সোমবার, এপ্রিল ২২

আসল শর্ত না মানলে, গণতন্ত্রই সবচেয়ে ঘৃণ্য, হিংস্র, নীচ সর্বনাশা তন্ত্র : কলিম খান

দেবতোষ দাশ

ভাষাতত্ত্ব নিয়ে মূল অ্যাকাডেমিক কাজের বাইরে দাঁড়িয়ে সম্পূর্ণ অন্যরকম কাজ করেছিলেন কলিম খান ও রবি চক্রবর্তী। আর সেই কাজের মাধ্যমে উঠে এসেছে প্রাচীন ইতিহাসের ভিন্ন এক বয়ান।  কদিন আগেই মারা গিয়েছেন কলিম খান। তাঁর আর রবি চক্রবর্তীর শেষ সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তাঁদেরই কাজ নিয়ে বেস্ট সেলার থ্রিলার ‘বিন্দুবিসর্গ’-এর লেখক দেবতোষ দাশ। দুই পর্বের এই সাক্ষাৎকারের আজ অন্তিম পর্ব।

বসে আছি কোন্নগরের রবি চক্রবর্তীর বাড়িতে। কলিম খান ও রবি চক্রবর্তীর সঙ্গে চলছে আড্ডা। সঙ্গী বন্ধু শমীক সাহা।

‘আচ্ছা, অ্যাকাডেমি একটা দক্ষতা এবং শৃঙ্খলাও তো তৈরি করে, তার মূল্য নেই?’

কলিম খান: অবশ্যই আছে। কিন্তু তার যে মূল কাজ, স্বাধীন জ্ঞানচর্চা করে সমাজকে নেতৃত্ব দেওয়া, এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, সেই দায়িত্ব ত্যাগ সে ত্যাগ করতে পারে না।

‘সে তো এটা করতে বাধ্য হচ্ছে!’

কলিম খান: ঠিক, ইন্ড্রাস্ট্রি এসে তাকে তাঁর অধীনে মাসমাইনের ক্রীতদাস বানিয়ে ফেলেছে। এই ক্রীতদাস তার অনুগামীকেও দাস ছাড়া আর কিছুই বানাতে পারে না।

রবি চক্রবর্তী: ক্রীতদাস কি একজনকে তার নিজের মনের রাজা বানাতে পারে? স্রষ্টা বানাতে পারে? পারে না।

কলিম খান: পারবে কী করে? ইন্ড্রাস্ট্রি এসেই একটা নোটিশ জারি করেছিল যে!

‘কী নোটিশ?’

কলিম খান: কারও চাকর না-হয়ে স্বাধীনভাবে জ্ঞানচর্চা করলে সে না খেয়ে মরবে – শিল্পবিপ্লবোত্তর মানবসমাজে এই অঘোষিত বিধির অদৃশ্য নোটিশ জারি হয়েছিল। আজও জারি আছে।

‘সেটা তো সত্যি।’

রবি চক্রবর্তী: এই সত্য নির্মাণ করা হল।

কলিম খান: স্বাধীন জ্ঞানচর্চা বিসর্জন দিয়ে এখন অ্যাকাডেমির কাজ হল ত্রিশুলের মাঝের ফলা অর্থাৎ বৃহৎ শিল্পকে সাহায্য করা, ‘দক্ষ’ কর্মী যোগান দেওয়া।

‘মাঝের ফলাকে সে পুরাকালে সাহায্য করত না?’

পড়ুন প্রথম পর্ব: বেস আর সুপারস্ট্রাকচারের কথা মার্ক্সের আগে বলেছে ঋগ্বেদ: কলিম খান

কলিম খান: সমাজকে নেতৃত্ব দেওয়ার স্বভাব সে আগে পরিত্যাগ করেনি। চয়ন থেকে কৃষি থেকে কুটির শিল্প, জ্ঞানজীবী সবসময়ই সমাজের মাথা ছিল। বর্তমানে নিজের স্বাভাবিকতা বিসর্জন দিয়ে সে ইন্ড্রাস্ট্রির বা বর্তমানে কর্পোরেটের সেবাদাস হয়েছে বা হতে বাধ্য হয়েছে। ফলাফল যা হওয়ার তাই হয়েছে। সমাজও তার ফল ভুগছে। মাথাকে নিচে নামিয়ে দিলে কেমন করে হাঁটবে মানুষ? উল্টো হয়ে হাতে হাঁটবে। আমাদের মেদিনীপুরের গ্রামে লোকে বলত ডাইনি-হাঁটা। এখন সমাজ ঠিক এই উল্টো হাতে ডাইনি-হাঁটা হাঁটছে। এই সমাজ কি বেশিদিন বাঁচতে পারে?

