বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৯

নববর্ষে মায়ের হাতের মাটন খাবেন, মেক্সিকান ফুডও খুব প্রিয় রানি রাসমণির

  • 163
  •  
  •  
    163
    Shares

খেতে ভালোবাসেন মেক্সিকান ফুড, মিষ্টি মোটেও পছন্দ নয়। তবে পয়লা বৈশাখ বলে কথা, মিষ্টি খান, বা না খান মায়ের হাত ধরে দোকানে দোকানে পৌঁছে যেতেন এতবছর। তবে শেষ দুবছরে ছবিটা অল্প হলেও পাল্টেছে দিতিপ্রিয়া রায়ের। সন্ধে নামলে বাঙালির ঘরে শাঁখ বাজে যে অভ্যাসে, তেমনি আজকাল রানি রাসমণি দেখেন বাড়ির মা কাকিমা দিদি বৌদিরা। যে রাসমণি নিজের এতগুলো ছেলে মেয়ের দায় দায়িত্বে জেরবার, এর সঙ্গে পরিচিত প্রতিবেশীদের দায়িত্ব নিতেও সাবলীল, সেই চরিত্র করতে করতে ছটফটে দিতিপ্রিয়া কি কোথাও হারিয়ে যাচ্ছেন! মধুরিমা রায়ের সাথে নতুন বছরের আগে আড্ডা দিলেন দিতিপ্রিয়া রায়।

দ্য ওয়াল:  পয়লা বৈশাখে কী করছ?
দিতিপ্রিয়া: আসলে এতবছর মায়ের সাথে প্রায় সব দোকানে যেতাম, মিষ্টি খেতে তো ভালোবাসি না। কিন্তু খুব ভালোলাগে এই দিনে ঘুরে ঘুরে মিষ্টির বাক্স নিতে, কোল্ডড্রিঙ্কস খেতে। তবে আজকাল আর অতটা করতে পারছি না। কারণ দোকানে ভিড় হয়ে যায় আমি গেলে। তাই কম কম দোকানে যাচ্ছি। একেবারে যাওয়া ছেড়ে দিতে পারছি না। এ বছর আমার ‘শুট’ থাকলে করব। নইলে নববর্ষের সারাটা দিন বাড়ির লোকের সাথে খুব মজা করব। এই দিন আমি জমিয়ে খাই। মায়ের হাতের রাঁধা মাটন আমার সবচেয়ে পছন্দের। এটা বছরকার দিনের জন্য স্পেশাল। আর বাঙালি সাজে খুব সাজব। সারাবছর তো সেভাবে শাড়ি পরি না। তবে হ্যাঁ রাসমণির জন্য পরতে হয়। এবছর আমি পয়লা বৈশাখের আনন্দের জন্য ওয়েট করে আছি।

দ্য ওয়াল: তুমি কি খুব বেশি খাওয়া দাওয়া করো আদৌ?
দিতিপ্রিয়া: হ্যাঁ হ্যাঁ, আমি খুবই ‘ফুডি’। আসলে আমার ক্ষেত্রে সরু পেটে গরু ঢোকে বলাই যায়। আমি স্পাইসি ফুড খেতে প্রচণ্ড ভালোবাসি। তাই মেক্সিকান ফুড আমার খুব প্রিয়। পরিমাণে অল্প হলেও বিভিন্ন রকম খাবার আমি সবসময়েই খেতে থাকি। মুখ আমার চলতেই থাকে। এমনিতে সারাদিনের খাবারে আমার চিকেন চাই অন্তত একবার। আমাকে চিকেন সেদ্ধ করে দিলেও আমি আনন্দে খেয়ে নেব। তাই আমার খাওয়া দাওয়া নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। আমি চিকেনের সঙ্গে চিংড়ি মাছ খেতেও খুব ভালোবাসি। তাই কেউ আমাকে ভালোবেসে চিংড়ি আর চিকেন খাওয়ালে আমি অনেককিছুই ছেড়ে দিতে পারি।

দ্য ওয়াল: সারাদিন কী করো তুমি?
দিতিপ্রিয়া: ঘুম থেকে উঠে আমি রোজ এক্সারসাইজ করি। এরপর স্কুল , পড়াশোনা, তারপরে ‘শুট’। বাড়ি ফিরে পরের দিনের হোমওয়ার্ক মায়ের সাথে গল্প, আড্ডা— আমার দিন শেষ হয়ে যায়। মা বলে মায়ের পেছনে লেগে লেগেই আমার দিন কাটে।

দ্য ওয়াল: মা, না বাবা, কার কাছের মানুষ তুমি?
দিতিপ্রিয়া: মা আমার অনেক বেশি কাছের। আর বাবা বললে, মনে হয় পার্টনার ইন ক্রাইম। বাবার সাথে টিভি দেখা থেকে শুরু করে, ঝামেলা করা, মারপিট করা সবকিছুতে বাবা আমার সঙ্গী। আসলে মা বাবার একটা মেয়ে হলে সকলেরই যেমন হয় আমারও তেমন। আদরে কোনও ভাগ নেই।

দ্য ওয়াল: লেখাপড়া আর শুট একসাথে সামলাও কী করে?
দিতিপ্রিয়া: শুরু থেকেই চ্যানেল (zee বাংলা) এই বিষয়টা জানত, তাই দিনের যে কোনও একটা হাফে আমার ‘শুট’ থাকে। যে হাফে এটা থাকে অন্য হাফে আমি পড়া তৈরি করে নিই। আমার অসুবিধে হয় না। আমি পাঠভবনের ক্লাস ইলেভেনের ছাত্রী। এই তো আমার রেজাল্ট আউট হল। ৬০ পার্সেন্ট পেয়েছি। হিউম্যানিটিজ-এর স্টুডেন্ট আমি। আমার এই পার্সেন্টেজে আমার তো কোনও সমস্যা নেই। বরং ভালোই লাগল এই মার্কস পেয়ে। কাজেই ব্যালেন্স করতে এখনও সমস্যা হচ্ছে না।

