কালো চামড়ার জন্য শুনতে হয়েছে খোঁটা, অপমানে পুড়েও হার মানেননি ইন্দিয়া মুর

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইন্দিয়া মুর, নামটার সঙ্গে পরিচিত অনেকেই । ইন্দিয়ার জীবনের সঙ্গে এদেশের কালো মেয়েদের জীবনের অনেক মিল ! মেয়েদের যদি গায়ের রঙ কালো হয়,সে আমেরিকাই হোক আর ভারত – কথা শোনাতে কেউ ছাড়ে না। কালো মেয়ে যেন সমাজের অভিশাপ! আমেরিকার মতো প্রথম বিশ্বের দেশও সেই প্রথা ভাঙতে পারেনি। সেখানেও জন্মের পর থেকেই যন্ত্রণায় পুড়তে হয় মুরের মতো বহু মেয়ের জীবন!

হারতে শেখেননি মুর। এগিয়ে যাওয়ার পথে গায়ের রঙ কোনও মাপকাঠি হতে পারেনা, তা তিনি প্রমাণ করেছেন নিজের জীবন দিয়ে। বহু বিচ্ছেদ, প্রিয় মানুষদের ছেড়ে যাওয়ার শোক সামলেও নিজের লক্ষ্যে স্থির ছিলেন ইন্দিয়া। ২৫ বছরের এই ‘ট্রান্সওম্যান’ এই মুহূর্তে আমেরিকার অন্যতম সফল নন-বাইনারি মডেল। যিনি ‘টাইম১০০’ তালিকাতে রয়েছেন। মুর জানান, ” এই তালিকায় নাম থাকা অনেক বড় সম্মানের। এই সম্মানকে সামলে রাখার দায়িত্বও অনেক। আমি এখনও, আমার জীবনের প্রতিটা রহস্যের খোঁজ করছি। আমি ট্রান্সজেন্ডার। আমার বাবা মা নিজেদের ট্রান্সফোবিয়ার কারণে মাত্র ১৪ বছর বয়সে আমাকে ছেড়ে যান। ”

মুর আরও বলেন, “জীবনে কাজের জন্যে অনেক কিছুর সম্মুখীন হতে হয়েছে। অনেকের সঙ্গে কাজ করার ফলে তৈরি হয়েছে অনেক রকম অভিজ্ঞতা। এই কথাগুলো আমি আমাদের সম্প্রদায়ের জন্য, আমার মতো মানুষদের জন্য বলতে চাই। বিশ্বের দরবারে এই কথাগুলো বলা প্রয়োজন। আমি এখন যে কোনও পরিস্থিতিতে নিজেকে এবং আমার মতো যাঁরা রয়েছেন তাঁদেরকে সাহায্য করতে পারি। ”

২০২০ তে মুর এমির ‘ড্রামা সিরিজ পোজ’এর জন্যে মনোনীত হন। এখানে মুর ‘ব্ল্যাক অ্যান্ড ট্রান্স লিভ ম্যারাট’ নিয়ে কথা বলেন। তিনি আবেগের সঙ্গে বলেন, “আজ আমি যখন এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলি, তখন নিজের ফেলে আসা দিনগুলোকে দেখতে পাই। সবার কথা শুনে আজও প্রতিনিয়ত শিখি, সাহস পাই। ” তবে ভাল থাকতে কে না ভালবাসে! তাই সমস্ত যন্ত্রণাকে দূরে সরিয়ে ভাল থাকার উদ্দেশ্যে বারবার পা বাড়িয়েছেন মুর।

মুর জানান যে একটা প্রচলিত ধারণা আছে যে, শুধুমাত্র সাদা চামড়ার পরিবারগুলোই রক্ষণশীল! কিন্তু এটা সত্যি নয়। মুরের নিজের পরিবারও ছিল যথেষ্ট রক্ষণশীল। মুরের বাবা ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে প্রবাসী ছিলেন আর মা যিহোবার অনুগামী। ধর্মীয় কারণেও মুর অনেকবার বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন। তাঁকে অপরাধী পর্যন্ত বলা হয়েছিল একসময়!

সম্প্রতি আমেরিকাতে যে ‘ব্ল্যাক লিভস্ ম্যাটার’ আন্দোলন হল, তাকে সম্পূর্ণ সমর্থন করেছেন মুর। তাঁর সঙ্গে এটাও বলেছেন, শুধু এইটুকুতে কিছুই হবেনা। কারণ আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর বহুদিন ধরেই নানারকম অত্যাচার হয়ে চলেছে। তার বিরুদ্ধে বারবার পথে নামতে হবে, যতদিন না পর্যন্ত তাঁরা পুরোপুরি স্বাধীনতা ও সম্মান পাচ্ছেন।

মুর ভীষণ আশাবাদী। যেকোনও পরিস্থিতির জন্য এখন তিনি তৈরি। করোনাকালীন মহামারীর মধ্যেও তিনি থেমে থাকেননি। মুরকে থেকে তাঁর লক্ষ্য থেকে সরাতে পারেনি ক্রমবর্ধমান করোনা পরিস্থিতিও । এই সেপ্টেম্বরেই রানওয়েতে হাঁটেন মুর। ক্রমশই পুরোনো ছন্দে ফিরে আসছেন তিনি। তাঁর স্টাইল স্টেটমেন্ট সকলের থেকে আলাদা, যা আজও ক্রিটিকদের চর্চার বিষয়। ২০২১ সালে নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকেও দেখা যাবে মুরকে।

নিজের জীবনকে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন পরীক্ষার সামনে মেলে ধরতে ভালবাসেন ইন্দিয়া মুর।  সাফল্যও পান। জীবনে কখনও থেমে থাকতে শেখেননি তিনি। ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের জন্যে আরও একটু সহানুভূতি, প্রেম, ভালবাসা, সুরক্ষা ও সম্মানের দাবিতে গলা মিলিয়েছেন বারবার। সকলকে আরও বেশি সংবেদনশীল হওয়ার জন্যে অনুরোধ করেছেন।  অনেক কালো মেয়ের জীবনের অনুপ্রেরণা আজ ইন্দিয়া মুর।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More