নিখোঁজ ব্যক্তির রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার রেললাইনের ধারে! আত্মহত্যা নাকি দুর্ঘটনা, ধন্দে পুলিশ

বর্ধমানের এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, রেলপুলিশের তরফে কোনও খবর আসেনি কেন। 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পরে রেললাইন থেকে উদ্ধার হল রক্তাক্ত মৃতদেহ! রবিবার পূর্ব বর্ধমানের মেমারির বাগিলা এলাকার এই ঘটনায় স্তম্ভিত এলাকাবাসী। তাঁরা জানিয়েছেন, হাওড়া-বর্ধমান মেইন শাখার বাগিলা স্টেশনের কাছে রেল লাইনের একপাশে পড়ে ছিল ওই মৃত ব্যক্তির জখম দেহ। পাশেই পড়ে ছিল একটি ব্যাগ এবং তেল-সাবান-সহ বেশ কিছু সামগ্রী। এই অবস্থায় দেখেই স্থানীয়রা খবর দেন মেমারি থানায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। তদন্ত শুরু করে জিআরপি।

    পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম মনোরঞ্জন মণ্ডল। ৫৫ বছরের ওই ব্যক্তির বাড়ি বাগিলার ডিভিসি পাড়ায়। হুগলির সিমলাগড়ে একটি প্লাস্টিক কারখানায় কাজ করতেন তিনি। তাঁর ছেলে শ্রীনিবাস মণ্ডল জানিয়েছেন, প্রতিদিন সকালে বাগিলা থেকে ট্রেনে চড়ে তাঁর বাবা সিমলাগড়ে কাজে যেতেন। শনিবারও তেমনটাই বেরিয়েছিলেন বাড়ি থেকে। কিন্তু রাতে আর ফেরেননি তিনি।

    শ্রীনিবাসের মা রবিবার বেলায় খবর দেন শ্রীনিবাসকে। শ্রীনিবাস কাজের সূত্রের কলকাতায় থাকেন। তিনি বলেন, মায়ের ফোন পেয়েই তিনি বাগিলার বাড়িতে ফিরে আসেন। খোঁজখবর শুরু করেন বাবার। স্থানীয় মানুষদের সূত্রে জানতে পারেন, গরু চরাতে গিয়ে বাগিলা রেল স্টেশনের কাছে একটি মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন স্থানীয় মানুষ।

    খবর পেয়ে তিনি সেখানে গিয়ে দেখেন, রেল লাইনের ধারে তাঁর বাবারই মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। তিনি জানিয়েছে, মাথার অংশ রক্তাক্ত ছিল। কিন্তু কেন বা কীভাবে এই মৃত্যু, তা বুঝতে পারছেন না পরিবারের কেউই। মনোরঞ্জনবাবুর স্ত্রী জানিয়েছেন, আত্মহত্যা করার মতো কিছু ঘটেনি। তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কারও শত্রুতাও নেই বলে দাবি তাঁর।

    শ্রীনিবাস জানিয়েছেন, রেললাইন পেরোতে গিয়েই হয়তো দুর্ঘটনা ঘটেছে তাঁর বাবার। কিন্তু সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে, রেলপুলিশের তরফে কোনও খবর আসেনি কেন।  অনেকে আবার মনে করছেন, কোনও ভাবে হয়তো চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গিয়েছিলেন মনোরঞ্জন। সে সময়ে তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগার কারণে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

    পুলিশি তদন্তে মৃত্যুর সঠিক কারণ সামনে আসবে বলেই মনে করছেন সকলে। মেমারি থানার পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণেই এই মৃত্যু বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে। দেহ পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তে। রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ পরিষ্কার হবে ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More