মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২১
TheWall
TheWall

ধর্ষণ হোক, তার পরে দেখা যাবে! তিন মাস ধরে পুলিশের কাছে এমনটাই শুনছেন উন্নাওয়ের অন্য এক নিগৃহীতা

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো: উন্নাওয়ে গণধর্ষিত ও দগ্ধ তরুণীর মৃত্যুর পরে একটা দিন পেরিয়েছে সবে। তার মধ্যেই ফের অভিযোগের মুখে উন্নাও পুলিশ। অভিযোগ অবশ্য বিচ্ছিন্ন বা নতুন কিছু নয়। সেই একই অভিযোগ, যা পুলিশের বিরুদ্ধে হরবখত উঠে থাকে। অভিযোগ না নেওয়ার অভিযোগ। উন্নাওয়ের সিন্দুপুর গ্রামের এক মহিলার দাবি, ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ নিতে চায়নি পুলিশ। উল্টে তাঁকে শুনতে হয়, “আগে ধর্ষণ হোক তার পর দেখা যাবে।”

এই সিন্দুপুর গ্রামেই বৃহস্পতিবার পুড়িয়ে দেওয়া হয় বছর তেইশের এক তরুণীকে। এক বছর আগে গণধর্ষিত হয়েছিল সে। রায়বরেলির আদালতে যাচ্ছিল সাক্ষ্যপ্রমাণ দিতে। স্টেশন থেকে তাকে টেনে হিঁচড়ে নির্জন ধানখেতে নিয়ে গিয়ে, গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে দেয় পাঁচ অভিযুক্ত। সেই পাঁচ জনের মধ্যে তিন জনই ওই তরুণীর ধর্ষক, যারা সদ্য জামিন পেয়েছিল।

আরও পড়ুন: লড়াই থামল উন্নাওয়ের দগ্ধ ধর্ষিতার, শুক্রবার রাতে মৃত্যু হল দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে

৯০ শতাংশ দাহ নিয়ে হাসপাতালে প্রবল লড়াই করার পরে শুক্রবার রাতে মারা যান ২৩ বছরের ওই তরুণী। ক্ষোভে, রাগে, প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে সারা দেশ।

এ সবের মাঝেই জানা গেল, উন্নাওয়ের সেই সিন্দুপুর গ্রামেরই এক তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগ দায়ের করতে গিয়ে শুনলেন, “আগে ধর্ষণ হোক, তার পরে থানায় আসবেন অভিযোগ জানাতে।”

উন্নাওয়ের সিন্দুপুর গ্রামের ওই অভিযোগকারিণীর দাবি, তিন মাস আগে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন একটা কাজে। তখন তাঁকে আক্রমণ করে কয়েক জন। শ্লীলতাহানি করে, যৌন নিগ্রহ করে। করে ধর্ষণের চেষ্টাও। তিন অভিযুক্তকে শনাক্তও করেন তিনি। ঘটনার পরেই রাম মিলন, গুড্ডু ও রাম বাবু নামের সেই তিন যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে যান উন্নাও থানায়।

তরুণীর দাবি, ঘটনার পরেই প্রথমে তিনি ১০৯০ নম্বরে ফোন করে সাহায্য চান। সেখান থেকে তাঁকে বলা হয়, ১০০ বা ১১২ নম্বরে ফোন করতে। সেখানে ফোন করে সব জানালে তাঁকে থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দেয় পুলিশ।

অভিযোগকারিণী ওই তরুণী বলেন, “থানা থেকে আমায় বলা হয়, ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছে। ধর্ষণ তো হয়নি! হলে যেন আমি অভিযোগ করতে আসি। বিচার পাওয়ার জন্য আমায় যদি ধর্ষিত হতে হয়, তা হলে সেই বিচারে আমি কী করে আস্থা রাখব!”

আরও পড়ুন: জ্বলন্ত অবস্থায় এক কিলোমিটার ছোটেন উন্নাওয়ের ধর্ষিতা তরুণী! পুলিশে ফোন করেন নিজেই

তাঁর অভিযোগ, সেই দিনের পর থেকে গত তিন মাস তিনি একাধিক বার থানায় গেলেও তাঁর অভিযোগকে কোনও গুরুত্বই দেওয়া হয়নি। এফআইআর দায়ের হওয়া দূরের কথা। অন্য দিকে, অভিযুক্তরা প্রায় প্রতিদিন তাঁর বাড়িতে এসে তাঁকে প্রাণে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। অভিযোগ না জানানোর জন্য় চাপ দেওয়া হচ্ছে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে।

এ সবের জেরে গত তিন মাস ধরে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি ও তাঁর পরিবার। কুঁকড়ে রয়েছেন ভয়ে। পুলিশি সহায়তা মিলছে না, রীতিমতো হয়রান হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। উন্নাওয়ের ধর্ষিতা তরুণীকে ভয়াবহ ভাবে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় যে তোলপাড় শুরু হয়েছে, তাতেই সামনে এসেছে ওই এলাকারই এই তরুণীর ঘটনা।

আরও পড়ুন: গলায় কোপ, পা ভেঙে আগুন ধরিয়েছিল ধর্ষকরা, যন্ত্রণার কথা বললেন উন্নাওয়ের নির্যাতিতা

এ দেশের বিচারব্যবস্থা কি সত্যিই পচে গেছে? এমনটাই ভাবছেন অনেকে। ভাবছেন, এই রকম পরিস্থিতিতেও একটি মেয়ে নিগ্রহের শিকার হয়েছে জানার পরেও এত নিস্পৃহ পুলিশ? সে জন্যই বোধ হয় খোদ উন্নাও পুলিশের রেকর্ডই বলছে, ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত শুধু উন্নাওতেই ৮৬টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। যৌন হেনস্থার অভিযোগ দায়ের হয়েছে ১৮৫টি। বলাই বাহুল্য, অভিযোগ জমা না হওয়া ও সামনে না আসা ঘটনার সংখ্যা আরও অনেকটাই বেশি।

স্থানীয়দের মতে, এই কারণেই অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে উন্নাও।

Share.

Comments are closed.