জাপানের শ্যাডো প্রাইম মিনিস্টার থেকে পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রী, দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এসেছেন ইয়োশিহিদি সুগা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত মাসে জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে আচমকাই ঘোষণা করেন, তিনি ইস্তফা দেবেন। কারণ তিনি অসুস্থ। তখন থেকে অ্যাবের অসমাপ্ত কাজগুলি শেষ করার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি ইয়োশিহিদি সুগা। সোমবার তিনি অ্যাবের লিবারাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির শীর্ষস্থানে নির্বাচিত হন। বুধবার তাঁকেই প্রধানমন্ত্রী হিসাবে বেছে নিল জাপানের সংসদ।

রাজনীতিতে সুগা হলেন ‘সেলফ মেড ম্যান’। অর্থাৎ নিজের চেষ্টায় তিনি এতদূরে উঠে এসেছেন। দলে বরাবরই তিনি থাকতেন লো প্রোফাইলে। বাইরে বেশি মুখ খুলতেন না। কিন্তু আড়ালে থেকে নিয়ন্ত্রণ করতেন রাজনৈতিক কার্যকলাপ। আমলাদেরও তিনিই নির্দেশ দিতেন।

লিবারাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতারা বলেন, সুগা কঠোর প্রকৃতির মানুষ। কোনওরকম বিরোধিতা বরদাস্ত করেন না। প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে তিনি আমলাদের যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন, তাঁর নাম হয়ে গিয়েছিল শ্যাডো প্রাইম মিনিস্টার। শোনা যায়, একবার কয়েকজন আমলা তাঁর নির্দেশের বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁদের সকলকে ট্রান্সফার করে দেওয়া হয়। সুগা নাকি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, আগামী দিনে যদি কেউ তাঁর বিরোধিতা করে, তিনি ফের তাঁদের বদলি করে দেবেন।

সুগা ছিলেন বাবা-মার বড় ছেলে। আকিতা প্রিফেকচারে তাঁদের স্ট্রবেরি ফার্ম ছিল। সেখানে কাজ না করে সুগা চলে আসেন টোকিওয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার আগে কার্ডবোর্ড কারখানায় কাজ করতেন। পরে পার্ট টাইম কাজ করে পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন। আংশিক সময়ের কাজ করেছেন সুকিজি ফিশ মার্কেটেও।

সুগার সহপাঠীরা বলেন, তিনি ছিলেন চুপচাপ স্বভাবের। তবে কোনও সিদ্ধান্ত নিলে তা থেকে তাঁকে নড়ানো যেত না। নতুন প্রধানমন্ত্রীর বন্ধু মাসাশি উরি মেইনিচি সংবাদপত্রের সাক্ষাৎকারে বলেন, সুগা জুনিয়র হাইস্কুলে বেসবল খেলতেন। কোচ তাঁকে ব্যাটিং-এর কৌশল বদলাতে বলেছিলেন। কিন্তু সুগা বলেছিলেন, তাঁর যা ব্যাটিং স্টাইল, তাতেই খেলা ভাল হবে। বন্ধুর মতে, সুগা এখনও একইরকম জেদি আছেন।

একসময় টানা ১১ বছর ধরে তিনি বাণিজ্যমন্ত্রী হিকোসাবুরো ওকোনগির সচিব ছিলেন। ১৯৮৭ সালে তিনি ইওকোহোমা শহরের অ্যাসেম্বলিম্যান হন। সোমবার এক সাক্ষাৎকারে সুগা বলেন, “আমি আচমকাই রাজনীতিতে এসেছিলাম। আমার কোনও আত্মীয় আগে রাজনীতি করেননি। আমাকে শূন্য থেকে শুরু করতে হয়েছে।”

১৯৯৬ সালে সুগা সংসদের নিম্নকক্ষে নির্বাচিত হন। তখন তাঁর বয়স ছিল ৪৭। শিনজো অ্যাবে কিন্তু প্রথমবার নির্বাচিত হয়েছিলেন ২৯ বছর বয়সে। তাঁর পরিবার বহুকাল ধরে রাজনীতিতে আছে। ২০০৬ থেকে ‘০৭ সাল পর্যন্ত অ্যাবে প্রথম দফায় প্রধানমন্ত্রী হন। সুগা তখন থেকেই তাঁর একনিষ্ঠ অনুগামী।

প্রধানমন্ত্রী হয়ে সুগা বলেছেন, করোনা অতিমহামারীতে বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে ফের চাঙ্গা করে তোলাই হবে তাঁর প্রথম কাজ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More