‘অ্যাকাডেমির এই সমস্যা কি কেবল ভারতের?’

কলিম খান: না, না, এই সমস্যা সারা বিশ্বের।

কলিম খান: ‘বড়ো-জ্ঞানী’রা, রবীন্দ্রনাথ যাঁদের বলতেন বড়ো-ইংরেজ, তেমনি বড়ো-ফরাসী, বড়ো-জার্মান, বড়ো-বাঙালি এখন বিলুপ্তপ্রায়। উত্তম-অধিকারীরা প্রায় আর নেই। রয়ে গেছেন কেবল যন্ত্রেরা। নিম্ন-অধিকারীরা। ভৃতক-অধ্যাপকেরা। সেইসব অধঃপতিত জ্ঞানী ও অধঃপতিত রাজনৈতিক নেতাদের নির্দেশে কাজ করে চলেছে দুই হস্তস্বরূপ দক্ষ ও নিপুণ কর্মকুশলী মানুষেরা।

‘নেতাদের কথা যখন বললেন, ত্রিশুলের আরেকটি ফলা যেটা ডানদিকে থাকে, রাষ্ট্রব্যবস্থা বা শাসনব্যবস্থা, তার কী দশা?’

কলিম খান: ইন্ড্রাস্ট্রি এসেই হটিয়ে দিল রাজাদের। কারণ রাজারা ওদের সব কথা মানছে না। ইন্ড্রাস্ট্রি বলল রাষ্ট্রব্যবস্থা হবে গণতান্ত্রিক। রাজতন্ত্র গেল। এল গণতন্ত্র। বৃহৎ শিল্পকে সুযোগ দিল গণতন্ত্র। ব্যস যেই না সুযোগ পেল, সে দাবি করল রেললাইন করে দিন, ব্রিজ করে দিন, জাহাজঘাটা পর্যন্ত রাস্তা করে দিন! জমিটা কিনে দিন! পরিকাঠামো তৈরি করে দিন। যদিও কেবল আমরা একা নই, এইসব জনগণও ব্যবহার করবে! শুরু হয়ে গেল রাষ্ট্রের তথা জনগণের সম্পদ আত্মসাৎ করার প্রক্রিয়া।

‘তাহলে গণতন্ত্র বৃহৎ পুঁজিকে দেওয়া একটা লাইসেন্স মাত্র! কীভাবে জনগণের সম্পদ আত্মসাৎ করা যায়!’

কলিম খান: বৃহৎ শিল্পের নিজেদের মধ্যের লড়াইয়ে এমনকী ঘটে গেল দু-দুটো বিশ্বযুদ্ধ! মনে রাখবেন, বিশ্বযুদ্ধ রাজতন্ত্রের সময়ে হয়নি, হয়েছে গণতন্ত্রের সময়ে! বিশ্বযুদ্ধের পরে এল গণতন্ত্রের দ্বিতীয় রূপ। জনগণের টাকা দিয়ে ‘সিক ইন্ড্রাস্ট্রি’কে বাঁচানোর নামে শুরু হয়ে গেল আরও বড় চুরি। লুঠও বলতে পারেন।

‘জনগণের টাকা সাইফনিং করে নিয়ে নেওয়া শুরু হল?’

কলিম খান: কোম্পানিগুলো নিজেদের ‘সিক’ দেখিয়ে নিজেরা ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ তো নিলই, দশটা ভুয়ো কোম্পানি তৈরি করেও ঋণ নিল। শোধ তো দিলই না, উল্টে ব্যাঙ্ক এগুলোকে এনপিএ না কী যেন বলে?

শমীক ধরিয়ে দিল। এনপিএ মানে নন-পারফর্মিং অ্যাসেট।

কলিম খান: হ্যাঁ, ব্যাঙ্ক এই ঋণকে এনপিএ হিসেবে চালিয়ে দিল। এমনকী রাইট অফও করে দিল!

