প্লাজ়মা থেরাপি কী, তার প্রয়োগ কেমন, অসুবিধাই বা কী! বিস্তারিত সাক্ষাৎকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের

সরাসরি 'দ্য ওয়াল'-এর সঙ্গে কথা বললেন ডক্টর শুভ্রশঙ্খ দত্ত। ব্লাড-ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

সার্স-কোভিড-২ বা কোভিড ১৯ নামক ভয়াবহ মহামারীর দাপটে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়। কয়েক লক্ষ মানুষ আক্রান্ত, মারা গেছেন দু’লক্ষেরও বেশি মানুষ। এখনও এই রোগের কোনও কার্যকরী এবং অনুমোদিত ওষুধের অস্তিত্ব জানা যায়নি, কোনও ভ্যাকসিনও আবিষ্কৃত হয়নি। ঠিক এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, হিউম্যান কনভ্যালেসেন্ট প্লাজমা থেরাপি বা কোভিড ১৯এর রোগমুক্ত মানুষের রক্তরস দিয়ে অসুস্থদের চিকিৎসা করার পদ্ধতিই চিকিৎসকদের কাছে একটি গ্রহণযোগ্য বিকল্প হিসেবে দেখা দিয়েছে। তাই সারা দেশজুড়ে কোভিড লড়াইয়ে এখন যে শব্দটা বারবার ফিরে আসছে, আশার আলো জ্বালছে, তা হল এই ‘প্লাজ়মা থেরাপি’। শোনা গেছে, এই থেরাপির মাধ্যমে নাকি রুখে দেওয়া যাচ্ছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণকে। কিন্তু জনমানসে প্রশ্ন ওঠে, ঠিক কী এ প্লাজ়মা থেরাপি?

এ নিয়ে সরাসরি ‘দ্য ওয়াল’-এর সঙ্গে কথা বললেন ডক্টর শুভ্রশঙ্খ দত্ত। ব্লাড-ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত।

দ্য ওয়াল: প্লাজ়মা থেরাপির সঙ্গে আপনি যুক্ত?

ডক্টর দত্ত: যদিও এই চিকিৎসা পদ্ধতির প্রয়োগ বা ট্রায়ালের সঙ্গে আমি সরাসরি ভাবে যুক্ত নই, তবু ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিশেষজ্ঞ হওয়ার কারণেই এই প্রসঙ্গে নানা স্তরের মানুষের বিবিধ প্রশ্নাবলীর মুখে পড়তে হচ্ছে আমাকেও। সেই কারণে, বিজ্ঞানের বিভিন্ন পত্রপত্রিকা, গবেষণার রিপোর্ট এবং তথ্যভারাক্রান্ত সংবাদ-সুনামির আবহে দাঁড়িয়ে আমি বিষয়টা পরিষ্কার করে বোঝানোর চেষ্টা করব।

দ্য ওয়াল: কনভ্যালেসেন্ট প্লাজমা থেরাপি কি?

ডক্টর দত্ত: এটি একটি পরোক্ষ অ্যান্টিবডি থেরাপি, যাতে কোভিড ১৯ রোগের বিরুদ্ধে কাজ করবে এমন অ্যান্টিবডি একজন কোভিড ১৯ পজিটিভ রোগীর শরীরে, সেই রোগটি প্রতিকার এবং নির্মূল করার জন্য প্রয়োগ করা হয়। এই অ্যান্টিবডি শুধুমাত্র একজন কোভিড ১৯ আক্রান্ত এবং পরে রোগমুক্ত হওয়া মানুষের রক্তরস বা প্লাজমা থেকেই পাওয়া যায়।

দ্য ওয়াল: এটি কি নতুন কোনও পদ্ধতি?

