রাজভবনে নবান্নের দুই শীর্ষ কর্তা, তবুও মমতারই পথ চেয়ে ধনকড়

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজভবনে তলব করা নিয়ে টুইট-যুদ্ধ, পত্র-যুদ্ধের আপাতত সমাধা হল। রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের ডাকে রাজভবনে গেলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্র ও মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা। আর সেখানেই রাজ্যপাল জানিয়েছেন, নাগরিকত্ব আইন বিরোধিতায় মালদহ ও মুর্শিদাবাদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন তিনি। এর জন্য প্রশাসনিক সাহায্যের আর্জিও জানিয়েছেন ধনকড়। রাজ্য প্রশাসনের দুই শীর্ষকর্তার সঙ্গে বৈঠকের শেষে নিজেই একথা জানিয়েছেন রাজ্যপাল।

    তবে শুধু দুই শীর্ষ কর্তার সঙ্গে বৈঠক করেই খুশি নন রাজ্যপাল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও কথা বলতে চাইছেন তিনি। এদিন সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজ্যপাল বলেন, মুখ্যমন্ত্রী সময় সুযোগ করে তাঁর সঙ্গে রাজ্যের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন বলে তিনি আশা করেন। সোমবার দুই শীর্ষকর্তাকে রাজভবনে তলব করেছিলেন রাজ্যপাল। কিন্তু মুখ্যসচিব বা ডিজিপি সেই ডাকে সাড়া দেননি। সোমবারের বৈঠক বুধবার হলেও আলোচনায় তিনি খুশি বলে জানিয়েছেন রাজ্যপাল।

    নতুন নাগরিকত্ব আইন ও নাগরিক পঞ্জির বিরোধিতায় রাজ্যে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই আইন অসংবিধানিক বলেও দাবি করেছেন তিনি। সরাসরি এ নিয়ে মন্তব্য না করে এর জবাবে ধনকড়ের বক্তব্য, “রাজনীতিকরা কী করবেন সেটা তাঁদের ব্যাপার। এ নিয়ে আমার কিছু বলার নেই।” একই সঙ্গে তিনি ফের মনে করিয়ে দেন তাঁর পুরনো বক্তব্য। এদিনও তিনি বলেন, “এই আইন সকলের মান্য করা উচিত। সংসদে পাশ হয়েছে এই আইন।” রাজ্যপালের বক্তব্য, না জেনে কিছু মানুষ ভুল কাজ করছে। অনেকে ভুল শেখাচ্ছেও। আশা করি প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা করবে।

    রাজ্যপালের এই প্রতিক্রিয়া কিংবা নবান্নের দুই দূতের রাজভবনে পৌঁছে যাওয়ার পরেও অবশ্য এখনই সব মিটে গেল ভাবা যাবে না। কারণ, রাজ্যপাল মালদহ, মুর্শিদাবাদ যেতে চাইলে রাজ্য সরকার সেটা কতটা মেনে নেবে তা এখনই বলা যাবে না। তাছাড়া এদিনও টুইটে রাজ্যপালের পোস্ট নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।

    এদিনই মুখ্যমন্ত্রীর দু’টি ভিডিও ক্লিপ একসঙ্গে করে বানানো একটি ভিডিও টুইটারে শেয়ার করেন জগদীপ ধনকড়। তাতে একটি ক্যাপশনও লেখেন তিনি: “ভিডিওটি বিশ্লেষণ করলে যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।” ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে, ২০০৫ সালে অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে লোকসভায় বক্তব্য রাখছেন মমতা। অনুপ্রবেশকে বিপর্যয়ের সঙ্গেও তুলনা করছেন তিনি। পরবর্তী ক্লিপিংয়েই দেখা যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তৃতা, যেখানে এনআরসি ও ক্যাবের বিপক্ষে বক্তব্য রাখছেন তিনি।

    এদিনই তার জবাব দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছেন পুরনো যে ভিডিও, তার প্রেক্ষিত আলাদা ছিল। সরাসরি নাম না বললেও সাংবিধানিক প্রধানের ফেক ভিডিও প্রকাশ করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন মমতা। এদিন এ নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে রাজ্যপাল বলেন, “মত প্রকাশের অধিকার আমায় সংবিধান দিয়েছে। আমায় কেউ ভুল দেখিয়ে দিতে পারলে নতুন করে ভাবব।”

    সুতরাং, নাগরিকত্ব আইন নিয়ে রাজ্য বনাম রাজ্যপাল সংঘাতের দরজা বন্ধ হল এমনটা ভাবা যাচ্ছে না এখনই।

    আরও পড়ুন

    মমতার কথায় যুক্তি নেই! পুরনো ও নতুন দু’রকমের ভিডিও টুইট করে মুখ্যমন্ত্রীকে ট্রোল করলেন রাজ্যপাল

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More