আমার বাবার অভিনয় প্রশংসা পেত, কিন্তু বক্সঅফিসে চলত সিক্সপ্যাকের নায়কদের ছবিই: ইরফান খানের ছেলে বাবিল

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেশ কয়েক দিন পেরিয়ে গিয়েছে তাঁর চলে যাওয়ার। ২৯ এপ্রিল মাত্র ৫২ বছর বয়সে ক্যানসারের কাছে তিনি হার মানার পরে শোকাচ্ছন্ন বলিউড অনেকটাই বেরিয়ে এসেছে তাঁর স্মৃতি ও শোক থেকে। কিন্তু ইরফান খানকে ভুলতে পারছে না বাবিল। অভিনেতার ছেলে এখনও যেন আচ্ছন্ন হয়ে আছে বাবার সবটুকু নিয়ে। কখনও ষন্ত্রণা, কখনও আক্ষেপ, কখনও কষ্ট, কখনও বা রাগ– প্রতি পলে ঝরে পড়ছে কিশোর মনে।

    তার স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায়। বাবিল খান বারবার বাবাকে নিয়ে লিখছেন সেখানে। কারণ যে কোনও কিছুতেই বাবার স্মৃতি তাঁকে কাঁদাচ্ছে। বাবার ভালবাসার কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন তিনি। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে ইরফান খানের কিছু পুরনো ছবি শেয়ার করে একটি লম্বা পোস্ট লিখেছেন বাবিল। আর তাতেই অভিযোগ করেছেন, “সুশান্তের মৃত্যুর পর বলিউডের পলিটিক্স নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। কিন্তু এর জন্য তো আমরাই দায়ী। আমার বাবার অভিনয় প্রশংসিত হলেও ওঁর ছবি হিট করত না। সিক্স প্যাকওয়ালা নায়কদের ছবিই হিট করত।”

    ইরফান চলে যাওয়ার পরে তাঁর স্ত্রী সুতপা শিকদার এবং ছেলে বাবিল ইরফান খানের স্মৃতিতে নানা কথা শেয়ার করেছেন বেশ কয়েক বার। তবে আচমকা বাবিল যে বলিউড নিয়ে এমন দীর্ঘ সমালোচনা করবেন, এত স্পষ্ট ভাষায় মতামত রাখবেন, তা হয়তো অনেকেই আশা করেননি।

    বাবিলের ওই ইনস্টাগ্রাম পোস্টের একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বাবার কোলে ছোট্ট বাবিল। আর একটি ছবিতে নিজের প্রিয় পোষ্যকে নিয়ে শুয়ে রয়েছেন ইরফান। এই ছবি দু’টি শেয়ার করে বাবিল লিখেছেন, “সিনেমার ছাত্র হিসেবে আমার বাবা আমাকে একজন প্রথমেই যে শিক্ষাটা দিয়েছিলেন তা হল, বলিউডে আমাকে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে কোনও কিছুর আশা না করেই। বাবা তাই করেছিলেন। ৬০ থেকে ৯০ দশক পর্যন্ত বলিউড ছবির সমাদর ছিল না পৃথিবীতে। তার একটা কারণ ছিল আমরা নতুনকে সহজে মানতে পারতাম না।

    যেমন আমার বাবা কত ভাল ভাল কাজ করেছেন, অন্য ধারার ছবি করেছেন। তাঁর অভিনয় প্রশংসিতও হয়েছে। কিন্তু বক্স অফিসে চলেনি। সেখানে সকলের মন জিতে নিয়েছেন সিক্স প্যাকের হিরোরা। তাঁদের ছবি দেখে সুপারহিট করেছি আমরাই। আসলে আমরা অবাস্তব জিনিস পছন্দ করি। আমরা বাস্তবের মুখোমুখি হতে ভয় পাই। সুশান্তের মৃত্যুর পরে বলিউডের যে পলিটিক্স নিয়ে কথা হচ্ছে, এর জন্যও তো আমরাই দায়ী। কোনও কিছুকে আকড়ে ধরে না থেকে নতুনকে মেনে নিতে হবে, উৎসাহ দিতে হবে।”