‘গণতন্ত্র এই চুরিকে মেনে নিল?’

কলিম খান: এইজন্যই তো আনা হয়েছে গণতন্ত্রকে!

‘কিন্তু সারা বিশ্বে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকেই তো শ্রেষ্ঠ বলে ধরা হয়!’

লিম খান: চুরি বিদ্যা বড় বিদ্যা যদি না পড়ে ধরা। ধরা পড়ে গেলে চুরি বিদ্যার থেকে নিকৃষ্ট বিদ্যা আর হয় না। মান-সম্মান তো যাবেই, জেল-জরিমানার সম্ভাবনাও থাকে। তেমনি গণতন্ত্রও এমন এক সমাজ পরিচালন ব্যবস্থা, বিশেষ একটি আবশ্যক শর্ত পালন করতে পারলে তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ তন্ত্র বা সমাজ পরিচালন ব্যবস্থা হয় না। হতে পারে না। কিন্তু সেই শর্ত পূরন না-হলে? গণতন্ত্রের থেকে মন্দ, ঘৃণ্য, হিংস্র, নীচ সর্বনাশা তন্ত্র আর হয় না।

‘সেই শর্তটি কী?’

কলিম খান: গণনেতার সঙ্গে জনগণের আবেগের সম্পর্ক বা নাড়ীর সম্বন্ধটি অক্ষুণ্ণ ও প্রাণবন্ত থাকতে হবে।

‘সে কেমন সম্পর্ক?’

কলিম খান: যে-সম্পর্ক থাকলে নেতা ও নির্বাচক-জনতা পরস্পরকে শাসন ও সোহাগ করতে পারে। এই সম্পর্ক থাকলে নেতা মুখে যা বলে কাজেও তাই করে। না-করলে জনতা তাকে চেপে ধরতে পারে। ফলে সমাজ-পরিচালনা নিষ্কলুষ হয়। পুরাকালে মানুষ মুখে যা বলত কাজেও তাই করত। মুখের কথার ওপর ছিল অসীম গুরুত্ব। নেতার কর্মসুচী শুনে জনতা তাকে মৌখিক সম্মতি দিত। কথা দিয়ে কথা না রাখার কথা কেউ ভাবতেই পারত না।

রবি চক্রবর্তী: গণতন্ত্রের সেই আদিরূপের কিছু চিত্র আমরা পাই প্রাচীন ভারতবর্ষ ও প্রাচীন গ্রীসে।

‘এখন এটা নেই বলছেন?’

কলিম খান: থাকবে কেমন করে? এখন জনতা ও নেতার নাড়ির সম্বন্ধটাই তো কেটে ফেলা হয়েছে। ভোটপ্রথা গোপন হলে এই সম্পর্ক আর থাকে না।

‘ভোট কি প্রকাশ্যে হওয়া সম্ভব?’

আরও পড়ুন: কলিম খান নেই, তাঁর ভাবধারা আছে

কলিম খান: দেখুন, কে কাকে কোন কাজ বা কর্মসূচীর জন্য সম্মতি বা ভোট দিচ্ছেন তার প্রমাণপত্র থাকার কথা নেতা, জনতা ও নির্বাচন পরিচালকের হাতে। সেটা তো হয় না! যেই আপনি গোপন ব্যালটে ভোট দেবেন, আপনার সমর্থনের কোনও প্রমাণ থাকবে কি আপনার হাতে? থাকবে না। কেন এবং কাকে আপনি ভোট দিচ্ছেন, কোনও প্রমাণ নেই। নেতাও জানতে পারছে না কে তাকে ভোট দিল।

‘এতে সমস্যা কোথায়?’

কলিম খান: এতে হল কী, কেউই আর কারও কাছে দায়বদ্ধ রইল না। প্রতিশ্রুতি পালিত না-হলে আমি-আপনি নেতাকে ধরতে পারছি না, তাকে বদলেও দিতে পারছি না। প্রতিশ্রুতি পালিত হলেও তাকে আমি শ্রদ্ধা-সম্মানও করতে পারছি না। গণের সঙ্গে গণনেতার সম্বন্ধটা অফিসিয়ালি ছিন্ন হয়ে গেল। ফলত গণতন্ত্র হয়ে গেল নাড়িকাটা গণতন্ত্র। নেতা হয়ে গেল অসীম ক্ষমতাধর, আর জনতা হয়ে গেল ক্ষমতাহীন।

‘নেতা তখন যা-খুশি তাই করতে পারে!’

