অক্ষয় তৃতীয়ায় অনলাইনই ভরসা, চিন্তায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা, দাম উঠেছে আকাশ ছোঁয়া

রবিবার অক্ষয় তৃতীয়া। ওইদিন সোনা কিনলে সৌভাগ্য ফেরে বলে বহু মানুষের বিশ্বাস। কিন্তু লকডাউনের মধ্যে কী করে সোনা কেনা যায় ভেবে পাচ্ছেন না ক্রেতারা। সোনার রেটিং এজেন্সি আইসিআরএ লিমিটেডের হিসেবে অক্ষয় তৃতীয়ায় সোনার চাহিদা থাকে ২০ থেকে ২৫ টন। কিন্তু এবছর কী হবে তা নিয়ে কোনও আগাম ধারণাই করা যাচ্ছে না।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতায় প্রতি ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারাট সোনার দাম ৪৫,৯২০ টাকা। আর ২২ ক্যারাট সোনার দর ৪২,৮২০ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারেই সোনার দাম উর্ধমুখী। গোটা ভারতেও তাই। তার উপরে চলছে লকডাউন। ফলে পরম্পরা মেনে এবার অক্ষয় তৃতীয়ায় সোনার ক্রেতা পাওয়া নিয়ে রীতিমতো চিন্তায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। অনলাইনে কিছুটা বিক্রি হলেও হতে পারে। কিন্তু সোনার আসল বাজার গ্রামে তো সেই সুবিধাও নেই বললেই চলে।

    দেশব্যাপী লকডাউনে জনজীবন কার্যত স্তব্ধ। এই পরিস্থিতিতে গয়নার ব্যবসায়ীদেরও মাথায় হাত। দোকান বন্ধ থাকায় গয়না বিক্রি হচ্ছে না। ফি বছর অক্ষয় তৃতীয়ায় সোনার গয়নার বিক্রি বাড়ে। অনেকেই এই দিনে গয়না কেনাকে শুভ মনে করেন। কিন্তু এবার ক্রেতারা পড়েছেন আতান্তরে।

    রবিবার অক্ষয় তৃতীয়া। ওইদিন সোনা কিনলে সৌভাগ্য ফেরে বলে বহু মানুষের বিশ্বাস। কিন্তু লকডাউনের মধ্যে কী করে সোনা কেনা যায় ভেবে পাচ্ছেন না ক্রেতারা। সোনার রেটিং এজেন্সি আইসিআরএ লিমিটেডের হিসেবে অক্ষয় তৃতীয়ায় সোনার চাহিদা থাকে ২০ থেকে ২৫ টন। কিন্তু এবছর কী হবে তা নিয়ে কোনও আগাম ধারণাই করা যাচ্ছে না।

    অক্ষয় তৃতীয়ায় সেভাবে বিক্রির সম্ভাবনা দেখছেন না সোনা বিক্রেতারাও। দোকান বন্ধ থাকায় বড় ব্যবসায়ীরা অনলাইনে বিক্রির কথা ভাবছেন। কিন্তু দেশের সোনা বিক্রেতাদের একটি বৃহৎ অংশই গ্রাম্য এলাকায় থাকেন। সেখানে ইন্টারনেটের সমস্যা এবং তাঁদের পক্ষে সেটা করাও কঠিন। তাছাড়া অধিকাংশ ব্যবসায়ী ও ক্রেতাই অনলাইন বেচাকেনায় অভ্যস্ত নন। ব্যবস্থাই নেই বেশির ভাগ দোকানে। আর গ্রামীণ ক্রেতারাও সামনাসামনি সোনা কিনতেই পছন্দ করেন।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে সোনার চাহিদা কমে গিয়েছে প্রথমত দাম বেশির জন্য। সেই সঙ্গে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার কমে যাওয়াও একটা বড় কারণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলি উন্নতি করছে। কিন্তু গ্রামীণ অঞ্চলেই দেশের সোনা কেনাবেচার পরিমাণ বেশি। সেখানে ওই ব্যবস্থা ততটা প্রচলিত নয়। ভারতের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ বাস করেন গ্রামীণ এলাকায়। ২০১৬ সালের নোটবন্দির সময় থেকেই তাঁরা সমস্যায় পড়েছেন। এবার লকডাউনে সেই সমস্যা আরও তীব্রহয়েছে।

    তবুও বহু সোনা বিক্রেতারা লক্ষ করেছেন, অনেকেই অনলাইনে সোনা কিনতে চাইছেন পরম্পরা রক্ষার জন্য। ভারতের সর্ববৃহৎ সোনা বিক্রেতা টাইটান কেম্পানি জানিয়েছে, তাদের নিয়মিত ক্রেতাদের অর্ধেকেরও বেশি অনলাইনে সোনা কিনতে চাইছেন এই সময়ে।

    এখনও অত্যাবশ্যক সামগ্রী ছাড়া হোম ডেলিভারি দেশে নিষিদ্ধ। ফলে এখন সোনা কিনলেও তা ক্রেতার হাতে পৌঁছবে না। অনলাইন সংস্থাগুলি তাই অফারে বলছে, এখন সোনা বুক করে রাখার জন্য। পরে তা ডেলিভারি করা হবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More