চার দশকের নিষেধ ভেঙে ইরানের ফুটবল স্টেডিয়ামে মহিলারা! আনন্দে পরিপূর্ণ ‘আজাদি’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেয়েদের ফুটবল স্টেডিয়ামে ঢোকা বারণ ছিল সেখানে। শেষমেশ ফিফার হস্তক্ষেপে আগল ভাঙল চার দশক পরে। ফুটবল স্টেডিয়ামে প্রবেশাধিকার পেলেন ইরানি মহিলারা।

ইরানে মেয়েদের ফুটবল খেলা দেখতে না দেওয়া নিয়ে বিতর্ক বহু দিনের। এই বিতর্কিত নীতির বিরোধিতা করে ফুটবলের আসর থেকেই ইরানকে বহিষ্কারের হুমকি দেয় ফিফা। এর পরেই স্টেডিয়ামে মেয়েদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় ইরান। ফিফা ২০২২ বিশ্বকাপের বাছাই-পর্বের ম্যাচে  বৃহস্পতিবার তেহরানের আজাদি স্টেডিয়ামে কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে খেলেছে ইরান। চার দশক পর আজাদি স্টেডিয়ামে বসে এই ম্যাচটি দেখার ‘আজাদি’ পেলেন সেখানকার মহিলারা।

ধর্মীয় নেতাদের নির্দেশে ৪০ বছর ধরে মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ দেখতে দেওয়া হয়নি ইরানে। সম্প্রতি এক ইরানি তরুণী পুরুষের ছদ্মবেশে স্টেডিয়ামে ফুটবল খেলা দেখতে গিয়ে ধরা পড়ে যান। তার পর থেকে তাঁর উপরে নানা ধরনের মানসিক অত্যাচার চালানো হচ্ছিল। শেষমেশ গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। এই ঘটনার পরেই ফিফা আরও বেশি কড়া হয়।

যদিও বিদেশি সংস্থা ফিফার চাপেই যে এই নিষেধাজ্ঞা উঠেছে, তা স্বীকার করেনি ইরানের সরকার।

বৃহস্পতিবারের ম্যাচে মেয়েদের জন্য আলাদা টিকিট বিক্রি শুরু হতেই আধ ঘণ্টার মধ্যে সব বিক্রি হয়ে যায়। মেয়েদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা হয় স্টেডিয়ামের ঘেরা জায়গায়। সাড়ে তিন হাজার মহিলা স্টেডিয়ামে এসে উদযাপন করেন এই মুক্তির আনন্দ। ইরানের ক্রীড়া মন্ত্রকের তরফে বলা হয়, আজাদি স্টেডিয়ামে আরও বেশি সংখ্যক মহিলা আগামী দিনে পুরুষদের ফুটবল দেখতে পারবেন।

মহিলা ক্রীড়াসাংবাদিক রাহা পুরবাখ‌্স বলেছেন, ‘‘এটা এখনও বিশ্বাসই হচ্ছে না! বছরের পর বছর ধরে আমরা টেলিভিশনে ম্যাচ দেখে খবর লিখেছি। এ বার সব কিছু সামনে থেকে দেখে লিখতে পারব, ভাবতেই পারছি না।’’ তবে অনেকে ইচ্ছে থাকলেও, দূরদূরান্ত থেকে তেহরানে এসেও টিকিটের অভাবে ঢুকতে পারেননি স্টেডিয়ামে।

যার হস্তক্ষেপেই হোক না কেন, সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তে দারুণ খুশি সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে মহিলারা তো বটেই। তবে তাঁরা এবার দাবি করছেন, আলাদা করে ঘেরা জায়গায় নয়, নারী-পুরুষ একসঙ্গে বসেই ম্যাচ দেখতে চান তাঁরা। একই সঙ্গে এমন আশঙ্কার কথাও শোনা গিয়েছে, এত দিনের অনভ্যাসের পরে স্টেডিয়ামে হঠাৎ মেয়েদের আসতে দেখে কোনও অশালীন আচরণ না ঘটে।

পড়ুন, দ্য ওয়ালের পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…

সুন্দরবনের  দুটি দ্বীপ, ভূমি হারানো মানুষ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More