কলিম খান: নেতা তখন বনজঙ্গল, পাহাড়, সমুদ্র, খনি সব যাকে খুশি বেচে দিতে পারে। রাজকোষ থেকে বিপুল টাকা শিল্পপতিকে দিয়ে দিতে পারে, তার ঋণ মকুবও করে দিতে পারে। পাশের দেশের সঙ্গে অকারণে যুদ্ধও ঘোষণা করে দিতে পারে। এমনকি নোটবাতিল করে জনগণের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার লুঠও করতে পারে। আমি-আপনি কোনও কৈফিয়তই চাইতে পারব না।

‘যে-দেশে যেমন জনগণ, নেতাও তো তেমনই হবে!’

কলিম খান: জনগণ নেতাকেই অনুসরণ করতে চায়। তখন কী হয়? নেতার পথে গিয়ে আমার-আপনার মনুষ্যত্ব খর্ব হয়। নেতাকে অনুসরণ করে আমরাও মিথ্যা কথা বলি, কাজ না-করে বেতন নিই, ঘুষ খাই, কমিশন খাই, তাদের মতো যাবতীয় অপকর্মে লিপ্ত হই। ফলত নাড়িকাটা-গণতন্ত্র নেতাসহ সমগ্র জাতিকেই ক্রমান্বয়ে মনুষ্যত্বহীন নীচ মানুষে পরিণত করে।

‘এই গণতন্ত্র কবে এল?’

কলিম খান: শিল্পবিপ্লবের পরপরই যে গণতন্ত্রের জন্ম হয়েছিল, তাতে মনুষ্যত্ব ক্ষয়ের সূচনা হয়েছিল। তারপর ক্রমশ অধঃপতিত হতে থাকে।

‘এখন কী অবস্থা?’

কলিম খান: এখন তো সর্বনাশের শেষ সীমায়! এখন আর বৃহৎ শিল্প নয়, এখন এসেছে কর্পোরেট। আমরা নাম দিয়েছি বিদেহীশিল্প।

‘বিদেহী কেন?’

কলিম খান: ধরুন টাটা কোম্পানির গাড়ির সংখ্যা পাঁচ লাখ। আর ওলা-উবারের হাতে কত গাড়ি?

‘অনেক বেশি।’

কলিম খান: কয়েক গুণ বেশি! টাটা কোম্পানির মালিকানা তবু দেখা যায়, ওলা-উবারের মালিকানা কার জানেন? পৃথিবীর প্রতিটা শহরে ওদের গাড়ি চলে। হয়ত ছোট্ট একটা অফিস আছে বা আছে-কি-নেই কেউ জানে না। অর্থাৎ মালিকানা অদৃশ্য করে দেওয়া হল। এক অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণে চলছে গোটা সিস্টেম। ফলত আমরা আর মাথা ও হৃদয়ের দাবি মানছি না। যুক্তি ও আবেগের বশে চলছি না। জ্ঞানযোগ ও কর্মযোগের বশে চলছি না।

‘কীভাবে চলছি?’

কলিম খান: পেটের বাহ্যিক তৃপ্তিসুখের উল্লাসে। ধনযোগের বশে। বাহ্যসুখকেই গোটা বিশ্বের মানুষ আজ চরম সুখ বলে মনে করছে! অথচ রবীন্দ্রনাথ বলতেন, ‘বাহ্য ফললাভই যে চরম লাভ এ কথা সমস্ত পৃথিবী যদি মানে তবু ভারতবর্ষ যেন না মানে – বিধাতার কাছে এই বর প্রার্থনা করি।

‘কিন্তু ভারতবর্ষকে কি এত সহজে বাগ মানানো যাচ্ছে? প্রতিরোধ কি হচ্ছে না?’

কলিম খান: অবশ্যই প্রতিরোধ হচ্ছে। এই যে সাংবাদিককে মেরে দেওয়া হল! (কয়েকদিন আগেই খুন হয়েছেন গৌরী লঙ্কেশ।) এঁরা তো জন্মাচ্ছেন এই দেশে! অত সহজে পারছে কই!

