বুধবার, জানুয়ারি ২২
TheWall
TheWall

গরুর গাড়ির চাকার মতো বড় পয়সা আর একের পিঠে ২১টা শূন্যওয়ালা নোট, সঙ্গে আরও আজব তথ্য

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্যাগে করে টাকা নিয়ে গিয়ে পকেটে করে বাজার এনেছেন কখনও? শুনলে অবাক হবেন, বিশ্বের অনেক দেশেই এমন ঘটনা ঘটেছে। জিনিসের দাম বেশি বলে নয়, টাকার দাম কম হলে এমন হয়।

ব্যাগে করে টাকা নিয়ে যাওয়া যেমন তেমন ঘটনাই বলা যায়, কারণ বিশ্বের সবচেয়ে বড় কয়েনটার ছবি ইতিমধ্যেই দেখে ফেলেছেন। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় এই পয়সা নিয়ে যেতে দরকার হয় বেয়ারার।

উঠে গেল মুদ্রা

আফ্রিকার জিম্বাবোয়ে দিয়ে শুরু করা যাক। টাকার দাম পড়তে পড়তে এমন অবস্থা হয়েছিল যে সেই দেশে লোকে ব্যাগে করে টাকাপয়সা নিয়ে যেতেন কেনাকাটা করতে। প্রথমে তারা বড় অঙ্কের নোট ছাপাল, শেষকালে টাকাপয়সাই তুলে দিল। তারা একশো ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের নোট বাজারে চালু করেছিল। ১০০ ট্রিলিয়ন ডলার মানে একের পিঠে চোদ্দোটা শূন্য। বাজারে চালু নোটের নিরিখে এটাই সবচেয়ে বড় অঙ্ক লেখা নোট। তাতেও সামলানো গেল না। বাজার করতে যাওয়ার সময় লোকে ব্যাগে করে টাকা নিয়ে যাওয়া শুরু করলেন।

শুনলে হয়তো অবাকই হবেন, সেই দেশে বিনিময়ের মাধ্যম হিসাবে, মানে লিগ্যাল টেন্ডার হিসাবে ভারতের টাকাও কিছুদিন চলেছে। অবশ্য একা ভারত নয়, আরও পাঁচটি দেশের মুদ্রাকে তারা লিগ্যাল টেন্ডার বলে ঘোষণা করে দিয়েছিল। শেষে হালে পানি না পেয়ে কিছুদিন টাকাপয়সা তৈরিই বন্ধ করে দিয়েছিল জিম্বাবোয়ে।

টাকার দাম কমে যাওয়ায় জিম্বাবোয়েতে এভাবেই কেনাবেচা হত।

১০০ ট্রিলিয়ন ডলারের নোট।

তবে চিরকাল তো এ ভাবে চলে না। সম্প্রতি জিম্বাবোয়েও টাকাপয়সা চালু করেছে নতুন করে।

ব্যাগে করে টাকা

এয়ার লিফট ছবিটি দেখেছেন হয়তো। ইরাক যখন কুয়েত আক্রমণ করল, তখন কুয়েতের টাকাপয়সার কোনও দাম রইল না। তবে ইরাকও যে খুব ভালো অবস্থায় রইল এমন নয়। সেখানেও টাকার দাম পড়ল। যদিও হাল জিম্বাবোয়ে বা ভেনেজুয়েলার মতো হয়নি।

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় একবার টাকার দাম এমন কমে গেল যে, সেখানেও ব্যাগে করে টাকা নিয়ে গিয়ে বাজার করা শুরু হল। নতুন করে টাকা ছাপানো শুরু হয়ে গেল। ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে এখানে আড়াই লক্ষ বলিভারের দাম হয়েছিল ১ ডলারের সমান। ভাবুন, এ দেশে টাকার দাম ডলার সাপেক্ষে ৫০ পয়সা পড়ে গেলে কী হইচই হয়।

বলিভার বনাম মার্কিন ডলার

অর্থনীতির এমন খারাপ হাল অবশ্য আরও অনেক দেশেই হয়েছে। য়েমন সোমালিয়া, যুগোস্লাভিয়া (দেশটা এখন টুকরো হয়ে গেছে), জার্মানি প্রভৃতি। তবে বিভিন্ন সময়ে।

