মঙ্গলবার, জুন ২৫

স্বেচ্ছায় ধর্ম বদলে বিয়ে করেছিল পাক হিন্দু কিশোরীরা! স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিল আদালত

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইসলামাবাদ হাইকোর্টের রায়ে জয় হল পাকিস্তানের অপহৃত দুই হিন্দু নাবালিকার। আদালত জানাল, স্বামীর কাছেই তাদের ফিরিয়ে দিতে হবে।

দোলের আগে, গত ২০ মার্চ পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের ঘোটকি এলাকা থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে যায় ১২ বছরের রবীনা ও ১৪ বছরের রিনা। অভিযোগ ওঠে, দোলের প্রস্ততিতে যখন ব্যস্ত ছিল ঘোটকির ধারকি শহরের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন, তখনই অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় রবীনা ও রিনাকে। এর পরে অভিযোগ ওঠে, অপহরণ করে তাদের জোর করে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিতও করা হয়েছে।

এর আগেই ঘোটকি এলাকার হিন্দু পরিবারের বাসিন্দা রিনা ও রবিনা, এবং তাদের স্বামী সফদর আলি এবং বরকত আলি নিরাপত্তা চেয়ে একটা পিটিশন দাখিল করেছিলেন। জানিয়েছিলেন, তাঁরা স্বেচ্ছা ধর্ম পরিবর্তন ও বিয়ে করেছেন। কিন্তু তার পর থেকে তাঁদের ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছে পরিবারের তরফে।

এর পরে, দোলের সময় একটি ভিডিও ভাইরাল হতেই উত্তাল হয়ে ওঠে পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশ। অভিযোগ, ভিডিওয় স্পষ্ট দেখা গেছে বিয়ে দিয়ে দুই নাবালিকাকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করা হচ্ছে। প্রতিবাদে সকাল থেকে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। ধর্ণায় বসেছে দুই কিশোরীর পরিবারও। তাদের দাবি, তাদের মেয়েরা ১৩-১৪ বছরের কিশোরী। তাদের জোর করে নিয়ে গিয়ে ধর্ম বদল করিয়ে বিয়ে দেওয়া হয়েছে।

দুই নাবালিকার পরিবারের দাবি, পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও লাভ হয়নি। করাচির সেন্ট্রাল পুলিশের দাবি ছিল, তারা স্বেচ্ছায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। কারও চাপে নয়, স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে।

এর পরে চলছিল মামলা। বৃহস্পতিবার শুনানির পরে আলাদা করে ওই কিশোরীদের সঙ্গে এবং তাদের স্বামীদের সঙ্গে বসে কথা বলে মানবাধিকার কমিশনের সদস্যরা। তারাও জানায়, এই বিয়ে জোর করে হয়নি। উভয়পক্ষের স্বেচ্ছায় হয়েছে। শুধু তা-ই নয়। ধর্মান্তকরণেও কোনও জবরদস্তির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এবং ওই দুই কিশোরীর বয়স ১৮ এবং ১৯ বলে প্রমাণিত হয়েছে মেডিক্যাল পরীক্ষায়।

Comments are closed.