শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

জঙ্গলমহলে উলটপুরান, পর্যুদস্ত তৃণমূল

  • 14
  •  
  •  
    14
    Shares

শ্যামশ্রী দাশগুপ্ত: কেন্দ্রে দ্বিতীয় ইউপিএ সরকার থেকে তত দিনে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরেও তৎকালীন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী জয়রাম রমেশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী পি চিদম্বরম জঙ্গলমহলের প্রসঙ্গে বারবারই বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইচ্ছা ও শুভেন্দু অধিকারীর পরিশ্রম ছাড়া ওখানে উন্নয়ন সম্ভব ছিল না। জঙ্গলমহলে শান্তি ফিরে আসার কৃতিত্ব ওঁদেরই প্রাপ্য।

অথচ পঞ্চায়েত ভোটে সেই জঙ্গলমহলেই উলটপুরাণ হল, পিছিয়ে পড়ল তৃণমূল। বরং শাসক দলকে টেক্কা দিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতের ভোটে ঝাড়গ্রাম ও পুরুলিয়ায় মাথা তুলল বিজেপি। তৃণমূলের জন্য উদ্বেগের খবর হল, রাজ্যের মন্ত্রী চূড়ামণি মাহাতর এলাকা, শালবনীতে ডাহা হেরেছে তৃণমূল। এই সেই চূড়ামণি, যাঁকে গত বছর অক্টোবর মাসে প্রশাসনিক সভায় তুমুল ভর্ৎসনা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চূড়ামণি যে আগে চাষবাস করতেন, চাকচিক্য দেখে তা বোঝার উপায় নেই বলে সকলের সামনেই কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পরে তাঁকে জেলা সভাধিপতির পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়।

চূড়ামণি অবশ্য একা নন। পুরুলিয়ার জঙ্গলমহলে রাজ্যের মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতর এলাকা বলরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতও দখল করে নিয়েছে বিজেপি। আবার শালবনীতে মন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতর এলাকাতেও চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত জিতে নিয়েছে গেরুয়া শিবির।

প্রসঙ্গত, এর আগে দলীয় তরফে জঙ্গলমহলের জেলাগুলির পর্যবেক্ষক ছিলেন পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু তিন বছর আগে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলার পর্যবেক্ষক হিসেবে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের পর্যবেক্ষক করা হয় তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে।

শুধু বিজেপি নয়, জঙ্গলমহলে ভাল ফল করেছে আদিবাসীদের মঞ্চও। নিজেদের সমাজের প্রার্থীকে ভোট দিতে সোমবার অনেক রাত পর্যন্ত ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন বেলপাহাড়ির পাহাড় জঙ্গল ঘেরা গ্রামগুলির আদিবাসীরা। সে দিন এলাকাতেই শাসক দলের কর্মী সমর্থকদের দেখা পাওয়া যায়নি। গোটা বাংলা জুড়ে রক্তগঙ্গা বইলেও, এখানে অশান্তির আগুনে পোড়েনি কোনও এলাকা। সোমবার যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সাধারণ মানুষ,  বৃহস্পতিবার ভোট গণনার পর সেই ছবিটাই আরও স্পষ্ট হল। তৃণমূলের তরী ধাক্কা খেল তিন জেলা মিলিয়ে জঙ্গলমহলে। আদিবাসী সমন্বয় কমিটির বেশির ভাগ প্রার্থী জয়ী হয়েছেন ঝাড়গ্রামে। পাশাপাশি বিজেপির দখলে এসেছে বিপুল সংখ্যক আসন।

ঝাড়গ্রামের ৮০৬টি গ্রাম পঞ্চায়েত আসনের মধ্যে ভোট হয়েছিল ৭৮০টি আসনে। দেখা গেল, এর মধ্যে তৃণমূলকে সমানে-সমানে টক্কর দিয়েছে বিজেপি। তৃণমূল ৩৬৮টি আসনে জিতেছে। বিজেপি জিতেছে ৩২৫টি আসনে। এই প্রথমবার পঞ্চায়েত ভোটে প্রার্থী দিয়েছিল আদিবাসী সমন্বয় মঞ্চ। যে ক’টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল সমন্বয় মঞ্চ, প্রায় সব ক’টিতেই বিপুল ব্যবধানে জিতেছে তারা।

পুরুলিয়াতে আরও জোর ধাক্কা খেয়েছে শাসক দল। সেখানে ৬৯৪ টি গ্রাম পঞ্চায়েতে জিতেছে তৃণমূল। বিজেপি জিতেছে ৬০৫টি আসনে। তা ছাড়া পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় বেশ কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েতের দখল নিয়েছে বিজেপি। সেখানে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ৩১৭টি আসনে জিতেছে গেরুয়া শিবির।

Leave A Reply