বড় টাকা

সবচেয়ে বড় অঙ্কের টাকা ছাপিয়েছিল হাঙ্গেরি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। তবে সেই নোট কোনও দিনই বাজারে তারা ছাড়েনি। এটি ছিল ১ মিলিয়ন বিলিয়ন পেঙ্গো। পেঙ্গো হল তাদের মুদ্রার নাম। ১ মিলিয়ন বিলিয়ন মানে ১-এর পিঠে ২১টা শূন্য।

১ মিলিয়ন বিলিয়ন পেঙ্গো।

১৯৯৩-৯৪ সালে মুদ্রাস্ফীতির সময় যুগোস্লাভিয়াও কাছাকাছি অঙ্কের নোট ছেপেছিল, ৫-এর পিঠে ২০টা শূন্য। তখন যুগোস্লাভিয়ার ছ’লক্ষ কোটি দিনার ছিল ১ মার্কিন ডলারের সমান।

বড় অঙ্কের পয়সা

এত বড় অঙ্কের টাকা যেমন আছে, তেমন বড় অঙ্কের ধাতুর টাকাও আছে, মানে যাকে সহজ কথায় আমরা পয়সা বলে বুঝি। সাম্প্রতিক কালে সবচেয়ে বড় অঙ্কের ধাতুর টাকা বার করেছে তুরষ্ক। দশ লক্ষ লিরা। তুরষ্কের মুদ্রার নাম হল লিরা। ভেবে দেখুন, পকেটে বেশ কয়েকটা লাখি অঙ্কের মুদ্রা নিয়ে বাজারে যাচ্ছেন এক ঠোঙা বাদামভাজা কিনতে!

তুরষ্কের লিরা।

এ তো গেল অঙ্কের হিসাব। কথায় আছে সাইজ ম্যাটারস। মানে বড় মাপের কথা বলছি।

সবচেয়ে বড় মাপের নোট

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ১৯৯৮ সালে ফিপিপিন্স একটি নোট বার করেছিল যার মাপ এক দিকে সাড়ে আট ইঞ্চি আরেক দিকে ১৪ ইঞ্চি। নোটটি খুব কম সংখ্যক ছাপা হয়েছিল। এক লক্ষ পেসোর এই নোট তৈরি করা হয়েছিল সংগ্রাহকদের কথা ভেবেই।

ফিলিপিন্সের সবচেয়ে বড় নোট

এ ব্যাপারে বিশ্বরেকর্ডটি আপাতত মালয়েশিয়ার দখলে। তাদের নোটটির মাপ একদিকে ২২ সেমি ও আরেক দিকে ৩৭ সেমি। মানে ৮.৬৬ ইঞ্চি ও ১৪.৬৬ ইঞ্চি। মালয়েশিয়ার মুদ্রার নাম রিঙ্গিট। এটি ৬০০ রিঙ্গিটের নোট। স্বাধীনতার ৬০ বছর উপলক্ষে তারা এই বিশেষ স্মারক নোট বার করেছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় নোট।

এই নোটটিও খুবই কম সংখ্যায় ছাপা হয়েছে। এমন নোট তো আর ভাঁজ করে পকেটে রাখা যায় না!

সবচেয়ে বড় মুদ্রা

রাই হল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুদ্রা। মাইক্রোনেশিয়ায় যে সব ছোট ছোট দ্বীপ আছে ইয়াপ হল তাদের অন্যতম। ইয়াপের লোকজন বাণিজ্যের জন্য বিশাল বিশাল পাথরের মুদ্রা ব্যবহার করতেন। পালাউ, গুয়াম প্রভৃতি ছোট ছোট দেশে এগুলি চালু ছিল। মুদ্রাগুলির ব্যাস ৩.৬ মিটার পর্যন্ত হত, ওজন ৪,০০০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত। তাই পাথরের ভারী মুদ্রা কখনও গড়িয়ে, কখনও আবার বয়ে নিয়ে যেতে হত। মুদ্রাগুলি নিয়ে যাবার সুবিধার জন্য মাঝে একটা করে গর্ত থাকত। সবচেয়ে ছোট মুদ্রাগুলির ব্যাস হত ৭-৮ সেন্টিমিটার।

বাড়ির পাশে রাখা ইয়াপের রাই

এখনও এই মুদ্রা ব্যবহার হয় সেই সব দ্বীপে, তবে সামাজিক কারণে। যেমন বিয়ের যৌতুক দেওয়া, চুক্তি সই, পণ প্রভৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে। মালিকানা বদল হলেও অনেক সময়ই মুদ্রা থেকে যায় একই জায়গায়, বছরের পর বছর ধরে।

Share.

Comments are closed.