ডক্টর দত্ত: না। এই পরোক্ষ অ্যান্টিবডি প্রয়োগ করে চিকিৎসার ইতিহাস বহু পুরনো। আনুমানিক ১৮৯০ সালে এর উৎপত্তি। ১৯৪০ সালে, অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের বহুল ব্যবহার আরম্ভ হওয়ার আগে পর্যন্ত, এই পদ্ধতি যথেষ্ট প্রচলিত ছিল। বিগত দুই দশকে, সার্স, মার্স এবং ইবোলা মহামারীতে, এই কনভ্যালেসেন্ট প্লাজমা থেরাপি খুবই কার্যকরী বলে প্রতিপন্ন হয়েছে।

দ্য ওয়াল: এটি কি কোনও ভ্যাকসিন হিসেবে ব্যবহৃত?

ডক্টর দত্ত: না। এটি কোনও ভ্যাকসিন বা টিকা নয়। পরোক্ষ অ্যান্টিবডি প্রয়োগ একজন আপাত ‘অরক্ষিত’ মানুষের শরীরে এই রোগের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করে। কিন্তু টিকাকরণের ক্ষেত্রে, মানবদেহে এই প্রতিরোধী ব্যবস্থা গড়ে উঠতে কিছুটা সময় নেয়। এই প্রতিরোধী ক্ষমতা ব্যক্তিবিশেষেও ভিন্ন ভিন্ন হয়, অর্থাৎ একই রোগের বিরুদ্ধে একই টিকার ফল এক এক জনের ক্ষেত্রে এক এক রকম হতে পারে। মোটামুটি ভাবে বলা যেতে পারে, যে যতদিন না কোভিড ১৯ এর কোনো কার্যকরী টিকা না আবিষ্কৃত হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত এই কনভ্যালেসেন্ট প্লাজমা থেরাপি একটি মধ্যবর্তী স্টপগ্যাপ পদ্ধতি হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে।

দ্য ওয়াল: এটি কোভিড ১৯-এর বিরুদ্ধে ঠিক কী ভাবে কাজ করে?

ডক্টর দত্ত: যে কোনও রোগের কনভ্যালেসেন্ট প্লাজ়মাতে সেই রোগের জীবাণুকে ব্যর্থ করার অ্যান্টিবডি মজুত থাকে। কোভিড ১৯-এর ক্ষেত্রে, এই পরোক্ষ অ্যান্টিবডির সম্ভাব্য কার্যশৈলীও এই একই ভাইরাস ব্যর্থকরণের পদ্ধতি।

দ্য ওয়াল: এই কনভ্যালেসেন্ট প্লাজ়মার উৎস কি?

ডক্টর দত্ত: এক ও একমাত্র, যে রোগীরা কোভিড ১৯ থেকে সেরে উঠেছেন, তাঁদের রক্তরস। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সমস্ত উপসর্গ থেকে মুক্তির ২৮ দিন পরে প্লাজমা দান করতে পারেন। অথবা কোভিড ১৯-এর উপসর্গ-মুক্তির ১৪ দিন পরে, যদি পরপর দু’বার, অন্তত চব্বিশ ঘন্টার ব্যবধানে এঁদের লালারসের রিয়াল টাইম পিসিআর পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে, তবেই এঁরা রক্তরস দান করার জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবেন।

দ্য ওয়াল: কি ভাবে এই প্লাজমা সংগৃহীত হয়?

ডক্টর দত্ত: এই প্লাজমা সংগ্রহ করার পদ্ধতি রক্তদানের মতোই সরল। দাতা ও গ্রহীতার ব্লাড গ্রুপ একই হতে হবে। পুরুষ দাতা হলে ভাল। যে যন্ত্রে এই রক্তরস সংগৃহীত হয়, তাকে বলে অ্যাফেরেসিস মেশিন। আর যেহেতু কেবলমাত্র প্লাজমা-ই সংগৃহীত হয়, এই পদ্ধতিকে বলা হয় প্লাজ্মাফেরেসিস। একটি সিটিং-এ, একজন কোভিড রোগমুক্ত ব্যক্তির থেকে ৪০০ -৫০০ মিলিলিটার প্লাজ়মা বা রক্তরস সংগ্রহ করা হয়। একই দাতা প্রথম প্লাজমা দানের দু’সপ্তাহ পরে আবার দ্বিতীয় বার দান করতে পারেন।

দ্য ওয়াল: প্লাজমাফেরেসিসের আগে দাতার কী কী রক্তপরীক্ষা করা প্রয়োজন?

