বুধবার, জুন ১৯

প্রাক্তন বায়ুসেনার স্ত্রী-র রহস্যমৃত্যু! ডাকাতি করে খুনের দিকে ইঙ্গিত পুলিশের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাক্তন বায়ুসেনার স্ত্রী-র মৃতদেহ উদ্ধার হল দিল্লির ফ্ল্যাটে! প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ডাকাতি করে খুন করা হয়েছে তাঁকে।

মীনু জৈন।

পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবারের এই ঘটনায় ৫২ বছরের মৃত মহিলার নাম মীনু জৈন। দিল্লির দ্বারকায় সাত নম্বর সেক্টরের এয়ার ফোর্স নাভাল অফিসার কোয়ার্টারে থাকতেন তিনি। ঘটনার সময়ে স্বামী ভিকে জৈন বাড়িতে ছিলেন না। তিনি বর্তমানে ইন্ডিগোর কমার্শিয়াল পাইলট হিসেবে কর্মরত। খবর পেয়ে বাড়ি আসেন তিনি।

খবর পেয়ে চলে আসেন মীনুর ছেলে অজয় এবং শিবানীও। অজয় নয়ডার একটি বহুজাতিক সংস্থায় কাজ করে। শিবানী গোয়ার বাসিন্দা, পেশায় চিকিৎসক।

মীনুর বাবা এইচপি গর্গ পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে অর্থাৎ মীনুর দাদা দর্পণ তাঁকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যেয় ফোন করে জানান, মীনুর শরীরটা খুব একটা ভাল নেই। ৭৬ বছরের গর্গ দিল্লি আইআইটি-র প্রাক্তন প্রফেসর। সেখানেই বর্তমানে কিছু গবেষণার কাজ করছেন তিনি। ছেলের কাছে খবর পেয়ে, ইনস্টিটিউট থেকে বেরিয়ে সন্ধে ৭:৪৫ নাগাদ মীনুর বাড়ি রওনা দেন তিনি। পথে মীনুকে ফোনও করেন, মীনু জানান তিনি ঠিক আছেন। সেই সঙ্গে এ-ও বলেন, বিকেলে কিছু কাজুবাদাম খেয়ে ফেলায় শরীরটা খারাপ হয়েছিল, এখন ঠিক আছেন তিনি।

ফোনে মেয়ের সঙ্গে কথা বলেও নিশ্চিত হতে পারেননি বাবা, কোনও এক কারণে গিয়ে দেখা করে আসেন মেয়ের সঙ্গে। “সব ঠিকই ছিল। আমি কিছুই বুঝিনি। দেখা করে, ওকে সাবধানে থাকতে বলে চলে আসি আমি।”– বলেন গর্গ।

পরের দিন, অর্থাৎ শুক্রবার সকাল সাতটা নাগাদ মেয়েকে ফোন করেন তিনি। কিন্তু কিছুতেই ফোন কানেক্ট হয়নি বলে পুলিশকে জানিয়েছেন তিনি। এর পরেই তিনি তাঁর ছেলে দর্পণকে সঙ্গে নিয়ে মীনুর বাড়ি যান। বাইরের দরজা খোলা থাকলেও, তার ভিতরের একটি কাঠের দরজা বন্ধ ছিল। দরজায় নক করে সাড়া মেলেনি বলে পুলিশকে জানিয়েছেন গর্গ।

এর পরে দর্পণ মীনুর প্রতিবেশীর ফ্ল্যাটে ঢুকে, তাঁদের ব্যালকনি দিয়ে মীনুর ঘরের জানলা ভেঙে ঢোকেন। পুলিশ জানিয়েছে, এর পরেই দর্পণ দেখেন নিঃসাড়ে পড়ে আছেন মীনু। এর মধ্যেই সাড়ে আটটা নাগাদ মীনুর পরিচারিকা আসেন, দরজ বন্ধ দেখে তাঁর চাবি দিয়ে খোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু দরজা খোলেনি, লক-সুদ্ধ ভেঙে যায়।

এর পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে মীনুর দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকেরা মৃৃত বলে ঘোষণা করেন তাঁকে। প্রাথমিক সন্দেহে পুলিশের অনুমান, আগের রাতে তাঁর ফ্ল্যাটে ঢুকে ডাকাতি করার চেষ্টা করেছিল দুষ্কৃতীরা। তিনি টের পেয়ে যাওয়ার কারণেই হোক বা অন্য যে কোনও কারণে, তাঁকে মেরে ফেলা হয় শেষমেশ।

মীনুর পরিবারের তরফ থেকে পুলিশকে জানানো হয়েছে, মীনুর দু’টি মোবাইল ফোন, গায়ে পরে থাকা গয়না, দু’লাখ টাকার বিদেশি মুদ্রা এবং পাঁচ লাখ টাকার ভারতীয় মুদ্রা পাওয়া যাচ্ছে না।

পুলিশ মীনুর ঘর থেকে তিনটে বালিশ ও রক্তমাখা একটি তোয়ালে নিয়ে গিয়েছে। রান্নাঘর থেকে পাঁচটা চায়ের কাপও নিয়ে গিয়েছে তারা। সব ক’টিতেই চা খাওয়া হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, জিনিসগুলির ফরেন্সিক পরীক্ষা ও দেহের ময়নাতদন্ত হওয়ার পরেই মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

Comments are closed.