    View this post on Instagram

    You know one of the most important things my father taught me as a student of cinema? Before I went to film school, he warned me that I’ll have to prove my self as Bollywood is seldom respected in world cinema and at these moments I must inform about the indian cinema that’s beyond our controlled Bollywood. Unfortunately, it did happen. Bollywood was not respected, no awareness of 60’s – 90’s Indian cinema or credibility of opinion. There was literally one single lecture in the world cinema segment about indian cinema called ‘Bollywood and Beyond’, that too gone through in a class full of chuckles. it was tough to even get a sensible conversation about the real Indian cinema of Satyajit Ray and K.Asif going. You know why that is? Because we, as the Indian audience, refused to evolve. My father gave his life trying to elevate the art of acting in the adverse conditions of noughties Bollywood and alas, for almost all of his journey, was defeated in the box office by hunks with six pack abs delivering theatrical one-liners and defying the laws of physics and reality, photoshopped item songs, just blatant sexism and same-old conventional representations of patriarchy (and you must understand, to be defeated at the box office means that majority of the investment in Bollywood would be going to the winners, engulfing us in a vicious circle). Because we as an audience wanted that, we enjoyed it, all we sought was entertainment and safety of thought, so afraid to have our delicate illusion of reality shattered, so unaccepting of any shift in perception. All effort to explore the potential of cinema and its implications on humanity and existentialism was at best kept by the sidelines. Now there is a change, a new fragrance in the wind. A new youth, searching for a new meaning. We must stand our ground, not let this thirst for a deeper meaning be repressed again. A strange feeling beset when Kalki was trolled for looking like a boy when she cut her hair short, that is pure abolishment of potential. (Although I resent that Sushant’s demise has now become a fluster of political debates, but if a positive change is manifesting, in the way of the Taoist, we embrace it.)

    A post shared by Babil Khan (@babil.i.k) on

    বাবিলের এই দীর্ঘ পোস্টের ছত্রে ছত্রে ক্ষোভ ও যন্ত্রণা ফুটে উঠেছে। তাঁর তীব্র শ্লেষ, “আপনাকে বুঝতে হবে বক্সঅফিসে ফ্লপ মানে বেশিরভাগ লগ্নি আপনার উপর থেকে সরে যাচ্ছে। চলে যাচ্ছে সেই সিক্স প্যাকের বিজয়ীদের কাছে। তবে এখন একটা পরিবর্তন আসছে বাতাসে। নতুন প্রজন্ম আরও উদার। যদি কোথাও কোনও ইতিবাচক পরিবর্তন আসে তবে তাকে সাদরে আমন্ত্রণ করব আমরা।”

    কয়েক দিন আগে ইরফানের ছেলে বাবিল সুশান্তের মৃত্যু নিয়েও একটি পোস্ট করেছিলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। লিখেছিলেন, “হিন্দি ছবির দুনিয়ায় এমন প্রতিভা সত্যিই বিরল যিনি কোয়ান্টাম ফিজিক্স বোঝেন, কবিতা পড়েন, বাচ্চাদের নাসায় পাঠাতে চান, জ্যোতির্বিদ্যা ভালবাসেন সেই সঙ্গে যোগ এবং আধ্যাত্মবাদেও আগ্রহী।”

    ১৯৬৭ সালে রাজস্থানের এক পাঠান পরিবারে জন্মেছিলেন ইরফান খান। ছোট থেকেই অভিনয়ের প্রতি আলাদা ভালবাসা ছিল তাঁর। দিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামাতে নাটকের শিক্ষা নিয়েছিলেন। ইরফানের প্রথম সিনেমা ‘সালাম বম্বে’ অস্কারের জন্য নমিনেশন পেয়েছিল। সব সময় একটু অন্যধারার কাজ করেছেন তিনি। তিনি কখনই প্রচলিত চেহারার হিরো ছিলেন না। তাঁকে নিয়ে যেন একটি মূল্যায়ন করলেন তরুণ পুত্র বাবিল। যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখালেন, প্রতিভার অপচয় ও অবহেলাকে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More