বৃহস্পতিবার, জুন ২০

সময় কম, খাবার বেশি, বাইরেই জমবে জামাইষষ্ঠী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সকাল সকাল লুচি-আলুর দম দিয়ে জলখাবার শুরু করে দুপুরে সরু চালের ভাত, ঘি, মাছের মাথা দিয়ে মুগের ডাল, ঝুরি আলুভাজা, দইকাতলা, কচি পাঁঠার ঝোল, দই, মিষ্টি, আম দিয়ে পাত পেড়ে বসিয়ে, তালপাখার হাওয়া করতে করতে জামাইকে আদর করে খাওয়ানোর দিন এখন ইউটোপিয়া ছাড়া কিছুই নয়।
শাশুড়ির ধৈর্য্য যত কমেছে, তত বাড়ছে জামাইয়ের ব্যস্ততা। এই দুইয়ের মাঝে পড়ে সমাধান এনে দিয়েছে শহরের রেস্তঁরাগুলো। তাই জামাইষষ্ঠী উপলক্ষে, তাদের মেনু সেজেছে সনাতনী বাঙালি খাবারে। রয়েছে প্যাকেজ সিস্টেমও। কয়েক ঘণ্টা সময় বার করতে পারলেই সপরিবার গিয়ে সেরে ফেলা যায় জামাইষষ্টীর উৎসব। জামাই খুশি, মেয়ে খুশি, খুশি শ্বশুর-শাশুড়িও।


এমনই এক রেস্টুরেন্ট ‘ওহ ক্যালকাটা’-র এক্সিকিউটিভ শেফ সুবীর দেব যেমন জানালেন, এবারের জামাইষষ্ঠী ইলিশে সাজিয়েছেন তাঁরা। এমনিতেই এই সময়ের অনভ্যাস আর ব্যস্ততার কথা ভেবে বোনলেস ইলিশে বহু দিন ধরেই মন জয় করছেন তাঁরা। এবারে সেই ইলিশেরই বিশেষ পদ হিসেবে থাকছে, মেঘলা মাঝি ইলিশ। সুবীরবাবু জানাচ্ছেন, এই মেঘলা মাঝি ইলিশ-সহ অন্য সমস্ত রেগুলার পদ দিয়ে দু’জনের লাঞ্চের খরচ পড়বে ১২০০ টাকা। ডেজার্ট প্ল্যাটারে থাকবে ডাবের মাখা সন্দেশ, পায়েস, গুড়ের আইসক্রিম।

বুফেতে আবার প্রন ককটেল, ইলিশের বাটিচচ্চড়ি, কাঁকড়া, মাংস-সহ লাঞ্চ খাওয়ার খরচ পড়বে মাথাপিছু ৯০০ টাকা।
পূর্ণদাস রোডের সপ্তপদী রেস্তোরাঁর কর্ণধার রঞ্জন বিশ্বাস আবার এলাহি মেনু সাজিয়েছেন জামাইষষ্ঠী উপলক্ষে। ৮৯৯ টাকায় মিলবে জামাই থালি, ১০৯৯ টাকায় স্পেশ্যাল জামাই থালি। বিভিন্ন পদে দেশি-বিদেশি ফিউশন। রঞ্জনবাবুর কথায়, “ভাল করে বসে খাওয়া আর খাওয়ানো দুইই এখন প্রায় অবসোলিট। তাই একটা উপলক্ষ যখন মিলেছে, তা পুরোপুরি কাজে লাগানোর ব্যবস্থা করেছি।” দেখে নিন সপ্তপদীর বিশেষ মেনু।

আহেলি রেস্তোরাঁয় আবার ভরপুর বাঙালিয়ানার স্বাদই থাকছে এই বছর। তাই প্রাদেশিক রান্না বা বিদেশি ফিউশন ফুডের ঠাঁই এবার নেই তাদের থালিতে। এ বারের বিশেষ জামাই থালিতে থাকছে ভাত, লুচি, পোলাও, বেগুনভাজা, মাছের মাথা দিয়ে মুগডাল, পটলের দোলমা, ভাজা মশলা আলুর দম, বরিশালি ইলিশ, চিংড়ি মাছের হরেক পদ, ফুলকপির ডালনা, মাটন কষা, চাটনি, পাঁপড়। লিচুর পায়েস ও আম রাজভোগ। খরচ জনপ্রতি ২২২৫ টাকা (কর অতিরিক্ত)। এদিন জামাইদের জন্য থাকছে বিশেষ উপহারও।