ডক্টর দত্ত: সচরাচর, সিংগল ডোনার প্লেটলেট বা এসডিপি দানের আগে সম্ভাব্য দাতার যা যা পরীক্ষা করা হয়, এক্ষেত্রেও তাই হয়। যেমন, রক্তের গ্রুপ, হেপাটাইটিস বি, সি এবং এইচআইভি-র পরীক্ষা, ম্যালেরিয়া এবং আরপিআর বা বিভিন্ন যৌনরোগের পরীক্ষা, কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট, প্লেটলেট কাউন্ট ইত্যাদি। এ ছাড়া আরও দু’টি পরীক্ষা করা হয়। প্রথমটি হলো অ্যান্টি কোভিড ১৯-এর অ্যান্টিবডির টাইট্রেশন পরীক্ষা (আইজিজি এবং আইজিএম উভয় প্রকার অ্যান্টিবডি), আর দ্বিতীয়টি হলো দাতার রক্তে সার্স-কোভিড-২ এর ব্যর্থকরণ অ্যান্টিবডির উপস্থিতির পরীক্ষা। এই পরীক্ষা দু’টির মাধ্যমে দাতার কনভ্যালেসেন্ট প্লাজমাতে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডির পরিমাণ এবং ঘনত্ব পরিমাপ করা সম্ভব হয়, এবং এর ফলে বোঝা যায়, কোন দাতা রক্তরস দানের উপযুক্ত, আর কে নন।

দ্য ওয়াল: কোভিড ১৯ থেকে সেরে ওঠার পরে এত তাড়াতাড়ি প্লাজমাদান কি দাতার কোনও বিপদ ডেকে আনতে পারে?

ডক্টর দত্ত: না। এই প্লাজমাফেরেসিস পদ্ধতি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। দানের আগে, সংশ্লিষ্ট ব্লাড ব্যাংকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা সমস্ত দিক খুঁটিয়ে দেখে, বিবেচনা করে, তবেই সিদ্ধান্ত নেবেন। যে কিট দিয়ে এই প্লাজ্মাফেরেসিস হবে, সেটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য নয়। সুতরাং দাতার কোনও সংক্রমণের ভয় নেই। পুরো ব্যবস্থাটিতে দাতার কোনও খরচ নেই।

দ্য ওয়াল: সংগৃহীত প্লাজমা কোভিড রোগীকে কখন এবং কীভাবে দেওয়া হবে?

ডক্টর দত্ত: রোগী নিশ্চিত ভাবে কোভিড ১৯ পজিটিভ বলে চিহ্নিত হওয়ার ১৪ দিনের মধ্যেই এই প্লাজমা থেরাপি চালু করা বাঞ্ছনীয়। প্রথমবার ২০০ মিলি প্লাজমা এবং ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে আরও একবার ২০০ মিলি প্লাজমা সঞ্চালন করতে হবে।

দ্য ওয়াল: এই থেরাপির পরে রোগীর দেহে কোনও প্রতিকূল প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা আছে কি?

ডক্টর দত্ত: সাধারণ প্লাজমা সঞ্চালনে যে নগণ্য প্রতিকূল প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, এক্ষেত্রেও সেইটুকুই হওয়ার সম্ভাবনা। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গুরুতর নয়।

দ্য ওয়াল: এই থেরাপির কিছু নেতিবাচক দিক রয়েছে কি?

