রবিবার, সেপ্টেম্বর ২২

বৃহস্পতি, শুক্রবার আরও বড় হাঙ্গামার সম্ভাবনা কেরলে, রিপোর্ট গোয়েন্দাদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে বুধবার শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশ করেছেন দুই মহিলা। সেই নিয়ে ব্যাপক অশান্তি ছড়িয়েছে কেরলে। এর মধ্যে গোয়েন্দাদের রিপোর্টে উদ্বেগ বেড়েছে সরকারের। গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, আগামী দু’দিনে আরও বড় অশান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টায় আছে বিক্ষোভকারীরা। এর মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন সাংবাদিক বৈঠক করে বলেছেন, বুধবার দুই মহিলা যখন মন্দিরে ঢুকলেন তখন তো কেউ আপত্তি করেনি। ভক্তরা তো তাঁদের ঢুকতে সাহায্যই করেছিল।

বুধবার দুই মহিলা মন্দিরে প্রবেশ করার পরে আরও অনেক মহিলা সেখানে পুজো দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শবরীমালা মন্দিরের দেবতা আয়াপ্পার পুজো করার জন্য অন্যান্য রাজ্য থেকেও অনেক মহিলা আসছেন। কিন্তু গোয়েন্দারা সরকারকে সতর্ক করেছেন, আর কোনও মহিলা শবরীমালা মন্দিরে ঢুকলে রাজ্য জুড়ে হরতাল হবে। নানা জায়গায় পুলিশের ওপরে হামলা চালাবে জনতা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়বে।

পুলিশের উচ্চপদস্থ অফিসাররা জানিয়েছেন, গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে তাঁরা যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। আগামী দিনে কেউ যদি সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করে সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে প্রিভেনশন অব ড্যামেজ অব পাবলিক প্রপার্টি অ্যাক্টে মামলা করা হবে।

এদিন তিরুবনন্তপুরমে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, দুই মহিলা আয়াপ্পা দেবতার পুজো দেওয়ার সময় কোনও ভক্ত বিক্ষোভ দেখাননি। বরং তাঁরা দু’জনকে সাহায্যই করেছিলেন। কিন্তু তাঁরা পুজো দিয়ে ফিরে আসার পরে খুব ছক কষে অশান্তি ছড়ানো হচ্ছে। আমরা খবর পেয়েছি, এর পিছনে আছে সঙ্ঘ পরিবার। সরকার কঠোর হাতে বিশৃঙ্খলা দমন করবে। এছাড়া আর উপায় নেই। এই প্রসঙ্গে বিজয়ন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কথা উল্লেখ করেন।

সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, শবরীমালা মন্দিরে ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সী মেয়েদের ঢুকতে না দেওয়ার যে প্রথা আছে তা অসাংবিধানিক। বিজয়ন বলেন, সরকার কোর্টের নির্দেশ মানতে বাধ্য।

বুধবার থেকেই কেরলের নানা স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে হিংসা। সিপিএম ও বিজেপির সমর্থকদের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়েছিলেন একজন। তিনি মারা গিয়েছেন বুধবার রাতে। বিক্ষোভকারীরা রাজ্যের বড় রাস্তাগুলি আটকে রেখেছে। দোকানপাট, বাজার বন্ধ রাখতে বাধ্য করেছে। বৃহস্পতিবার রাজ্য জুড়ে চলছে বন্‌ধ। শবরীমালা কর্মসমিতি নামে এক সংগঠন বন্‌ধের ডাক দিয়েছে। ওই সংগঠনকে সমর্থন করছে বিজেপি। কংগ্রেস এদিন রাজ্যে পালন করছে ‘কালা দিবস’।

Comments are closed.