শুক্রবার, নভেম্বর ১৬

চোখ দিয়েই পৃথিবী দেখা! সেই চোখ ভালো রাখার উপায় কী? চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ শৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চেম্বারে দ্য ওয়াল

আমাদের চোখে কোনও সমস্যা না হলে আমরা চোখের ডাক্তারের কাছে যাই না। কিন্তু সমস্যা হলেই খোঁজ পড়ে চোখের চোখ ভালো রাখা যায় কী ভাবে সে পরামর্শ নেওয়ার ধার ধারি না। অথচ একটু যত্ন নিলেই অনেক সমস্যা এড়িয়ে চলা যায়।

চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর শৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বললাম আমরা। প্রথমেই সার্বিকভাবে চোখের যত্ন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডাক্তারবাবু বললেন, তেমন কিছুই নয় তবে কিছু জিনিস আমাদের মনে রাখা উচিত এই সাংঘাতিক ব্যস্ত গতিময় টেকনোলজি সর্বস্ব জীবনে।

চোখের যত্নে কী কী করবেন আপনি? কী বলছেন ডাক্তারবাবু?

দ্য ওয়াল- এই মোবাইলের যুগে চোখ ভালো রাখার পথ কি আছে কোনও?

আমাদের ঘুম ভাঙে আজকাল মোবাইলের মেসেজে বা নোটিফিকেশনে। এমনকী, ঘুমোতেও যাই মোবাইলে গান শুনে বা কোনও ভিডিও দেখে, কথা বলে। আবার ডিজিট্যাল মিডিয়ায় সর্বক্ষণ কাজেও ডুবে থাকি। তাহলে আমাদের চোখ ল্যাপটপ, মোবাইল কোনও কিছু থেকেই সরছে না!

ডঃ শৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমেই ২0:২0:২0 এই রেশিওতে ভাগ করে নিতে হবে। মানে ২০ মিনিট কাজের পর ২০ সেকেন্ড  ২০ ফুট দূরের জিনিস দেখুন। চোখ বিশ্রাম পাবে। ল্যাপটপ বা মোবাইলে আলো কমিয়ে রাখুন। এতে চোখ ভালো থাকবে। এমনকী বাড়িতে এল ই ডি-র মতো জোরালো আলোর বদলে মৃদু আলো রাখুন। এল ই ডির আলোর রিফ্লেকশন বা “ফোটন ফ্লাক্স” চোখের মারাত্মক ক্ষতি করে। অর্থাৎ যন্ত্র থেকে, জোরালো আলো থেকে যতটা পারুন দূরেই থাকুন।

দ্য ওয়াল- দৃষ্টি ভালো রাখার জন্য কোন কোন খাবার ভালো।আমরা প্রায়ই শুনি সবুজ শাকসব্জি খুব ভালো চোখের জন্য।

ডঃ শৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায় – আজকাল পরিমাণ কেমিক্যাল ব্যবহৃত হয় সবুজ শাকসব্জিতে রাসায়নিক ব্যবহার বেড়ে গেছে। ভুট্টা খান। তাতে শরীর এবং চোখ দুইই ভালো থাকে। খান কুমড়ো, গাজর, আম। খেলেও শরীরের উপকার এ ছাড়া সেদ্ধ খান চোখ ভালো থাকবে।

দ্য ওয়াল – ঋতু পরিবর্তনের সময় চোখের ঠান্ডা লাগা প্রতিরোধের উপায়? খালি পায়ে হাঁটা আদৌ চোখের জন্য ভালো?

