বৃহস্পতিবার, জুন ২৭

সোহোর সেই দেখাতেই হ্যারির মনে হয়েছিল এ-ই সহধর্মিণী

চান্দ্রেয়ী  সেনগুপ্ত

#সাগরপারের রূপকথা – ১
লন্ডন শহরের ‘সোহো’ এলাকা বিনোদনের এক বহু প্রাচীন ও বহু পরিচিত এলাকা। শহরের অন্যতম দ্রষ্টব্য এটি। থিয়েটার, সিনেমা, পাব, নাইট-ক্লাব, রেস্তোরাঁ, স্ট্রীট ফুড কী নেই সেখানে।  লোকজন, গান বাজনা, হইহুল্লরে সবসময় জমজমাট সোহো। এই সোহোতেই ২০১৬ সালের জুলাই মাসে এক নাইট ক্লাবে এই রূপকথার শুরু। তখন কিন্তু এই গল্পের পাত্রপাত্রীরা কেউই জানতো না যে তারা এক ঐতিহাসিক ঘটনা রচনা করতে চলছে। 
তখন গ্রীষ্মকাল। ‘ইংলিশ সামার’ অতি মনোরম। নীল আকাশে সোনালি সূর্যর সোনাঝরা আলোয় চারিদিক ঝলমল করে। বৃষ্টিপ্রধান ব্রিটেনে সাধারণত সূর্যালোকের অভাব বলে, স্বল্পায়ু গ্রীষ্মকালের খুবই কদর। রাস্তাঘাট জমজমাট। লোকেরা ঘরের বাইরে বেশি সময় কাটাতে চায় – যতটা সম্ভব। ট্যুরিস্টদের ভিড়। রেস্তোরাঁ, টি-স্টল কফিশপগুলো দোকানের বাইরে চেয়ার পেতে দেয় খদ্দেরদের বসার জন্য। কাজের দিনগুলোতেও একটা ছুটিছুটি, খুশিখুশি ভাব। সূর্য যে মানুষের মনের উপর কতখানি প্রভাব ফেলে তা গ্রীষ্মপ্রধান দেশে বসে বোঝা মুশকিল। 
এমনি এক গ্রীষ্মসন্ধ্যায় সোহোর এক নাইট ক্লাবে গিয়ে হাজির হলেন ব্রিটেনের ছোট রাজকুমার, লেডি ডায়ানার কনিষ্ঠ পুত্র, প্রিন্স হ্যারি। শুধুমাত্র সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত এই ক্লাবে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ। নিমন্ত্রণ পাঠিয়েছিল তার এক বান্ধবী, ভায়োলেট ভন ওয়েস্টেনহল্‌জ। সে হ্যারিকে আলাপ করিয়ে দেবে তার এক বান্ধবীর সাথে – যাকে পাশ্চাত্য সামাজিক রীতিতে বলে ‘ব্লাইন্ড ডেট’। হ্যারির কাছে এটা নতুন ঘটনা নয়। এর আগেও তিনি বহুবার অচেনা মহিলাদের সাথে আলাপ করেছেন। নির্দিষ্ট সময়ে হ্যারি হাজির হলেন সেই নাইট ক্লাবে আর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ভায়োলেট হ্যারিকে পরিচয় করিয়ে দিলেন গল্পের নায়িকা, অতলান্ত-পারের বিদেশিনী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধিবাসী, মেগান মার্কেলের সাথে। বিখ্যাত আমেরিকান টিভি সিরিয়াল ‘স্যুট্‌স’এ রেচেল জেইন চরিত্রের অভিনেত্রী মেগান, এক সপ্তাহের জন্য লন্ডনে এসেছিলেন তাঁর সিরিয়ালের প্রমোশন করতে। সেই সঙ্গে প্রিয় বন্ধু সিরিনা উইলিয়ামস-এর টেনিস্‌ ফাইনাল খেলাটাও দেখে যাবেন উইম্বল্ডনে।
এরই ফাঁকে ঘটল নিয়তি- নির্ধারিত অভিসার। স্বমহিমায় স্বপ্রতিভ মিশ্রবর্ণের মেগানকে দেখামাত্রই হ্যারির মনে হয়েছিল যে এই পরিচয়  চিরস্থায়ী হবে। কিছুক্ষণ আলাপের পর, দুজনে একে অপরের প্রতি এতটাই আকৃষ্ট হয়ে পরেন যে তাঁরা পরেরদিন আবার দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন। এবং তার পরের দিনও।
হ্যারি পরে বলেন যে, প্রথম আলাপের পরই তিনি অনেকটা নিশ্চিত ছিলেন যে এই রমণীই তাঁর সহধর্মিণী হতে চলেছেন। তবুও জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত যাঁকে নিয়ে নিতে হবে, তাঁকে আরেকটু ঘনিষ্ঠ ভাবে জানা দরকার। সেই উদ্দেশ্যেই, তিন সপ্তাহ পর, হ্যারি আর মেগান বোত্‌সোয়ানায় যান ছুটি কাটাতে।      
বোত্‌সোয়ানা – দক্ষিণ আফ্রিকার একটি দেশ যা কালাহারি গেম রিজার্ভের জন্য বিখ্যাত। এই দেশটি হ্যারির জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ……… (ক্রমশ)
লন্ডনবাসী ডঃ চান্দ্রেয়ী সেনগুপ্ত পেশায় শিশুচিকিৎসক। সেন্ট মেরি’স হাসপাতালে কর্মরতা। চান্দ্রেয়ীর জন্ম ও শিক্ষা প্রধানত কলকাতায়। পেশায় চিকিৎসক হলেও তাঁর নেশা সাহিত্য সংস্কৃতির প্রতি, যার অনেকটা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া। নির্বাক চলচিত্র যুগের অভিনেতা চারু রায়ের দৌহিত্রী তিনি।  তিনি লন্ডনে গড়েছেন এক নাট্যদল, ইস্টার্র্ন থেস্‌পিয়ান্স। যেটি মননশীল মৌলিক নাটক পরিবেশন করে ইংল্যান্ডে সুখ্যাতি অর্জন করেছে। সম্প্রতি হয়ে যাওয়া ‘রয়েল ওয়েডিং’ নিয়ে তাঁর রচনা সাগরপারের রূপকথা।

Leave A Reply