রবিবার, আগস্ট ২৫

‘কাশ্মীরিদের উপর হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণ’: ভুয়ো ভিডিয়ো ছড়ানোয় পাক সেনেটরের বিরুদ্ধে টুইটারকে অভিযোগ জম্মু কাশ্মীর পুলিশের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় ভূখণ্ডে থাকা কাশ্মীরি জনতার উপর ভারতীয় সেনাবাহিনীই নাকি গানশিপ হেলিকপ্টার দিয়ে গুলিবৃষ্টি করছে। একটি ভিডিয়ো টুইট করে এমনই অভিযোগ তুললেন পাকিস্তানের সেনেটর রেহেমান মালিক। পাল্টা জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের পক্ষ থেকে ওই টুইটকে মেনশন করে টুইটার কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হল। বলা হল, পাকিস্তান এ ভাবে ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। আপনারা ব্যাপারটা দেখুন।

রেহেমান তাঁর টুইটে লিখেছেন, “ভারতীয় সেনাবাহিনী গানশিপ হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের গ্রামবাসীদের উপর নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে। কিছু সাহসী কাশ্মীরি কোনও ভাবে চেষ্টা করে এই ভিডিয়ো আমাদের পাঠিয়েছে।” তিনি আরও বলেছেন, “এই হামলায় মহিলা, শিশু-সহ বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন।” কটাক্ষ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও। লিখেছেন, “এ বার কোথায় গেল প্রেসিডেন্টের ধ্যান?” রাষ্ট্রপুঞ্জকেও ওই টুইটে ট্যাগ করেছেন রেহেমান। একটি ১৫ সেকেন্ডের ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, কিছু মানুষ কয়েকজন রক্তাক্ত, আহতকে চ্যাংদোলা করে নিয়ে যাচ্ছেন। এবং একজন মহিলা কপাল চাপড়ে হাউ হাউ করে কাঁদছেন।

জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের নজরে পড়তেই এটি নিয়ে পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। তাদের দাবি, সম্পূর্ণ ভিডিয়োটি ভুয়ো। তবে এই ভিডিয়ো পাকিস্তানের আমলার হাতে যাওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কারণ কাশ্মীরের অধিকাংশ অংশেই ইন্টারনেট বন্ধ। কী ভাবে এই ভিডিয়ো ওখানকার সাধারণ মানুষ পাক সেনেটরকে দিলেন, তা-ও বুঝে উঠতে পারছেন না অনেকে। তবে অনেকের মতে, ৩৭০ বিলোপের পর পাকিস্তান যা যা বলেছে এবং করেছে, তাতে সারা দুনিয়ার সামনে ইসলামাবাদের নাক কাটা গিয়েছে। প্রায় কেউ পাত্তাই দেয়নি। ‘বন্ধু দেশ’ হিসেবে পরিচিত চিনকেও বিদেশমন্ত্রী জয় শঙ্কর বলে এসেছেন, এটা একেবারেই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এটা নিয়ে মতামত থাকতেই পারে। তবে নয়াদিল্লি এ নিয়ে বেজিং-এর সঙ্গে মতান্তর চায় না। কূটনৈতিক মহলের অনেকের মতে, গোটা ব্যাপারটা আয়ত্তের বাইরে চলে যাওয়ার পর পাকিস্তান এখন চেষ্টা করছে ভুয়ো ভিডিয়ো ছড়িয়ে ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে। যা পাকিস্তানের বহু পুরনো অভ্যেস বলেই মত তাঁদের।

Comments are closed.