ডক্টর দত্ত: আছে। বেশ কিছু আছে। একে একে বলছি।

প্রথমত: নমুনা সংগ্রহের পদ্ধতিগত ভুলে, প্লাজমাদাতার পিসিআর পরীক্ষার রিপোর্ট যদি ফলস নেগেটিভ আসে, রক্তরসে যদি অ্যান্টিবডির ঘনত্ব যথেষ্ট না থাকে,বা যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে সেটা যদি ভাইরাসকে ব্যর্থ করার অ্যান্টিবডি না হয়, অথবা যদি ঐ কনভ্যালেসেন্ট প্লাজমা থেকে রোগীর পুনঃসংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে– এমন নানা তত্ত্বগত ঝুঁকির সম্ভাবনা আমাদের আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
কিন্তু বিশ্বব্যপী এই অভাবনীয় মহামারী আমাদের এত আলোচনার সময় আর না-ও দিতে পারে।

দ্বিতীয়ত: কোভিড ১৯-এর বিরুদ্ধে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন, লোপিনাভির, রিটোনাভির, রেমডেসিভির, ফ্যাভিপিরাভির প্রভৃতি অ্যান্টিম্যালেরিয়াল ও অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের কার্যকারিতা যেখানে আশাব্যঞ্জক নয় বলে প্রমাণিত হচ্ছে প্রতিদিনই, সেখানে সহস্র ‘যদি’ এবং ‘কিন্তু’-র বাধা সরিয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং কিছু মানুষের প্রাণ বাঁচানোর লাভের হিসেব কষলে, দাঁড়িপাল্লায় লাভের দিকটাই ভারি হবে।

দ্য ওয়াল: এই কনভ্যালেসেন্ট প্লাজমা থেরাপির ভবিষ্যত কী?

ডক্টর দত্ত: যদি এই রক্তরস থেকে কোনোদিন কোভিড ১৯ এর বিরুদ্ধে কার্যকরী হাইপার ইমিউনোগ্লোবিউলিন প্রস্তুত করা সম্ভব হয়, তবে সত্যিই সে হবে এক যুগান্তকারী ঘটনা। আমার আশা, গবেষণা শীঘ্রই সেই পথে হাঁটবে।

দ্য ওয়াল: তাহলে প্লাজমা থেরাপি এখন পুরোদমে চলতে পারে সব জায়গায়?

ডক্টর দত্ত: না। কারণ গতকালই কোভিড ১৯ আপডেট সম্পর্কিত সংবাদ সম্মেলনের সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যে ভারতে প্লাজমা থেরাপি কার্যত এখনও পরীক্ষা বা গবেষণার স্তরে রয়েছে, কার্যকারিতা এবং সুরক্ষার বিষয়টি এখনও প্রমাণিত হয়নি। তাই কোভিড ১৯ রোগীদের এই থেরাপির তথাকথিত ‘অফ-লেবেল’ প্রয়োগ নিষিদ্ধ। একমাত্র আই.সি.এম.আর অনুমোদিত ট্রায়াল সেন্টারগুলিই কনভালেসেন্ট প্লাজমা থেরাপির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হিসেবে রোগীদের চিকিৎসা করতে পারে। অনুমোদিত নয় এমন কোন কেন্দ্রে এই থেরাপি রোগীদের উপর প্রয়োগ করা বেআইনি।

দ্য ওয়াল: ফল যখন মিলছে, তখন ট্রায়াল চালানোর ক্ষেত্রে এত সতর্কতার কারণ কী?

ডক্টর দত্ত: আধুনিক চিকিৎসার সর্বাধিক শক্তিশালী প্রমাণ হল ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল। তবে মহামারীর মধ্যে তা পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন। উদাহরণ দিয়ে বলি, চিকিৎসকরা যদিও বিশ্বাসও করেন যে কোভিড ১৯ রোগী প্লাজমা থেরাপি থেকে উপকৃত হবেন তবু ট্রায়ালের কন্ট্রোল গ্রুপে প্রয়োজনীয় সংখ্যক রোগীদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রোটোকল অনুযায়ী কিছু ক্ষেত্রে সম্ভাব্য চিকিৎসাটি কিছু সংখ্যক রোগীদের ক্ষেত্রে নাও করা হতে পারে। অ্যাকাডেমিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি গ্রহণযোগ্য, কারণ একটি তদন্তমূলক চিকিৎসা সঠিক ভাবে পরীক্ষিত না হলে অচিরেই ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। তবে কোভিড ১৯-এর মতো রোগের চিকিৎসার ফলাফল এভাবে বিবেচনা করা কঠিন, যেখানে এখন পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট চিকিৎসা বা ড্রাগ পাওয়া যায়নি।
এছাড়া প্রচলিত ট্রায়াল ডিজাইনের বিপক্ষে আরেকটি বিষয় হল কোন রোগের জন্য নির্দিষ্ট থেরাপি যোগ্য কিনা, সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছোনোর জন্য প্রয়োজনীয় সময় প্রয়োজন। এই মহামারী সেই পরীক্ষা শেষ করার জন্য মূল্যবান সময় আমাদের নাও দিতে পারে।

