উনি চাইলে এ বিষয়ে রিপোর্ট দেব। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে কর্মসমিতি। এ ক্ষেত্রেও কর্মসমিতির বৈঠক অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’’

    বৃহস্পতিবার দুপুরে অ্যাডমিশন কমিটির বৈঠকে জানান হয়েছে স্নাতকের কলা বিভাগের ফর্ম ফিলআপ শুরু হচ্ছে শুক্রবার থেকেই। বাড়ানো হয়েছে ফর্ম জমা দেওয়ার সময়সীমাও, চলবে ১২ জুলাই অবধি। মেধা তালিকা প্রকাশ করা হবে ১৯ জুলাই। ঘোষণা করা হয়েছে ভর্তির তারিখও। ২৭, ২৮, ৩০ এবং ৩১ জুলাই এই  দিনগুলিতে চলবে ভর্তি প্রক্রিয়া। পড়ুয়ারা জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত না বদলানো পর্যন্ত তাঁদের অবস্থান কর্মসূচি চলবে। শুরু হবে অনশন।

    ইতিমধ্যেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশিকা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে শিক্ষামহলে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনীদের মধ্যে। বিভিন্ন স্তরে মুখ খুলতে শুরু করেছেন অনেকেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় #saveJU এবং #handsOffJU হ্যাশট্যাগ সহকারে ছড়িয়েছে বিভিন্ন মতামত, আপডেট।

    শুক্রবার পরিস্থিতি বদলায় কি না, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।

     

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More