গ্রিন জ়োন ছিল ঝাড়গ্রাম, একদিনে ধরা পড়ল ৩ করোনা পজ়িটিভ, আক্রান্তদের খোঁজ মিলল দুর্গাপুর, বহরমপুরেও

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতকাল পর্যন্ত গ্রিন জ়োনে ছিল ঝাড়গ্রাম জেলা। একরাতে তিন জন করোনা আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে বলে রবিবার নিশ্চিত করল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। সেইসঙ্গে দুর্গাপুরেও আজ প্রথম খোঁজ মিলেছে করোনা আক্রান্তের। পাশাপাশি এদিন মুর্শিদাবাদেও খোঁজ মিলেছে তিন জন করোনা আক্রান্তের।

    সূত্রের খবর, ঝাড়গ্রাম শহরের জুবিলি মার্কেটে মুদির দোকানের এক কর্মচারীর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসায় গোটা মার্কেট সিল করে দেয় ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ। জানা যায়, ওই কর্মচারীর বাড়ি বিনপুরে। কর্মসূত্রে ঝাড়গ্রাম শহরেই মালিকের বাড়িতে থাকতেন ওই কর্মচারী। কিছুদিন আগে বাড়ি যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেন তিনি। কিন্তু তাঁর গ্রামের লোকজনই জানান, ঝাড়গ্রাম থেকে গ্রামে ফিরতে হলে আগে করোনা পরীক্ষা করাতে হবে।

    সেইমতো ৮ মে ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে লালারসের নমুনা জমা দেন ওই কর্মচারী। তার পরে তিনি বাড়ি চলেও যান। এর পরেই তাঁর রিপোর্ট পজেটিভ আসার খবর পান তিনি। পাশাপাশি জুবিলি মার্কেট বন্ধ করে বাজারে ঢোকার প্রতিটি রাস্তায় বাঁশ দিয়ে বেড়া তৈরি করে সিল করে দেওয়া হয় বাজার ।

    তার পরেই বিনপুরের বাড়ি থেকে ওই ব্যক্তিকে নিয়ে যাওয়া হয় পূর্ব মেদিনীপুরে বড়মা হাসপাতালে। রবিবার বিকেলে জুবিলি মার্কেট জীবাণুনাশক দিয়ে স্যানিটাইজ়ও করেন দমকল বিভাগের কর্মীরা। পাশাপাশি ওই দোকানের মালিক এবং মালিকের পরিবার ও দোকানের অন্যান্য কর্মীদের লালারস সংগ্রহ করে পরীক্ষা করতে পাঠিয়ে তাঁদের কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।   

    এছাড়াও জানা যায়, খড়গপুর থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে ঝাড়গ্রামে ফেরা এক তরুণীর রিপোর্টও এদিন পজিটিভ আসে। তাঁর বাড়ি ঝাড়গ্রাম জেলার জামবনি ব্লকে। উড়িষ্যা রাজ্য থেকে ফেরা আরও এক জন পরিযায়ী শ্রমিকের রিপোর্টও পজিটিভ এসেছে এদিন। তাঁর বাড়ি ঝাড়গ্রাম ব্লকে।

    স্থানীয় সূত্রের খবর, এতদিন ঝাড়গ্রাম গ্রিন জ়োন হিসেবে থাকায় প্রতিদিন বহু মানুষ সবজি বাজার, মাছের বাজার ও জুবিলি মার্কেটে ভিড় জমাতেন। কিন্তু একসঙ্গে তিন জনের করোনা ধরা পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে ঝাড়গ্রামে ।

    যদিও এই প্রসঙ্গে ঝাড়গ্রাম জেলা স্বাস্থ্য দফতরের কোনও আধিকারিকের কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য ভবনের তরফে প্রকাশিত বুলেটিনে তিন জন ধরা পড়ার খবর রয়েছে।

    ঝাড়গ্রামের পাশাপাশি এদিন দুর্গাপুরেও খোঁজ মিলল প্রথম করোনা আক্রান্তের। দুর্গাপুরের ইস্পাত কলোনির সিআর দাস রোডে শহরের প্রথম করোনা আক্রান্তের হদিস পাওয়া গেল। আক্রান্তের বয়স ৭৯ বছর। আক্রান্ত ব্যক্তি গত পাঁচ দিন আগে সিটি সেন্টারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে হার্ট ও কিডনির সমস্যা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। একটি বেসরকারি ল্যাবে তাঁর লালারস পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। তাঁকে মলানদিঘীর বিশেষ করোনা হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    এর পরেই আজ সকাল থেকেই গোটা এলাকায় পুলিশি সক্রিয়তা বেড়েছে। আক্রান্তের বাড়ির সামনেও রয়েছে পুলিশি প্রহরা। গোটা এলাকা স্যানিটাইজ করা হচ্ছে। তাঁর পরিবারের ৫ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে ইতিমধ্যেই।

    ঝাড়গ্রাম ও দুর্গাপুরের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদেও আরও তিন করোনা আক্রান্তের হদিস মিলল এদিন। যদিও স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিন বলছে মুর্শিদাবাদে এখনও পর্যন্ত এক জনই করোনায় আক্রান্ত, কিন্তু স্থানীয় সূত্রের খবর, সুতি থানা এলাকার আরও তিন বাসিন্দা দিল্লি থেকে ফেরার পরে তাঁদের করোনা ধরা পড়েছে।

    বুলেটিনে যে এক জনের কথা উল্লেখ করা আছে, তিনি রঘুনাথগঞ্জ থানা এলাকার বাসিন্দা। এর পরেই ধরা পড়েছে আরও তিন জনের। দিল্লি থেকে দিন সাতেক আগে বাড়ি ফিরছিলেন তাঁরা। উপসর্গ দেখা দেওয়ার পরে তাঁদের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট থেকে করোনার হদিস মিলেছে। চারজনকে রবিবার রাতেই বহরমপুর করোনা হাসপাতালে ভর্তির জন্য নিয়ে আসা হচ্ছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More