দ্য ওয়াল: শুট করতে অসুবিধে হচ্ছে এখন? সদ্য বিধবার রোল, আর তুমি মাত্র ১৭ বছর?
দিতিপ্রিয়া: হ্যাঁ সমস্যা প্রথমদিকে হয়েছে, আমি এমনিতে খুবই ছটফটে, কথা বলতে ভালোবাসি, সারাক্ষণ এদিক ওদিক করি, অথচ এখন আমায় খুব গম্ভীর হয়ে রোল করতে হয়, রাজা মারা গেছে সিরিয়ালে। দুঃখ দুঃখ ক্যারেকটার। তবে আমাদের অভিনয় করতে করতে এই অভ্যাসটা হয়ে যায়। আমরা অসুবিধে হলেও করে নিই। তাই অভ্যাস হয়ে যাচ্ছে।

দ্য ওয়াল: দিতিপ্রিয়া অবসর কাটায় কী করে?
দিতিপ্রিয়া: আমি ছবি আঁকতে খুব ভালোবাসি। যদিও শিখিনি কখনও। আমি নাচ, আঁকা, গান, সাঁতার কিছুই শিখিনি আলাদা করে। আমি আসলে প্রথাগতভাবে কিছুই কখনও শিখিনি। তাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে যা আসে তাই করি। আমার রঙ খুব ভালোলাগে। রঙ আমাকে খুব টানে।

দ্য ওয়াল: দিতিপ্রিয়ার গান নিয়ে খুব আলোচনা হয়েছে, কী বলবে?
দিতিপ্রিয়া: কী আর বলব, আমার আলাদা করে বলার কিছু নেই। ইটস কুল। আমি যেমন, তেমনভাবেই আমার দর্শকরা আমায় ভালোবাসেন। তাই আমিও কোনও আলাদা কিছু করি না। বললাম যে খুব স্পনটেনিয়াস আমি। আমি যেভাবে গাইতে পারি, সেভাবেই গেয়েছি। তাতে সেখানকার লোকজন আমায় ভালোবেসেছেন। যাদের যা কিছু ভালোলাগবে না, তারা সেগুলো না দেখলেই তো পারেন। আমি আলাদা করে দেখি না আমার দর্শকদের, তাই আমি যা পারি সেভাবেই গাই।

দ্য ওয়াল: সাঁতার শেখোনি বললে, অথচ সুইমস্যুটে তো আমরা দেখেছি তোমায়?
দিতিপ্রিয়া: হ্যাঁ যা গরম পড়েছে, আমি তো সময় পেলেই পুলে গিয়ে নিজেকে চুবিয়ে বসে থাকি। সকলকে বলব এই গরমে চেষ্টা করুন মাঝেমাঝেই জলে নেমে শরীর চুবিয়ে নিজেকে ঠাণ্ডা করে নিতে।

দ্য ওয়াল: রানির চরিত্র ছাড়া আর কী করছ এখন?
দিতিপ্রিয়া: আমি একটা বাংলা ছবিতে কাজ শুরু করেছি। নাম ‘অভিযাত্রিক’। শুভ্রজিৎ মিত্রের পরিচালনায় ছবিটি শুরু হয়েছে। মধুর ভাণ্ডারকরের প্রোডাকশনের সম্ভবত এটা প্রথম বাংলা ছবি। তাই আমি খুবই এক্সাইটেড। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অপু’ নিয়ে সত্যজিৎ রায় সিনেমা করেছিলেন। বিখ্যাত ট্রিলজি ‘পথের পাঁচালি’, ‘অপরাজিত’ এবং ‘অপুর সংসার’। পরিচালক শুভ্রজিৎ মিত্র ‘অপরাজিত’ উপন্যাসের শেষ ১০০টি পাতার ওপরই বানাচ্ছেন ‘অভিযাত্রিক’।এতে আমি লিড করছি বলাই যায়। আমি অপর্ণা সেনের চরিত্রটা করছি। এখানে কাজ করতে পেরে যতটা টেনশন হচ্ছে ততটাই হোপফুলও আমি। দর্শকরা ভালোবাসলে আর আমার কাজ ১০০ শতাংশ ঠিক হলে ছবিটা ভালোলাগবে সকলের, এই আশা করছি। এই ছবিটার জন্যই বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে বারবার পড়ছি। চরিত্রগুলো বোঝার চেষ্টা করছি।

দ্য ওয়াল: রাসমণির কী হবে তাহলে? ডেটের সমস্যা হচ্ছে না?
দিতিপ্রিয়া: না, আমি চ্যানেলকে জানিয়ে দিয়েছি সবটা। এখন দেখা যাক বাকিটা কী হয়। তবে দর্শকরা আমার কাছে, রানির কাছে সবসময় খুব প্রিয়, এটা সকলকে বলব মনে রাখতে।

দ্য ওয়াল: আগামী বছর, নতুন বছরের জন্য কী বলবে দর্শককে?
দিতিপ্রিয়া: খুব আনন্দে থাকুন সকলে, আর রানিকে ভালোবাসুন। অবশ্যই ‘অভিযাত্রিক’ দেখুন। কারণ বাংলার কাছে বাঙালির কাছে অপু তো একটা নস্ট্যালজিয়া, আশা করি আপনাদের ভালোবাসায় আমি চরিত্রটার সাথে জাস্টিস করে উঠতে পারব।

Comments are closed.