বুধবার, আগস্ট ২১

আইন-বহির্ভূত কাজ করেছেন উনি, মোদীর কপ্টার তল্লাশি-কাণ্ডে সাসপেন্ড হওয়া আইএস অফিসার সম্পর্কে জানাল কমিশন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হেলিকপ্টার তল্লাশি-কাণ্ডে আইএএস-কে সাসপেন্ড করায় তোলপাড় রাজনৈতিক মহল। সেই সঙ্গে প্রশাসনিক স্তরেও চলছে চাপানউতোর। বস্তুত, প্রধানমন্ত্রী এসপিজি নিরাপত্তার আওতায় থাকেন। সেই কারণেই প্রশাসনিক স্তরের কারও তাঁর হেলিকপ্টারে তল্লাশি চালানোর এক্তিয়ার নেই জানিয়ে বুধবার রাতেই সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় নির্বাচন কমিশন।

প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, প্রধানমন্ত্রীর কপ্টারে তল্লাশির নির্দেশ দিয়ে ওই আইএএস আধিকারিক সত্যিই বিধি ভঙ্গ করেছেন কি না। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এবং আম আদমি পার্টি কমিশনের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে।

কংগ্রেসের টুইটারে দাবি করা হয়েছে, এই নিয়মটি ভোট-প্রচারের সময়ে সরকারি যানের উপর প্রযোজ্য। তার মানে এই নয়, যে প্রচারের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর যে কোনও যানকেই তল্লাশি থেকে ছাড় দেওয়া যাবে। কংগ্রেসের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার তল্লাশি করেছেন বলে কেন একজন অফিসারকে সাসপেন্ড করা হল? এতে কী বার্তা দেওয়া হল? কিছু লোকের জন্য বিশেষ আইন আছে? প্রধানমন্ত্রীকে পরীক্ষার বাইরে রাখার জন্য এই এসপিজি-সুরক্ষার দোহাই কেন দেওয়া হচ্ছে?

কংগ্রেস আগেই অভিযোগ করেছিল, প্রধানমন্ত্রীর বিমান থেকে একটি বড় ট্রাঙ্ক নামিয়ে কনভয়ের বাইরের একটি গাড়িতে করে সেটা নিয়ে যাওয়া হয়েছিল৷ রাহুল গান্ধীর দলের দাবি, এই রহস্যময় ট্রাঙ্ক নিয়ে নির্বাচন কমিশন তদন্ত করে দেখুক৷ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে গিয়ে সেই দাবি জানিয়েও এসেছেন কংগ্রেস নেতারা৷ তারপর এ বার আইএএস অফিসারকে সাসপেন্ড করার ঘটনা সামনে আতেই তাঁরা বিষয়টি নিয়ে হইচই শুরু করে দিয়েছে৷ আপ-এর টুইটে কটাক্ষ, “চৌকিদার কি কিছু লুকোনোর চেষ্টা করছেন?”

কর্নাটক ক্যাডারের ওই সাসপেন্ড হওয়া আইএএস অফিসারের নাম মহম্মদ মহসিন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৪ সালের ১০ এপ্রিলে দেওয়া একটি নির্দেশে বলা হয়েছিল এসপিজি সুরক্ষার আওতায় থাকা ভিভিআইপি-দের তল্লাশি থেকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টারে তল্লাশির নির্দেশ দিয়ে নাকি সেই নিয়ম ভেঙেছেন মহসিন। মঙ্গলবার ওড়িশার সম্বলপুরে নির্বাচনী সভায় গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেই সময়েই তাঁর হেলিকপ্টারে তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন ওই পর্যবেক্ষক। অভিযোগ, এর জন্য প্রায় পনেরো মিনিট আটকে ছিলেন নরেন্দ্র মোদি।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ২০১৪ সালের সেই বিধিতে অবশ্য এমন কোনও নির্দেশ পাওয়া যাচ্ছে না। বরং বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে তল্লাশি চালানো যেতে পারে, এমনটাই বলা হয়েছে সেই নির্দেশিকায়। নির্দেশে বলা হয়েছে, “নির্বাচনের প্রচারে বা নির্বাচন সংক্রান্ত যাতায়াতে কোনও ভাবেই সরকারি গাড়ির ব্যবহার করা যাবে না।”

যাঁরা এসপিজি নিরাপত্তা পান, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, “এক মাত্র প্রধানমন্ত্রী বা অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যাঁদের বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়া হয় সন্ত্রাসবাদী হামলার হাত থেকে সুরক্ষার জন্য, তাঁরা এই নির্দেশের আওতার বাইরে থাকবেন।”

ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার উমেশ সিনহা প্রেস কনফারেন্স করে জানিয়েছেন, এক সিনিয়র আধিকারিককে তদন্তে পাঠানো হয়েছে, শুক্রবারের মধ্যে তিনি রিপোর্ট দেবেন।

Comments are closed.