তবুও মহামারীর জন্য ট্রায়ালগুলিকে মানিয়ে নেওয়া প্রয়োজন, নীতিগত অগ্রাধিকারগুলির সাথে আপস না করেই। এ জন্য দরকার আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। ট্রায়াল ডিজাইনগুলি আরও সরল করা যেতে পারে যাতে কন্ট্রোল গ্রুপে থাকা রোগীদের অনুপাত হ্রাস করা যায় বা বিকল্প ব্যবস্থা করা যায় ।

দ্য ওয়াল: এই অবস্থায় কী করা যেতে পারে?

ডক্টর দত্ত: একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাঝামাঝি দেশব্যাপী আরও নতুন ট্রায়াল সেন্টারের অন্তর্ভুক্তিকরণ করা যায়। একটি সাধারণ লজিস্টিক এবং ইলেকট্রনিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ভাল ভাবে সহযোগী পদ্ধতি, অন্যান্য সদস্যদের জন্য অভিন্ন ডেটা অ্যাক্সেসের অনুমতি দেওয়া এবং ট্রায়াল ডেটার অন্তর্বর্তী বিশ্লেষণ ট্রায়াল ডিজাইনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য আনতে পারে। অনেক বেশি মানুষ উপকৃতও হতে পারেন।

দ্য ওয়াল: যাঁর বা যাঁদের উপর ট্রায়াল চলবে, তাঁদের ভূমিকা কী?

ডক্টর দত্ত: রোগীদের বা তাদের বাড়ির লোকেদের ভাল করে বোঝা ও বোঝানো দরকার, যে কোনও নতুন রোগের জন্য যেকোনও নতুন চিকিৎসা পদ্ধতিই পরীক্ষামূলক। কাজ হবেই এমন কোন নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়,কোন চিকিৎসকের পক্ষেই। এটা আগেই করতে হবে।

দ্য ওয়াল: আর এই চিকিৎসা যাঁরা করবেন, তাঁদের জন্য কী বলবেন?

ডক্টর দত্ত: আরও বেশি চিকিৎসক যাতে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের একটি পরীক্ষামূলক চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে পারেন এবং ব্যর্থ পরীক্ষার মতো নেতিবাচক ফলাফলের প্রত্যাশা না করে যাতে চিকিৎসার সামগ্রিক উন্নয়ন অর্জন করা যেতে পারে তার পরিবেশ গড়ে তোলার উপযুক্ত সময় এখনই। ভারতবর্ষে ট্রায়াল সেন্টারের সংখ্যা আনুমানিক ২৫টি, আমাদের জনসংখ্যা বিচার করে যা বাড়ানো দ্রুত প্রয়োজন। হাতে সময় কিন্তু বেশি নেই।

(কথাগুলি লেখকের ব্যক্তিগত, এই লেখার জন্য তিনি বিশেষ কৃতজ্ঞ ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিশেষজ্ঞ ডক্টর সুকন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে।)

আমেরিকার প্লাজ়মা ট্রায়াল সম্পর্কে যে তথ্যগুলি জেনে রাখা জরুরি:

এই মুহূর্তে ট্রায়াল সেন্টারের সংখ্যা: ১৯৭৮
ট্রায়ালে অন্তর্ভুক্ত চিকিৎসকের সংখ্যা: ৩২৫১
ট্রায়ালে অন্তর্ভুক্ত রোগীর সংখ্যা: ৪৫২৪
প্লাজমা প্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা:১৭২৬

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More