কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপ ‌অবৈধ বলে মন্তব্য চিনের, কড়া জবাব ভারতের

২০১৯ সালের ৫ অগস্ট জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। একই সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখকে দু'টি আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এদিন ছিল তার প্রথম বর্ষপূর্তি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১৯ সালের ৫ অগস্ট জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। একই সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখকে দু’টি আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এদিন ছিল তার প্রথম বর্ষপূর্তি। আর সেই দিনেই ভারতের ওই সিদ্ধান্ত একতরফা ও অবৈধ ছিল বলে মন্তব্য করেছে চিন। এর পরেই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর দরকার নেই বলে বেজিংকে কড়া জবাব দিল দিল্লি।

আরও পড়ুন

‘রাম ভারতের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের প্রতীক’, অযোধ্যায় ভূমি পুজোয় শান্তি ও সহাবস্থানের কথা প্রধানমন্ত্রীর মুখে

৩৭০ ধারা বিলোপের পরে ২০১৯ সালের অক্টোবর মাস থেকে জম্মু কাশ্মীর এবং লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেব পরিচালিত হচ্ছে। ভারতের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে এদিন চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন দাবি করেন, কাশ্মীর পরিস্থিতির দিকে টানা নজর রাখছে বেজিং। একই সঙ্গে বলেন, একতরফা ভাবে জম্মু কাশ্মীর এবং লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা অবৈধ। ওয়াং ওয়েনবিন এমনটাও বলেন যে, ভারত এবং পাকিস্তান যেহেতু প্রতিবেশী রাষ্ট্র তাই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান মাধ্যমেই দু’ দেশের স্বার্থরক্ষা সম্ভব।

এর জবাবে এদিন ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব এক বিবৃতিতে বলেন, ভারতের দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ সম্পর্কে চিনের বিদেশমন্ত্রক যে মন্তব্য করেছে তা তাদের অধিকারের মধ্যে পড়ে না। একই সঙ্গে তিনি চিনকে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য না করার জন্য পরমর্শ দেন।

পূর্ব লাদাখে চিনার আগ্রাসনকে কেন্দ্র করে এমনিতেই দিল্লি ও বেজিংয়ের মধ্যে সংঘাতের পরিবেশ রয়েছে। এখনও সেই সংঘাতের আবহ কমেনি। তারই মধ্যে এদিন চিনের মন্তব্য ভারতের জবাব নতুন উত্তাপ তৈরি করল দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে।

উল্লেখ্যে, এখনও ভারত সীমান্ত থেকে সেনা সরাতে নারাজ চিন। প্যাঙ্গং লেকের ফিঙ্গার এলাকা, দেপসাং সমতলভূমি থেকে সেনা সরাতে নারাজ চিন। গত রবিবারই পঞ্চম দফায় চুসুল সীমান্ত লাগোয়া চিন-নিয়ন্ত্রিত মলডোতে বৈঠক হয় ভারতীয় সেনার ১৪ নম্বর কোরের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল হরেন্দ্র সিংহ এবং চিনের শিনজিয়াং মিলিটারি ডিস্ট্রিক্ট কমান্ডার মেজর জেনারেল লিউ লিনের। কিন্তু তাতেও সমাধান সূত্র মেলেনি। প্যাঙ্গং লেকের উত্তরে সবুজে ঢাকা বিস্তীর্ণ উপত্যকাতেও ঘাঁটি গেড়ে রয়েছে লাল ফৌজ। ওই এলাকা ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে টহল দেয় ভারতীয় বাহিনী। চিনের সেনা ওই উপত্যকায় নিজেদের আধিপত্য কায়েম রাখায় সেখানে ভারতীয় সেনার টহলদারি কার্যত বন্ধ।

গত ১৫ জুন পূর্ব লাদাখের গালোয়ান উপত্যকায় দুই দেশের বাহিনীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পরে এই উপত্যকাতেও ঢুকে আসে চিনের বাহিনী। এরপরে বহুবার দুই দেশের সেনা কম্যান্ডার পর্যায়ের বৈঠকে গ্রিন টপ থেকে সেনা সরাতে বলা হয় চিনকে। কিন্তু নানা টালবাহানা করে এড়িয়ে যায় চিন।

চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন দাবি করেছিলেন, সমস্ত বেস পয়েন্ট থেকেই সেনা সরিয়ে নিয়েছে চিন। কিন্তু বাস্তব চিত্র অন্য। গালওয়ানে সেনার সংখ্যা সামান্য কমালেও উত্তর লাদাখের দেপসাং ভ্যালিতে নতুন করে সেনা মোতায়েন শুরু করেছে চিন।

এর উপরে আবার তিব্বতের শিকুয়ানহিতে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে নির্মাণকার্য চালাচ্ছে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি। জায়গায় জায়গায় তৈরি হয়েছে অস্থায়ী সেনা শিবির। অনুমান করা হচ্ছে, ট্যাঙ্ক, প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র-সহ মোটর রাইফেল ডিভিশন মোতায়েন করার কাজ চলছে ওই এলাকাগুলিতে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More