শনিবার, মার্চ ২৩

জইশকে নিয়ে কড়া বিবৃতি রাষ্ট্রসঙ্ঘের, চিন বলল কথার কথা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলা নিয়ে জইশ ই মহম্মদকে দোষ দিতে রাজি হয়নি চিন। কিন্তু রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ থেকে জইশের নাম উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে কড়া বিবৃতি। সেই বিবৃতিকেও গুরুত্ব দিতে রাজি হচ্ছে না চিন। বরং চিনের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোনও বিচার বিবেচনা ছাড়াই রাষ্ট্রসঙ্ঘ জইশের নাম উল্লেখ করেছে।

চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গেং শুয়াং বলেন, বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রেস বিবৃতিতে একটি সংগঠনের নাম আছে। ওই আক্রমণ সম্পর্কে ভালোমতো বিচার-বিবেচনা না করেই নামটি উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় আত্মঘাতী জঙ্গি হামলায় ৪০ জনের বেশি জওয়ান শহিদ হন। আহত হন আরও অনেকে। সেদিন সিআরপিএফ জওয়ানদের নিয়ে একটি কনভয় জম্মু থেকে শ্রীনগরের দিকে যাচ্ছিল। এক আত্মঘাতী জঙ্গি বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি নিয়ে ধাক্কা মারে কনভয়ে। হামলার পরে দায় স্বীকার করে জইশ। ওই সংগঠনের প্রধান মৌলানা মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী বলে ঘোষণা করার জন্য রাষ্ট্রসঙ্ঘে জোর চেষ্টা চালায় ভারত। এক্ষেত্রে বাধা দেয় চিন। এরপর রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ জইশের নাম উল্লেখ করে কড়া বিবৃতি দেয়। সেই বিবৃতিকেও গুরুত্ব দিতে চায়নি চিন।

রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ১৫ টি সদস্য দেশ আছে। তার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা জম্মু-কাশ্মীরে কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা করছি। ১৪ ফেব্রুয়ারি ওই জঙ্গি হানা ঘটে। তাতে ৪০ জনের বেশি ভারতীয় আধা সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েক ডজন মানুষ। জইশ ই মহম্মদ নামে সংগঠনটি তার দায় স্বীকার করেছে।

ভারতের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা পরিষদে আবদন জানানো হয়েছিল, বিবৃতিতে যেন জইশের নাম উল্লেখ করা হয়। চিন থেকে এই বিবৃতির বিরোধিতা করা হয়েছিল। তাদের কথা না শুনে যেভাবে বিবৃতিতে জইশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাকে ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।

এর আগে মাসুদকে যতবার আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী বলে ঘোষণা করার প্রস্তাব এসেছে, ততবারই নাকচ হয়ে গিয়েছে চিনেরই জন্য। চিন নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসাবে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতার অধিকারী। তারা পাকিস্তানের ‘অল ওয়েদার ফ্রেন্ড’ বলে পরিচিত। তাই পাকিস্তানের মদতপুষ্ট একটি সংগঠনের নেতাকে সন্ত্রাসবাদী বলতে আপত্তি জানিয়ে এসেছে বরাবর। কিন্তু শোনা যাচ্ছে, নিরাপত্তা পরিষদের আরও এক স্থায়ী সদস্য ফ্রান্স এবার মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে প্রস্তাব আনছে। এক্ষেত্রে চিন কী অবস্থান নেয়, সেদিকে লক্ষ রাখছেন অনেকে।

Shares

Comments are closed.