বুধবার, জুলাই ১৭

খুন করতেন বেশ্যা-মাদকাসক্ত মহিলাদের, খুনের পরে আঁকতেন ছবি, অপরাধের ঝাঁপি খুললেন সিরিয়াল কিলার স্যামুয়েল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রঙ তুলিতে ফুটে উঠেছে মহিলাদের নানা মুখ। কোথাও আবার পেন্সিল স্কেচের কেরামতি। চোখের পাতা থেকে ঠোঁটের গড়ন, সবই প্রায় নিখুঁত। ছবি দেখে মুখ চিনতে অসুবিধা হয় না। তবে সে মুখগুলি জীবিত মহিলাদের মুখ নয়। সকলেই মৃত। কাওকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে, আবার কাওকে মাথা থেঁতলে খুন করেছেন এক ব্যক্তি। নয় নয় করেও মার্কিন মুলুকের ১৯টি রাজ্যের অসংখ্য মহিলা তাঁর শিকার। সংখ্যাটা খুনির হিসেবে ৯০। তবে এখনও ৬০ জন মহিলাকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। ছবি মিলিয়ে খোঁজ চলছে বাকিদের।

স্যামুয়েল লিটল। কোথাও আবার তাঁর পরিচয় স্যামুয়েল ম্যাকডাওয়েল। বয়স ৭৯। বিশ্বের সিরিয়াল কিলারদের তালিকায় প্রথম সারিতেই রয়েছে স্যামুয়েলের নাম। টেক্সাস পুলিশ জানিয়েছে, আপাতত ক্যালিফর্নিয়ার একটি জেলে যাবজ্জীবনের সাজা খাটছেন স্যামুয়েল। তাঁকে জেরা করেই ৬০ জন মহিলার নাম মিলেছে। অনুতাপহীন, বজ্র কঠিন মুখে স্যামুয়েল জানিয়েছেন, প্রতিটা খুনই নিখুঁত ভাবে করেছেন তিনি। প্রমাণ মেটাতে কিছু শরীর ক্ষতবিক্ষত করে চেনার অযোগ্যও করে রেখেছিলেন। তার পর রঙ-তুলি ধরে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছেন সেই সব মৃত মহিলার মুখ।

তদন্তকারীদের কথায়, স্যামুয়েলের নিশানায় ছিলেন মূলত যৌনকর্মীরা। ড্রাগের নেশা করতেন এমন মহিলাদেরও বেছে বেছে টার্গেন করতেন স্যামুয়েল। এই সব খুনের পিছনে কী কারণ ছিল, সেটা অবশ্য স্পষ্ট করেননি তিনি। তবে পুলিশের অনুমান, এই হত্যালীলা আর মানসিক বিকৃতির পিছনে স্যামুয়েলের পারিবারিক কোনও কারণ রয়েছে। ১৯৪০ সালে জর্জিয়ায় জন্ম স্যামুয়েলের। ছোটবেলা কেটেছে ওহায়োতে। নিজের মাকে ‘লেডি অব নাইট’ নামে ডাকতেন স্যামুয়েল। পুলিশের অনুমান, তাঁর ছেলেবেলার কোনও ঘটনার কারণেই বেশ্যাবৃত্তির সঙ্গে জড়িত মহিলাদের প্রতি বিতৃষ্ণা জন্মায় স্যামুয়েলের।

১৯৫৬ সালে নেব্রাস্কার ওমাহায় একটি বাড়িতে ডাকাতি করতে গিয়ে ধরা পড়েন। এর পরে অজস্র লুটপাট, ডাকাতি, ধর্ষণের ঘটনায় নাম জড়ায় তাঁর। অন্তত ২৫ বার কারাবাসও হয়। হত্যালীলার শুরু ১৯৭০ সাল থেকে। ১৯৮২ সালে মিসিসিপির ২২ বছরের এক যৌনকর্মীকে খুনের অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেই মামলা চলাকালীনই জানা যায় ফ্লোরিডার প্যাট্রিশিয়া মাউন্ট নামে এক মহিলার খুনের অভিযোগ ওঠে। দু’টো খুনের ধরনই ছিল একই রকম। কিন্তু প্রমাণের অভাবে ছাড়া পেয়ে যান স্যামুয়েল। ১৯৮৪ সালে লরি ব্যারস নামে এক মহিলাকে অপহরণের দায়ে ফের পুলিশের চোখে পড়েন স্যামুয়েল। তবে সেই মহিলাকে খুন করার আগেই পুলিশ পৌঁছে যায় ঘটনাস্থলে। অপরাধীকে না পেলেও, মহিলাকে উদ্ধার করে পুলিশ।

ওহায়োতেই অন্তত পাঁচটি খুনে নাম জড়ায় স্যামুয়েলের। ১৯৭০-২০০৫ সালের মধ্যে সব চেয়ে বেশি খুন করেছেন স্যামুয়েল ২০১৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় তাঁর শিকার হন তিন মহিলা। এফবিআই সূত্রে খবর, স্যামুয়েলের খুনের মানচিত্রে ছিল আরও অনেক রাজ্যের নাম যেমন— আরিজোনা, আরকানাস, ক্যালিফোর্নিয়া, জর্জিয়া, ফ্লোরিডা, ইলিনয়েস, লউসিয়ানা, মেরিল্যান্ড, মিসিসিপি, নেভাদা, ওহিও, দক্ষিণ ক্যারোলিনা, টেনেসি, টেক্সাস ইত্যাদি।

টেক্সাস, এক্টর কাউন্টির আইনজীবী ববি ব্লান্ড জানিয়েছেন, শুরুতে অস্বীকার করলেও জীবনের সব রহস্য়ের পর্দাই একে একে খুলছেন স্যামুয়েল। ১৯৭০ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত যতগুলো খুন তিনি করেছেন সেই সংখ্যার হিসেব দাঁড়িয়েছে ৬০-এ। এর পরেও আরও ডজন খানেক খুন করেছেন স্যামুয়েল। তার হিসেব মিললে সংখ্যাটা ৯০-১০০ ছুঁতে পারে বলেই মনে করছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:

কেউ নিজেকে কসাই ভেবে টুকরো করত দেহ, কেউ আবার দৈত্য ভেবে ফাঁস দিত শিশুদের গলায়!

Comments are closed.