সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬

রেডিয়ো আমার মা-বাবার মতো: মীর

ব্যস্ত সময়ে প্রায় সকলেই যখন যন্ত্র হয়ে গেছি, একটু প্রাণ খুলে হাসতে ভুলে গেছি, শ্বাস নিতেও যেন একটা চেষ্টা করতে হয়। স্বতঃস্ফূর্ত যেখানে আর কিছুই নেই, সেখানে একটা মানুষকে শহর কলকাতা পেয়েছে, যাঁর কথায় কথা বাড়লেও আমরা আনন্দ পাই। তিনি আপনার বসের চাপ, সম্পর্কের টানাপড়েন, ট্রাফিকের চাপানউতোর সবই হাল্কা অথচ গভীর কথায় সামলে দিতে পারেন।  তাঁকে নিয়ে অনেকে বলেন, রসবোধে সূক্ষ্মতা নেই, কিন্তু কী যায় আসে তাতে? যখন প্রোগ্রাম চলে, তখন সেই তো রাত সাড়ে নটা বাজলে টিভি খোলেন মানুষজন।  রোজ সকালে রেডিও স্টেশনে অ্যাডের মাঝে মাঝে গান শোনানো হলেও, তাঁর স্বর শুনতেই তো ওই নির্দিষ্ট এফএমে মন থাকে আমাদের।  বড় পর্দায় ‘ভূতের ভবিষ্যত’-এর ভুতোরিয়া হোক বা ‘বং কানেকশন’-এর শিবাজি, ‘কলম্বাস’ হোক বা নেট দুনিয়ার ‘পঞ্চাশ টাকার ছবি’, আপনি থাকছেন স্যার ….. নামটার আগে পরে সাধারণ মানুষ আর কাউকে খোঁজেন না।  মীর……মীর আফসার আলি।

মুর্শিদাবাদের আজ়িমগঞ্জের সেই ছেলেটা এখন রাজ্য জুড়ে ‘সকালম্যান’। এই সকালম্যানের দিন থেকে রাত কী ভাবে কাটে, অনেকেরই জানতে ইচ্ছে করে।  যে কোনও বিষয়ে যখন জানতে বা পড়তে শুরু করেন, খুব অবলীলায় তার শিকড় অবধি অনায়াসে পৌঁছে যেতে পারেন।  সহজে কোনও কিছুর গভীরে যাওয়ার যে দক্ষতা, তা তো একদিনে তৈরি হয় না কারও।  রোজ যে অভ্যাস, তা এতবছর ধরে করে আসছেন।  বাংলা বিনোদন জগতের প্রোটোকলগুলো ভেঙে যখন সঞ্চালনা করেছেন, সে সময় থেকে আজ পর্যন্ত, এখনও রোজ তৈরি করেন নিজেকে।  তাঁর বাড়ি অবধি পৌঁছলে বোঝা যায়, মাথাটা হয় তো আকাশ ছুঁয়ে গেছে, পা কিন্তু মেঝেতে শক্ত করে রাখা।  নিজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন কী ভাবে? টানা ২৫ বছর ধরে কাজ করতে গিয়ে তাঁর ‘ইউএসপি’ ‘ক্লাস’ এবং ‘মাস’, অন্তত তিনি তেমনটাই মনে করেন। ‘অবজ়ার্ভ’ এবং ‘অ্যাবসর্ব’ না করতে পারলে ধারাবাহিকতা তৈরি হয় না, বলছেন মীর।  তিনি মনে করেন ভালো শ্রোতা না হলে, ভালো বক্তা হওয়া যায় না। আদ্যোপান্ত সাধারণ একটা মানুষ হিসেবে এই কথাগুলো বলছেন তিনি।  কারণ তাঁর মনে হয় এখনও তিনি শিখছেন রোজ।

যেখানে সিনেমা আছে, টিভি শো আছে, নানা অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা আছে, রেডিও আছে- এত কিছুর মাঝে কোনও একটা জিনিসকে যদি বলা হয় বেছে নিতে, কোনটা নেবেন তিনি? বলছেন “মাথায় কেউ বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে দিলেও আমি রেডিয়ো ছাড়তে পারব না। বাকি সব আমার থেকে নিয়ে নিক কেউ। রেডিয়ো আমার মা বাবার মতো।”

এখন রেডিয়োয় যাঁরা কাজ করছেন, যেভাবে কাজ করছেন, তাঁদের তারিফ করেন মীর। রেডিয়োর ভাষা নিয়ে কিছুদিন আগেই নানা বিতর্ক হয়েছে, তা নিয়েও মতামত সহজ , স্পষ্ট করে জানালেন এই ‘বেতার বাদশা’। ‘বেতার বাদশা’ই তো বটে, নইলে কী আর বলেন “সবকিছু ছাড়তে পারব, রেডিও ছাড়তে পারব না। ”

মীরের মুখোমুখি হয়েছিলেন দ্য ওয়াল-এর মধুরিমা রায়, প্রথম পর্বে ভিডিয়োয় জানুন কী বললেন মন থেকে আমীর, মীর আফসার আলি

Comments are closed.