‘আপনারা এত বাংলা-বাংলা করেন, সেই বাংলার দিকে তো এখন বিশেষ নজর।’

কলিম খান: শুনুন, যে-ভাষায় প্রবাদ-প্রবচন আর বাগধারা বেশি, সেই ভাষা খুব শক্তিশালী। আমাদের বাংলাও তাই। হিন্দিও তাই। খুব কব্জা তারা কোথাও করতে পারছে না।

রবি চক্রবর্তী: বাংলার মাটি মিলনের মাটি। রবি চক্রবর্তীর সঙ্গে যে কলিম খানের দেখা হল, মিল হল, কমিউনিকেট করতে পারলাম পরস্পর, একত্রে কাজ করলাম, তা সম্ভব হয়েছে এটা বাংলা বলেই। বাংলা ছাড়া এটা অন্য কোথাও সম্ভবই হত না। আবার রবীন্দ্রনাথ না-থাকলে কলকাতার বাংলা আর ঢাকার বাংলাও এক হত না। এখানে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির কথা বলছি। লিসবনের পর্তুগীজ আর মাদ্রিদের স্প্যানিশের যতটা দূরত্ব ততটাই দূরত্ব হত ঢাকা-কলকাতার বাংলার। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন বলেই ঢাকা তাঁর ভাষা অবলম্বন করে নতুন একটা সাহিত্য-সংস্কৃতির জন্ম দিতে পেরেছিল। না-হলে ইস্লামাইজ করার একটা প্রচণ্ড চাপ ছিল। আরবী হরফে লেখার ব্যাপারে চাপ ছিল। তার বিরুদ্ধে রবীন্দ্রসঙ্গীত যে একটা রেভ্যুলিউশনারি এক্সপ্লোসিভ ফোর্স, তা আমরা ওপার বাংলা থেকেই জানতে পারলাম। পশ্চিমবাংলা থেকে অনেক বেশি রবীন্দ্রচর্চা হয় বাংলাদেশে। ভাষা ও সংস্কৃতিকে নিজেদের ভিত্তি হিসেবে আর কোনও রাষ্ট্র ঘোষণা করেনি।

কলিম খান: তিনটে জিনিস আমাদের যতদিন অক্ষুণ্ণ থাকবে, ততদিন আমরা মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাকে প্রতিরোধ করতে পারব।

‘আবার ত্রিফলা? কী সেই তিন জিনিস?’

কলিম খান: বাংলা ভাষা, বাংলা সংস্কৃতি আর রবীন্দ্রনাথ।

আরও দীর্ঘ সময় জুড়ে চলল কথোপকথন। রবিবাবু ইয়োরোপের দর্শন, ইতিহাস আর ভাষা নিয়ে বলতে শুরু করলেন। বেলা গড়িয়ে গেল গোধূলি গগনে। দীর্ঘ শঙ্খধ্বনি চিহ্নিত করছে সাঁঝবেলা। একসময় রবি চক্রবর্তীকে প্রণাম করে আমরা বেরিয়ে পড়লাম কোন্নগর স্টেশনের দিকে। কলিম খান তখনও বিষয় থেকে সরেননি। আমরা উৎকর্ণ। হাওড়া ফেরার পথে ট্রেনের যান্ত্রিক গর্জন উপেক্ষা করেই স্পর্শ করছেন একের পর এক শব্দের শরীর। যা তিনি গত পঁয়তাল্লিশ বছর ধরে, মৃত্যুর আগে পর্যন্ত করে গেছেন।

ছবি : শমীক সাহা 

দেবতোষ দাশ এই সময়ের একজন উল্লেখযোগ্য সাহিত্যিক। কলিম খান ও রবি চক্রবর্তীর গবেষণার ওপর আধারিত তাঁর উপন্যাস ‘বিন্দুবিসর্গ’। লেখকের উল্লেখযোগ্য অন্যান্য উপন্যাস ‘বিয়োগপর্ব’ ও ‘হলুদ কোকাবুরা’। গল্পগ্রন্থ ‘ধর্ষণের ১৮ দিন পর’।

Shares

Leave A Reply