ডঃ শৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায় – সিজ়ন চেঞ্জের সময়ে চোখের অ্যালার্জি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা হয় অনেকেরই। তাঁদের জন্য পরামর্শ –ঈষদুষ্ণ জলের সেঁক বা গরম চায়ের কাপের সেঁক দিন বারবার। তবে বারবার চোখে জলের ঝাপটা কখনওই নয়। অনেকেই জোরে ঝাপটা দিয়ে চোখ ধোন, একেবারেই সেটা করবেন না। এসব করে চোখের বারোটা বাজিয়ে কোনওমতেই খালি পায়ে ঘাসের উপর হাঁটলে লাভ হবে না। উল্টে ক্ষতিই হতে পারে এতে। কারণ এর কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তিই নেই। ফলে পায়ে কোনও কিছু ফুটে গেলে তা নিয়ে ভুগতে হবে আপনাকেই।

দ্য ওয়াল- ছোটবেলায় চশমা হয় অনেক কারণে, সেগুলো কী কী? এবং কী ভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব? 

ডঃ শৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায় – চোখের লেন্সের মাপ ২৩ মিলিমিটারের কম বা বেশি হলেই এই গয়না হয় আমাদের। আরো খোলাখুলি বললে আমাদের প্রত্যেকের চোখের লেন্সের মাপ ২৩ মিলিমিটার। এই মাপ কম হলে হয় হাইপার মেট্রোপিয়া, যাতে লাগে প্লাস পাওয়ার।আর উল্টোটা অর্থাৎ ২৩ মিলিমিটারের বেশি হলে হয় মায়োপিয়া অর্থাৎ লাগে মাইনাস পাওয়ারের চশমা। অনেক ক্ষেত্রে বংশগত সমস্যার শিকারও হয় অনেকে।

দ্য ওয়াল- চশমার বদলে লেন্স অনেকেই ব্যবহার করেন, সেক্ষেত্রে সমস্যাও বিবিধ-সেগুলো কী কী? এবং প্রতিরোধের উপায়?

ডঃ শৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায় – যে কোনও  প্লাস্টিকের মতো এই লেন্সও প্লাস্টিক। আপনি যত দামী লেন্সই ব্যবহার করুন তা আসলে ভালো কোয়ালিটির প্লাস্টিক। ফলে আপনার চোখের জলীয় অংশ থেকেই সেটি তুলনামূলক ভাবে নরম থাকতে চায়। সে কারণে আপনার চোখে লেন্সের ব্যবহার যত বেশি হবে আপনার চোখের জল তত শুকোবে জলদি। টানা ৬-৮ ঘণ্টার বদলে অনেকেই ১০-১২ ঘণ্টা লেন্স ব্যবহার করেন, যা একদমই উচিত নয়। আজকাল বেশিরভাগই এসিতে বসে কাজ, ফলে প্লাস্টিক লেন্সও শুকিয়ে যায় তাড়াতাড়ি।এর প্রভাব তো আপনারই চোখে পড়ছে।কারণ চোখ শুকোলে আপনার চোখের পাতা পড়বে ঘনঘন, লেন্সে ঘসা খাচ্ছে বারবার। এ বার ভাবুন ঘসা কাঁচে কেমন দেখতে পান আপনি! আপনার লেন্সেও সেরকম হচ্ছে।তাই লেন্স পরতেই যদি হয় নির্দিষ্ট সময় অন্তর তা বদলে ফেলুন এবং সঙ্গে ব্যবহার করুন আই ড্রপ।

এক রোগীর নেত্রনালী শুকিয়ে গেছে এবং যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে তাঁর চোখের। সঠিক সময়ে চিকিৎসা করাতে পারেননি তিনি। ডাক্তারবাবু বলছেন ড্রেনেজ সিস্টেম যেভাবে কাজ করে আমাদের চোখের নালিগুলোও সেভাবেই কাজ করে।তাই সেগুলো একবার জমে যেতে শুরু করলে সমস্যা হয়। চোখের চিকিৎসায় ডাক্তারবাবু কী বলছেন রইল তার কিছু ভিডিও অংশ আপনাদের জন্য।

—অতএব ডাগর ডাগর হোক বা কোটরে ঢোকানো, ভাসা ভাসা হোক বা পটলচেরা….চোখের যত্ন নিন। সুস্থ থাকুন।

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মধুরিমা রায়।

Shares

Comments are closed.