হিটলারের সঙ্গে ইন্দিরার মিল দেখালেন জেটলি

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপি দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে বলে কিছুদিন ধরে জোর প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। এবার সেই গণতন্ত্রের অস্ত্রেই কংগ্রেসের মোকাবিলা করতে নামল বিজেপি। সেজন্য তারা বেছে নিয়েছে ২৫ জুন তারিখটিকে। কেননা ১৯৭৫ সালে এই দিনটিতেই দেশ জুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন তৎকালীন কংগ্রেসী প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।
    বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতা তথা কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি সোমবার জার্মানির ফ্যাসিস্ট একনায়ক হিটলারের সঙ্গে ইন্দিরা গান্ধীর তুলনা করে দেখিয়েছেন, দুজনের মিল কোথায় আর অমিল কোনখানে।
    প্রথমে অমিলের কথা বলেছেন। ইন্দিরা গান্ধী দেশে একপ্রকার ‘পরিবারতান্ত্রিক গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। হিটলার জার্মানিতে তেমন কিছু করেননি। দুজনের মধ্যে মিল হল, তাঁরা কখনও সংবিধানকে বাতিল করে দেননি। বরং সংবিধানকে ব্যবহার করেই গণতন্ত্রকে একনায়কতন্ত্রে পরিণত করেছিলেন।
    ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন রাতে ভারতে জরুরি অবস্থা জারি হয়। ইন্দিরা গান্ধীর যুক্তি ছিল, দেশে গোলযোগ সৃষ্টিকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অবিলম্বে কড়া হাতে রাশ টেনে না ধরলে বিপদ।
    জরুরি অবস্থা জারির পরেই পুলিশ জয়প্রকাশ নারায়ণ সহ দেশের প্রথম সারির সব রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেফতার করে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়।
    সেই দিনগুলির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জেটলি তাঁর ব্লগে লিখেছেন, ইন্দিরা গান্ধী সংবিধানের ৩৫২ ধারায় দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন। ৩৫৯ ধারা প্রয়োগ করে প্রতিটি মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তিনি দাবি করেছিলেন, বিরোধীরা হাঙ্গামা করার চেষ্টায় আছে।
    হিটলার ১৯৩৩ সালে ক্ষমতায় এসে জার্মানির পার্লামেন্ট ভবন রাইখস্ট্যাগে আগুন লাগিয়ে দেন। তার পরেঅভিযোগ করেন, কমিউনিস্টরা সব সরকারি ভবন ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করেছে। এই বলে তিনি সংবিধানের ৪৮ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে নিজের হাতে জরুরি অবস্থাকালীন ক্ষমতা তুলে নেন। তাঁরও অজুহাত ছিল, জনগণকে বিপদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্যই ওই ক্ষমতা প্রয়োজন। ১৩ বছর বাদে নুরেমবার্গে বিচারেরসময় প্রমাণিত হয়, রাইখস্ট্যাগে আগুন লাগিয়েছিল নাৎসিরা। পুরো ব্যাপারটার পরিকল্পনা করেছিল গোয়েবলস।
    ইন্দিরা গাধী কীভাবে জরুরি অবস্থার সময় যে ধরনের কার্যকলাপ করেছিলেন, তার বিবরণ দিয়েছেন জেটলি। তিনি লিখেছেন, জরুরি অবস্থার সময় সংসদে বিরোধী নেতাদের বেশিরভাগ বন্দি হন। ফলে সংসদে দুই তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতা পেতে ইন্দিরার কোনও অসুবিধা হয়নি।
    জরুরি অবস্থার সময় ইন্দিরার সংবিধান সংশোধনের কথা উল্লেখ করে জেটলি লিখেছেন,হিটলার অন্তত এই কাজটি করেননি।
    প্রতি বছরই বিজেপি ২৫ জুন জরুরি অবস্থার বর্ষপূর্তি পালন কর। কংগ্রেসকে এত তীক্ষ্ন আক্রমণ আগে কখনও করেনি। সামনের বছর লোকসভা ভোট। তার আগে সম্ভবত জরুরি অবস্থার বর্ষপূর্তির সুযোগ আর পাবে না বিজেপি। তাই এবারের ২৫ জুন দিনটিকে তারা যথাসম্ভব বেশি করে কংগ্রেসবিরোধী প্রচারে ব্যবহার করতে চেয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More