ইনফোসিসের শেয়ার এক ধাক্কায় পড়ল ১৬ শতাংশ, বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি ৫৩ হাজার কোটি টাকা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের অনিয়মের অভিযোগ তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ইনফোসিসের বিরুদ্ধে।  দক্ষিণ ভারতে একটি দৈনিকে ইনফোসিসের অনিয়মের খবর প্রকাশিত হয় মঙ্গলবার।  তাতে বলা হয়, ইনফোসিসের কয়েকজন কর্মী (হুইসেলব্লোয়ার) আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ করেছেন সংস্থার দুই শীর্ষ পদাধিকারীর বিরুদ্ধে। তাঁরা হলেন চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার (সিইও) সলিল পারেখ ও চিফ ফিনান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) নীলাঞ্জন রায়।  এ কথা প্রকাশ্যে আসতেই দ্রুত পড়তে থাকে ইনফোসিসের শেয়ারদর।  বাজার বন্ধ হওয়ার সময় ইনফোসিসের শেয়ারদর ১৬.১৯ শতাংশ (১২৪.৪৫টাকা) কমে হয় ৬৪৩.৩০ টাকা।  এর ফলে বিনিয়োগকারীদের ৫৩,০০০ কোটি টাকা লোকসান হয়।

ইজরায়েলে একটি সংস্থা অধিগ্রহণে অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল।  প্রতিষ্ঠান পরিচালনা নিয়ে সংস্থার কর্ণধার বিশাল সিক্কার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন হুইসেলব্লোয়াররাই।  তখন ইনফোসিসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নারায়ণ মূর্তি বনাম তৎকালীন কর্ণধার বিশাল সিক্কার লড়াই সামনে এসেছিল।  তার জেরে ২০১৭ সালের অগস্ট মাসে পদত্যাগ করেন সিক্কা।  তখন ইনফোসিসের দায়িত্ব দেওয়া হয় আর এক সহ-প্রতিষ্ঠাতা নন্দন নিলেকানিকে।  তিনি এখনও সংস্থান নন-এগজিকিউটিভ চেয়্যারম্যান।

সিইও এবং সিএফও-র বিরুদ্ধে হুইসেলব্লোয়ারদের অভিযোগ, বেশ কয়েকটি ত্রৈমাসিক ধরেই আর্থিক অনিয়ম করে আসছেন দু’জনে।  তাঁদের কঠোর ভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, এইসব কথা তাঁরা যেন ঘুণাক্ষরেও অডিটরদের না জানান।  এই সব কথা তাঁরা দু’পাতার একটি চিঠি দিয়ে পরিচালন পরিষদকে জানান ২০ সেপ্টেম্বর।  কয়েকটি কথোপকথনের অডিও রেকর্ডও তাঁদের কাছে রয়েছে বলে ওই চিঠিতে জানানো হয়ে।  সেই চিঠিরই একটি প্রতিলিপি পায় একটি সংবাদসংস্থা।

অভিযোগ, চিঠি পেয়ে কোনও পদক্ষেপ করেনি ইনফোসিস।  ৩ অক্টোবর ওই কর্মীদের হয়ে একজন বিষয়টি জানান ইনফোসিসের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অফিসে।  সেই চিঠিতে বলা হয়, এপ্রিল মাস থেকে ইচ্ছাকৃত ভাবে অনিয়ম করছেন সংস্থার ওই দুই শীর্ষ আধিকারিক।  অর্থাৎ অনিয়ম চলছে গত দুই ত্রৈমাসিক ধরে।  শেয়ার দর ধরে রাখার জন্য ৫ কোটি মার্কিন ডলার এফডিআরের হিসাবও চেপে যেতে বলা হয়েছিল।

তবে সোমবার ইনফোসিস একটি জানিয়ে দেয়, নিয়ম নেমে ওই অভিযোগ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে অডিট কমিটির কাছে।  একটি বিবৃতিতে ইনফোসিস জানিয়েছে, হুইসেলব্লোয়ার পলিসি মেনেই কাজ করবে প্রতিষ্ঠানটি।

এই প্রথম নয়, ইনফোসিসের বিরুদ্ধে গত ছ’-সাত বছরে বেশ কয়েকবার অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন হুইসেল ব্লোযাররা।  তবে ২০১৩ সালের পরে কোনও দিন এতটা দর পড়েনি ইনফোসিসের।

শুধু তাই নয়, ভেরিজোন, ইনটেল, জাপানের জয়েন্ট ভেঞ্চার্স, এবিএন অ্যামরো প্রভৃতির সঙ্গে যে বড় মাপের চুক্তি হয়েছে সে কথাও বোর্ড ও অডিটরদের কাছে ওই দুই আধিকারিক গোপন করেছেন বলে অভিযোগ হুইসেলব্লোয়ারদের।

হিসাবের গরমিল করে শেয়ারদর ঊর্ধ্বমুখী করে রেখে সত্যমের বিনিয়োগকারীদের পথে বসিয়েছিলেন সংস্থার তৎকালীন কর্তা রামলিঙ্গম রাজু।  শেয়ারদর ধরে রাখতে আয় বাড়িয়ে দেখাতে কোম্পানিগুলি হিসাবে গরমিল করলে তার ফল কী হতে পারে তা বিলক্ষণ জানেন বিনিয়োগকারীরা।  স্বভাবতই ইনফোসিসের গরমিলের খবরে এক ধাক্কায় পড়ে যায় তাদের শেয়ারদর।

আরও পড়ুন : প্রাচীন সচিত্রে পোস্টকার্ডে সিপাহি বিদ্রোহ 

http://www.thewall.in/pujomagazine2019/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%b8%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8b%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d/

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More