শুক্রবার, জানুয়ারি ২৪
TheWall
TheWall

মহিলা সাংবাদিকের চুল টানল পুলিশ, ভাঙল ফোন, মারল ব্যাটন! ছাত্র আন্দোলন কভার করতে এসে পুলিশি হেনস্থার অভিযোগ

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছাত্রছাত্রীদের উপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে পুলিশ। এমনই অভিযোগ দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের। রবিবার রাতে শোনা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ঢুকে মারধর করা হয়েছে বহু পড়ুয়াকে। কিছু ছাত্রী শ্লীলতাহানির অভিযোগও তুলেছেন পুলিশের বিরুদ্ধে। কিন্তু শুধু ছাত্রছাত্রীরাই নন, পুলিশি নিগ্রহ থেকে ছাড় পাননি মহিলা সাংবাদিকও! বুশরা শেখ নামে বিবিসি-র এক সাংবাদিকের অভিযোগ, তাঁর চুল ধরে টেনেছে পুলিশ!

আরও পড়ুন: বাসে কেরোসিন ঢালছে পুলিশ, বাইকও ভাঙছে পুলিশই! জামিয়া মিলিয়া ছাত্র আন্দোলনের দু’টি ভিডিও ভাইরাল

তিন দিন আগে থেকেই এই অশান্তির সূত্রপাত। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা ক্যাবের বিরোধিতায় শুক্রবার থেকে আন্দোলনে নামেন জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার পড়ুয়ারা। রবিবার তা চরম আকার ধারণ করে। এদিন নিউ ফ্রেন্ডস কলোনিতে প্রথমে পড়ুয়ারা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। মথুরা রোড-সহ একাধিক রাস্তা অবরূদ্ধ হয়ে যায় বিক্ষোভের জেরে। যান চলাচলের উপরে তীব্র প্রভাব পড়ে। কয়েক হাজার মানুষের বিক্ষোভে প্রায় স্তব্ধ হয়ে যায় রাজধানী। প্রভাব পড়ে মেট্রোর উপরেও। পরিস্থিতি সামাল দিতে নাকানিচোবানি খেতে হয় পুলিশকে।

আরও পড়ুন: জামিয়া মিলিয়ার পাশে গোটা দেশ! পুলিশি নিগ্রহের প্রতিবাদে শীতের রাতে পথে নামল পাটনা, হায়দরাবাদ, কলকাতা

রবিবার সন্ধেয় বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে দেশের রাজধানী। রীতিমতো সহিংস রূপ পায় গোটা আন্দোলন। শেষমেশ লাঠিচার্জ থেকে কাঁদানে গ্যাস— বাদ পড়েনি কিছুই। রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিও শুরু হয়ে যায় পুলিশের। এর পরে উত্তেজনা আরও বাড়ে। বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে। বিকেলে, পুলিশের তাড়া খেয়ে ছাত্ররা ঢুকে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে।

আরও পড়ুন: হিংসার ছবি আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়েও! রাতের অন্ধকারে কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জের মুখে আন্দোলনকারী ছাত্রেরা

এর পরেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছয় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছু ‘বহিরাগত’কে এদিন গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযোগ, এদিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে প্রথমেই প্রধান ফটকগুলি বন্ধ করে দেয় পুলিশ। তার পরেই গ্রেফতার করে কিছু বহিরাগতকে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে চিফ প্রোক্টর ওয়াসিম আহমেদ খানের অভিযোগ, “পুলিশ বাহিনী ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ে কোনও অনুমতি ছাড়াই। আমাদের কর্মী এবং ছাত্রদের মারধর করা হচ্ছে। তাদের ক্যাম্পাস ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।”

আরও পড়ুন: বিনা অনুমতিতে ক্যাম্পাসে ঢুকে ছাত্রদের নিগ্রহ করেছে পুলিশ! অভিযোগ জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে

এই সময়েই ঘটনাস্থলে উপস্থিতি ছিলেন বুশরা শেখ। তিনি জানান, দিল্লিতে ছাত্র-ছাত্রীদের বিক্ষোভ কভার করার জন্য এসেছিলেন তিনি। রবিবার সেই কাজই করছিলেন। সেই সময়ে এক পুলিশ তাঁকে হেনস্থা করে বলে অভিযোগ তাঁর। বুশরার দাবি, তাঁকে ব্যাটন দিয়ে মারা হয়, ফোন ভেঙে ফেলা হয়। সজোরে টানা হয় চুল। সম্ভবত তাঁকে ছাত্রী ভেবেই তাঁর সঙ্গে এমনটা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ক্রুদ্ধ বুশরা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আমি এখানে মজা করতে আসিনি। কাজ করতে এসেছিলাম। আমাকেও ছাড়ল না পুলিশ।”

Share.

Comments are closed.