সোমবার, এপ্রিল ২২

পৃথিবীর ইতিহাসের কুখ্যাততম নরখাদক কি ফিজির উদ্রে?

রূপাঞ্জন  গোস্বামী:–   চারমুর্তি’ সিনেমায় প্যালারামকে ঘিরে নাচতে থাকা ঘুটঘুটানন্দ ও চ্যালা গজেশ্বর     গাড়ুইয়ের সেই গা ছমছমে গানটা মনে আছে ? ‘খাবো তোকে ঘ্যাচাং ফু, কামড়ে কুমড়ে খাবলে খুবলে খাবো তোকে ঘ্যাচাং ফু”। সিনেমাতে দৃশ্যটা অবাস্তব মনে হলেও ইতিহাসের পাতায় তা কিন্ত নির্মম বাস্তব। সারা পৃথিবী জুড়েই নরখাদকদের সন্ধান পাওয়া গেছে। ফিজি থেকে আমাজন অববাহিকায়, আফ্রিকার কঙ্গো থেকে নিউজিল্যান্ডের মাওরি জনগোষ্ঠীর মধ্যে। এমনকী হল্যান্ডেও। শোনা যায় উগান্ডার স্বৈরাচারী রাষ্ট্রনায়ক ইদি আমিনও নাকি নরখাদক ছিলেন।

কিন্ত পৃথিবীর ইতিহাসে কে সবচেয়ে নৃশংসতম নরখাদক ছিলেন জা নেন?  তার নাম আছে গিনেস বুকেও, রাতু উদ্রে উদ্রে। ফিজির এই আদিবাসী সর্দার অষ্টাদশ শতাব্দীতে প্রায় হাজারের  কাছাকাছি  মানুষকে আস্ত খেয়ে ফেলেছিল। প্রত্যেকটি মানুষকে খাওয়ার পর উত্তর ভিটিলেভুর রাকিরাকি এলাকার  একটি স্তূপে সর্দার উদ্রে উদ্রে তার শিকারের স্মৃতিতে একটি করে পাথর সাজিয়ে রাখতো।  ১৮৪০ সালে  মিশনারি রিচার্ড লিথ উদ্রে উদ্রের সমাধির পাশ থেকে ৮৭২ টি এরকম পাথর  পেয়েছিলেন । লিথ মনে করেন আরো বেশি পাথর ছিলো। স্থানীয়রা নিজেদের প্রয়োজনে অনেক পাথর ইতিমধ্যে সরিয়ে নিয়েছিল। উদ্রের এক ছেলে রাভাতু পাদ্রী লিথকে  বলেছিল যে তার বাবা সত্যি নরখাদক ছিলো।

উদ্রে উদ্রের উদরে যাওয়া সমস্ত হতভাগ্যই ছিলো ফিজির আদিবাসী গোষ্টীসংঘর্ষে হেরে যাওয়া যুদ্ধবন্দি। উদ্রে উদ্রের দলে থাকা  রাকিরাকির  আদিবাসী সর্দাররা  যখন যুদ্ধে যেত তারাও তাদের জীবিত বন্দি ও মৃত শত্রুর দেহ উদ্রে উদ্রের হাতে তুলে দিত। ছেলে রাভাতু লিথ সাহেবকে বলেছিলো যে তার বাবা মানুষের মাংস ছাড়া আর  কিছু খেত না।  উদ্রে উদ্রের ছেলে এ-ও জানিয়েছিল যে  তার বাবা হতভাগ্য মানুষদের পুরো শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গই খেত। একেবারে খেতে না পারলে অর্ধভুক্ত  দেহ একটা বাক্সে তুলে রাখতো। কিন্তু পরে পুরোটা খেয়ে নিতো।

অ্যানথ্রোপোলজি অফ ক্যানিবলিজম  বইয়ে  অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটির প্রফেসর লরেন্স গোল্ডম্যান লিখেছিলেন “আমরা ভয় পাই নরখাদক মানুষগুলোকে’, কিন্তু একই সঙ্গে প্রশংসা করি কারণ ওরা শক্তির প্রতীক ।”

যাই হোক, গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড, উদ্রে উদ্রেকে সবচেয়ে  নৃশংসতম নরখাদক মানুষ  হিসেবে স্বীকৃতি  দিয়েছে। উদ্রে উদ্রে জানলে খুশি হত। তার স্কোর হয়তো আরও বাড়ত। তবে এটা নিশ্চিত  পুরস্কার গ্রহণের দিনে মঞ্চ-সহ স্টেডিয়াম খালি হয়ে যেত উদ্রে উদ্রে ঢুকলে। কারণ সেধে স্তূপের পাথর হতে কে আর চায়!

Shares

Leave A Reply