ললিত গ্রেট ইস্টার্নে জামাইষষ্ঠীতে এ বছর বাফে লাঞ্চ ও ডিনার— দুইয়েরই আয়োজন রয়েছে। জামাই ষষ্ঠীর দিন বাফে শুরু হবে বেলা ১২.৩০ থেকে। চলবে বেলা ৩ টে পর্যন্ত। আর রাতে যেতে চাইলে পৌঁছন ৭টা থেকে ১১টার মধ্যে।

এখানকার শরবতের বিভাগে থাকছে তেঁতুল ও লেবু পাতা দিয়ে শরবত। নানা প্রদেশের আমিষ ও নিরামিষ সুস্বাদু দু’রকমের স্যুপও মিলবে গোড়ার তালিকায়।

মেনকোর্সের আয়োজনও এলাহি। সাদা ভাত তো থাকছেই, তার সঙ্গে আছে বাসন্তি পোলাও, কলকাতা মুর্গ দম বিরিয়ানি, কিমা বোটি পোলাও। প্রাদেশিক রান্না হিসেবে রয়েছে মির্চি অউর ব্যায়গন কা সালান।

ভাজাভুজির তালিকায় থাকছে ভাজা মুরগি শিক কাবাব, ডিমের ডেভিল, ট্যাংরা স্টাইল চিলি পনির, কাঁচা আম-আলুর চপ।

থাকছে ডাল বালুচি, কড়াইশুঁটি দিয়ে মুগ ডাল।

নিরামিষাশীদের জন্যও থাকছে হরেক তরকারি। এ দিন বাফে-তে মিলবে বাঙালি রান্নার রকমফের। ধোকার ডালনা, নারকেল পোস্ত পটল, চাপর দিয়ে পাঁচমেশালি চচ্চড়ি, ভাজা মশলা দিয়ে আলুর দম। চাইনিজ পদও পাবেন বাফে-তে। থাকবে গ্রিমোলাতা ক্রাশড বেকড ভেজ, ওরিয়েন্টাল ভেজ ইন ব্ল্যাক বিন সস ও ফাদ থাই নুডল।

আমিষাশী পদে মিলবে মুর্শিদাবাদী চক মুরগির ঝোল, গোয়ালন্দ মাটন কারি, থোর ভরা চিংড়ি ডালনা। আর বিদেশি রান্নায় মন ভরাতে চাইলে বাফে-তে চাখতে পারেন পমেরি মাস্টার্ড ম্যারিনেটেড ফিশ উইথ আমন্ড ভেলো ও ডাইস চিকেন উইথ মাফন্টেন চিলি কোরিয়েন্ডার সস।

মিষ্টির আয়োজনও এলাহি। কাঁঠালের পায়েস, শক্তিগড়ের ল্যাংচা, আমের রসমালাই যেমন থাকছে, তেমনই আছে পিস্তাচিও বিসকটি, লেমন-ম্যারিঙ্গো টার্টের মতো নানা রকম ডেজার্ট।

লাইভ স্টলে থাকছে ফুচকা, পাটিসাপটা, ফ্রুট কেক ইত্যাদির কাউন্টারও।

দুপুরে খাওয়ার খরচ পড়বে জনপ্রতি ১৫৫০ টাকা (কর অতিরিক্ত) ও রাতে মাথাপিছু ১৯০০ টাকা (কর অতিরিক্ত)।
সিক্স বালিগঞ্জ প্লেসের পসরায় আপনি জামাইভোজন করাতে গেলে সামনে পাবেন বেলের শরবত। মেন কোর্সে থকবে লুচি, ভাত, আম-আদা দিয়ে মুগ ডাল, ঝুরি আলু ভাজা, কাসুন্দি আলুর দম, আলু ঝিঙে পোস্ত, এঁচোড় কালিয়া, চিটাগং কষা মাংস, মুর্শিদাবাদি ফিশ পাতুরি, আমের চাটনি, পাঁপড় ভাজা, মিষ্টি দই, দিলখুশ সন্দেশ৷ নিরামিষ খেতে চান যাঁরা তাঁদের জন্য রয়েছে ছানার কোফতা, মোচার পাতুরি৷ বাজেট রাখুন ৭০০ টাকা (কর অতিরিক্ত)।
তা হলে আর দেরি কেন, ঠিক করে ফেলুন ষষ্ঠীর মেনু, আর পৌঁছে যান পছন্দের রেস্তোরাঁয়।

Leave A Reply