অর্থনীতিকে বাঁচাতে গিয়ে বিপাকে জাপান, হু হু করে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো : করোনা অতিমহামারীর প্রথম ধাক্কা সাফল্যের সঙ্গে সামলেছিল জাপান। সংক্রমণ কমে গিয়েছিল যথেষ্ট। জাপান ভেবেছিল করোনাকে জয় করা গিয়েছে। এমনকি বিশ্ব জুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল ‘জাপান মডেল’। কিন্তু তারপরেই এসেছে অতিমহামারীর সেকেন্ড ওয়েভ। তাতেই নাজেহাল হয়ে পড়েছে সেই দেশ। অনেকেই বলছেন, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের জন্যই জাপান বিপদে পড়েছে। অর্থনীতি যাতে ভেঙে না পড়ে, সেজন্য দেশের সব দোকান, বাজার খোলা রাখা হয়েছিল। তা থেকেই হু হু করে ছড়াচ্ছে সংক্রমণ।

    জাপানের অর্থমন্ত্রী কিছুদিন আগে দাবি করেছিলেন, তাঁদের দেশের ‘উন্নত সাংস্কৃতিক মান’ অতিমহামারীকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করেছে। কিন্তু তার পরেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানী টোকিওয়। সেখান থেকে ক্রমশ করোনা ছড়াচ্ছে অন্যান্য শহরে। বৃদ্ধরাই ওই রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। তাতে চিন্তা বেড়েছে সরকারের। কারণ জাপানে বৃদ্ধদের সংখ্যা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি।

    পর্যবেক্ষকদের মতে, অর্থনীতিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে গিয়েই বিপদ ডেকে এনেছে জাপান। ওই দেশকে দেখে সকলেই বুঝতে পারছে, দ্রুত সব কিছু স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলে কী পরিণাম হয়।

    করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পরে জাপান জরুরি অবস্থা জারি করেছিল। কিন্তু সেজন্য নাগরিকরা ঘরে থাকতে বাধ্য হননি। বাজারও পুরোপুরি বন্ধ থাকেনি। মে মাসের শেষের দিকে জরুরি অবস্থা উঠে যায়। দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার চেষ্টা হতে থাকে। জুনে রেস্তোরাঁ ও পানশালাগুলি পুরো সময়ের জন্য খুলে দেওয়া হয়। বেসবল খেলা ও সুমো কুস্তিও চালু হয় পুরোদমে।

    জুনের শেষদিকে নাইট ক্লাবগুলি থেকে নতুন করে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। স্বাস্থ্য দফতরের অফিসাররা বিপদটা ছোট করে দেখাতে চেয়েছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, সংক্রমণ কয়েকটি হটস্পটেই সীমাবদ্ধ।

    জাপানের শোওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ইয়োশিহিতো নিকি বলেন, “সরকার ভেবেছিল, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে এসেছে। এখন মানুষ ইচ্ছামতো ঘোরাফেরা করতে পারে। এই ভাবনাই ভুল ছিল।”

    জাপানে করোনার প্রথম ওয়েভ দেখা যাওয়ার পরে রোগ প্রতিরোধের জন্য একটি প্যানেল তৈরি হয়েছিল। অতিমহামারী নিয়ন্ত্রণের পরে অনেকেই সেই প্যানেলের প্রশংসা করেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় ওয়েভ দেখা দেওয়ার পরে সরকার সেই প্যানেল ভেঙে দিয়েছে।

    এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলিতে এখন দেখা দিয়েছে করোনার দ্বিতীয় ওয়েভ। হংকং, অস্ট্রেলিয়া এবং ভিয়েতনামে নতুন করে ছড়াচ্ছে রোগ। তাদের দেখে অন্যান্য দেশ শিক্ষা নিচ্ছে, একবার সংক্রমণ কমে গেলেও লকডাউন তুলে দেওয়া ঠিক নয়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More