লকডাউনে গিয়েছে চাকরি, ১০০ দিনের প্রকল্পে কাজ খুঁজছেন গ্র্যাজুয়েটরা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : লখনউ থেকে দেড়শ কিলোমিটার দূরে উত্তরপ্রদেশের এক গ্রামে ১০০ দিনের প্রকল্পে কাজ খুঁজছেন রোশন কুমার। সম্প্রতি নানা রাজ্য থেকে উত্তরপ্রদেশে ফিরেছেন ৩০ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক। তাঁদের জন্য ১০০ দিনের প্রকল্পে কাজের সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে। রোশন কুমার উচ্চশিক্ষিত। তাও তিনি এখন সেই প্রকল্পে কাজ খুঁজছেন।

তিনি এমএ পাশ করেছিলেন। আগে একটি চাকরি করতেন। নেহাৎ খারাপ বেতন পেতেন না। কিন্তু লকডাউনে গিয়েছে চাকরি। অন্নসংস্থানের জন্য তাঁকে ১০০ দিনের প্রকল্পে কাজ খুঁজতে হচ্ছে। রোশন কুমারের মতো আরও অনেক গ্র্যাজুয়েট ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট এখন ১০০ দিনের প্রকল্পে পুকুর খোঁড়া বা রাস্তা তৈরির কাজ করতে চাইছেন।

সত্যেন্দ্র কুমার নামে এক যুবক সম্প্রতি ১০০ দিনের প্রকল্পে যুক্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার বিবিএ ডিগ্রি আছে। আমি একটা চাকরি করতাম। মাসে বেতন পেতাম ছয়-সাত হাজার টাকা। কিন্তু লকডাউনে আমার চাকরি গিয়েছে। তারপর আমি গ্রামে ফিরে এসেছি। গ্রামপ্রধান আমার জন্য ১০০ দিনের প্রকল্পে কাজের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।”

সুরজিৎ কুমার নামে এক যুবক জানিয়েছেন, তিনি এমএ পাশ। বিএড ডিগ্রিও আছে। কিন্তু লকডাউনের সময় ১০০ দিনের প্রকল্পে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। একটি হিসাবে জানা যায়, এখন ১০০ দিনের প্রকল্পে যতজন কাজ করছেন, তাঁদের এক পঞ্চমাংশের স্নাতক ডিগ্রি আছে। জুনেইদপুরে এক গ্রামের প্রধান বীরেন্দ্র সিং বলেন, “যাঁরা লকডাউনে কাজ হারিয়েছেন, তাঁরা সকলেই ১০০ দিনের প্রকল্পে কাজের জন্য আবেদন করতে পারেন।”

দেশে এখন ১৪ কোটি মানুষের কাছে ১০০ দিনের প্রকল্পের জব কার্ড আছে। তাঁদের সকলকে যদি চলতি বছরে ১০০ দিন কাজ দিতে হয়, তাহলে সরকারের খরচ হবে ২ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদ ঋতিকা খেরা বলেন, “১০০ দিনের প্রকল্পে সকলকে কাজ দিতে হলে সরকারকে আরও বেশি বাজেট বরাদ্দ করতে হবে।” গত ১ এপ্রিল পর্যন্ত অন্তত ৩৫ লক্ষ মানুষ ১০০ দিনের প্রকল্পে কাজ পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। এক দশকে এই সংখ্যা সর্বোচ্চ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More