শনিবার, মে ২৫

প্রকৃতির মারে বিধ্বস্ত ফিলিপিন্স, ফের ভূমিকম্পে কাঁপল ম্যানিলা, লুজন, বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেন পিছু ছাড়তে চাইছে না ফিলিপিন্সের। প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার্সের উপর অবস্থানের কারণে ভূমিকম্প এর নিত্যসঙ্গী। গত বছর বড়দিনে আছড়ে পড়েছিল প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘উসমান’। তৈরি হয়েছিল সুনামির আশঙ্কা। ফের একবার ভূমিকম্প কাবু করে ফেলল দেশের রাজধানী ম্যানিলা, লুজন দ্বীপ-সহ বিস্তীর্ণ এলাকাকে।

মার্কিন জিওলজিক্যাল সার্ভের রিপোর্ট অনুযায়ী, সোমবার স্থানীয় সময় বেলা ৩টে নাগাদ পর পর দু’বার কেঁপে ওঠে লুজন দ্বীপে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৬.১। কম্পনের উৎসস্থল ম্যানিলা থেকে ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। কম্পনের পরেও অন্তত ৫২টা আফটার শক অনুভূত হয়। যার রেশ ছড়ায় ম্যানিলা-সহ আশপাশের আরও কয়েকটি শহরে। সরকারি সূত্রে ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। জখম অন্তত ২২ জন। তবে মৃতের সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

লুজন দ্বীপে ভূমিকম্পের জেরে ভেঙে পড়েছে বেশ কয়েকটি বহুতল। রাস্তাঘাট, দোকানপাট বিপর্যস্ত। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত প্যামপাঙ্গা। এখানকার গভর্নর লিলিয়া পিনেডা জানিয়েছেন, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের ভিতরে এখনও বহু মানুষের আটকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আর্তনাদ আর কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে শহরের আকাশ।

ভূমিকম্পের জেরে রাজধানী শহরে ব্যাহত হয়েছে বিমান পরিষেবা। বাতিল করা হয়েছে কয়েকটি উড়ান। ক্লার্ক ইন্টারন্যাশনাল বিমানবন্দরের বেশ কিছু অংশ ভেঙে পড়েছে। আন্তর্জাতিক এই বিমান সংস্থার প্রেসিডেন্ট জেমি মেলো জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের চেক-ইন লবির সিলিং ধসে পড়ে গুরুতর জখম সাত জন। আগামী ২৪ ঘণ্টা পরিষেবা বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রাজধানী ম্যানিলার বেশ কয়েকটি বহুতল ধসে পড়েছে কম্পনের জেরে। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি বাণিজ্যিক ভবনের রুফ টপ সুইমিং পুল ভেঙে রাস্তায় নেমে আসছে প্রবল জলস্রোত।

গত বছর বড়দিনে ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপে মৃত্যু হয়েছিল ২২ জনের। তার রেশ কাটতে না কাটতেই ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ফিলিপিন্সের উপকূলবর্তী অঞ্চল মিন্ডানা। রিখটার স্কেলে তীব্রতা ছিল ৬.৯। আমেরিকার প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার-এর তরফে ঘোষণা করা হয় সুনামি সতর্কতা। সুনামি-সতর্কতা ঘোষণা করে স্থানীয় প্রশাসনও। প্রায় ১২ হাজার মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় নিরাপদ আশ্রয়ে।

Shares

Comments are closed.