শনিবার, নভেম্বর ১৬

বাংলাদেশে এ বার কি দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান হাসিনার?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাদক ব্যবসায়ীদের পরে বাংলাদেশে এ বার কি আর্থিক দুর্নীতিতে জড়িতদের পালা?

প্রশাসনিক শীর্ষ সূত্রের খবর, খুব শীঘ্র দুর্নীতি দমনে অভিযান শুরু করছে পুলিশ ও আর্থিক অপরাধ দমনের দায়িত্বে থাকা বাহিনীগুলি। সরকারের সর্বোচ্চ স্তর থেকে নির্দেশ আসার পরে দুর্নীতি দমন কমিশন ও পুলিশের আর্থিক অপরাধ দমন শাখার দফতরে এখন কয়েক হাজার সন্দেহভাজনের ফাইল এনে ঝাড়াই বাছাই করা হচ্ছে। ঈদের আগেই তালিকা তৈরি করে অভিযান শুরু হয়ে যেতে পারে।

মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও সরকার মোটের ওপর খুশি। এই অভিযানের পক্ষে জনমত রয়েছে বলে গোয়েন্দারা রিপোর্ট দিচ্ছে সরকারকে। অভিযানে ‘বিচারবহির্ভুত হত্যাকাণ্ড’ চালানো হচ্ছে বলে বিরোধী দল ও নাগরিক সংগঠনগুলি অভিযোগ করলেও তাতে আমল দিচ্ছে না শেখ হাসিনার সরকার। ১৯ মে থেকে শুরু অভিযানে এ পর্যন্ত প্রায় ১৩০ জন তথাকথিত ‘মাদক ব্যবসায়ী’ নিহত হলেও বিরোধী দলের কাউকে হেনস্থা করা হচ্ছে না বলে পুলিশের দাবি। বরং কক্সবাজারের ৩ নং ওয়ার্ডে শাসক দল আওয়ামি লিগের কাউন্সিলর একরাম আলিই রয়েছেন নিহতদের মধ্যে। এই হত্যাকাণ্ডের পরে পুলিশ আরও জোর গলায় বলতে পারছে, অভিযানে রাজনৈতিক রং দেখা হচ্ছে না।

একই ভাবে দুর্নীতি-বিরোধী অভিযানেও শাসক দলের কয়েক জন নেতা বা এমপি-কে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারে বলে খবর। কিন্তু সেই খবর ছড়িয়ে পড়ার পরেই ত্রাহি ত্রাহি রব পড়ে গিয়েছে ব্যবসায়ী মহলে। মাথা বাঁচাতে অনেকে শাসক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দর কষাকষি শুরু করেছেন। আপাতত এই প্রক্রিয়া চলছে বলেই পুলিশ তালিকা চূড়ান্ত করতে পারছে না। সে কারণে অভিযান পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন অনেকে।

প্রশাসনের একাংশের আবার আশঙ্কা— ভোটের আগে সরকার বিষয়টি নিয়ে যে ভাবে চাপে পড়েছে, তাতে শেষ পর্যন্ত দুর্নীতি-বিরোধী অভিযান বাতিল না হয়ে যায়। এক কর্তার কথায়, ‘‘লোম বাছতে গেলে তো কম্বল উজাড় হওয়ার অবস্থা হবে!’’

তবে প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্তা বলছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান হবেই— তা যে রকমই হোক। কারণ বছর শেষের নির্বাচনে এ বার শেখ হাসিনার স্লোগান হতে চলেছে— ‘জঙ্গিমুক্ত, মাদকমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে নৌকা মার্কায় ভোট দিন’। গত বার ছিল ‘ডিজিট্যাল বাংলাদেশ’। এ বার আর সেটা ভোটারদের সামনে আনা হচ্ছে না।

জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানে সাফল্য দাবি করতে পারে শেখ হাসিনার সরকার। মাদক-বিরোধী অভিযান চলছে। বাকি শুধু দুর্নীতি-বিরোধী অভিযান।

শাসক দলের এক শীর্ষ নেতার কথায়, নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি তুলে ধরতে দলের কিছু নেতা-মন্ত্রীকে বলি দিতে পিছপা হবেন না হাসিনা। সে বিষয়টি প্রচারও করা হবে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে। আপাতত এ রকমই পরিকল্পনা রয়েছে।

সুতরাং দুর্নীতিগ্রস্তরা সাবধান!!!

Leave A Reply