শাওমি, ভিগো ভিডিও কলেও নিষেধাজ্ঞা কেন্দ্রের, ক্যাম স্ক্যানারও ভারতে চলবে না

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাদাখ সংঘাতের পর থেকেই দেখা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এমআই তথা শাওমি স্টোরের বাইরে হোডিং লাগানো হয়েছে – ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’! কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হল কি! সন্দেহের আতস কাচের তলায় চলে এলো শাওমিও।

    সোমবার বিকেলে কেন্দ্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়ে দিয়েছে যে, ভারতে ৫৯ টি চিনা অ্যাপের উপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা করা হয়েছে। সেই তালিকায় সবার আগে নাম রয়েছে টিকটকের। কিন্তু তালিকা ঘাটলে দেখা যাবে, সন্দেহের মেঘ ঘনিয়েছে শাওমিকে নিয়েও। এমআই কমিউনিটি এবং শাওমি ভিডিও কল ভারতে ব্যবহার করা যাবে না বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। একই সঙ্গে ব্যান করা হয়েছে ভিগো ভিডিও-কে।

    কেন এই পদক্ষেপ করল কেন্দ্র?

    সরকারি সূত্রে বলা হচ্ছে, দেশের গোয়েন্দা এজেন্সিগুলি জানিয়েছে এই সব অ্যাপ ভারতীয়দের গোপনীয়তার শর্ত লঙ্ঘন করেছে। তা নিয়ে আপস করছে। তা ছাড়া এই সব অ্যাপের মাধ্যমে স্পাইওয়ার ও ম্যালওয়ার ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কেন্দ্রের এই ঘোষণার পর মুহূর্তেই সরকারি টিকটক অ্যাকাউন্ট ডিসেবল করে দেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ১১ লক্ষ ফলোয়ার ছিলেন।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে বলা হচ্ছে, টিকটক নিয়ে উদ্বেগ তো রয়েছেই। কিন্তু আরও চিন্তা হল ইউসি ব্রাউজার বা ক্যাম স্ক্যানার নিয়ে। কারণ, বহু লক্ষ ভারতীয় সরকারি নথিপত্র বা ব্যক্তিগত প্রমাণপত্র মোবাইলে ক্যাম স্ক্যানারের মাধ্যমে স্ক্যান করেছে। সেই সব নথির আর কোনও গোপনীয়তা রয়েছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

    রবিবারই ‘মন কি বাত’ অনু্ষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, ভারতের দিকে যারা চোখ তুলে দেখেছে তাদের যোগ্য জবাব দেওয়া হবে। চিনের নাম না করেও তিনি যে ভাবে স্বদেশি দ্রব্যের উৎপাদন ও ব্যবহারের কথা বলেছেন তাতে বেজিং-কে বর্জণের বার্তাই ছিল পরিষ্কার।

    তার পরই সোমবার বিকেলে সরকার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়েছে, “ যে ধরনের কার্যকলাপ এরা করছিল তা দেশের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে”।

    কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান ‘ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টার’-এর বিশদে পর্যালোচনা করে এই মর্মে সুপারিশ করেছিল। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শুধু তা নয়, সরকারের বক্তব্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জন প্রতিনিধিদের তরফে সংসদের ভিতরে ও বাইরে এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। তাই সবদিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় সরকার ও কিছু রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই চিনা প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি ভেঙে দিতে শুরু করেছে। ভারতীয় রেল চিনা সংস্থার সঙ্গে ৪৭১ কোটি টাকার একটি চুক্তি রাতারাতি ভেঙে দিয়েছে। চিনা সংস্থার সঙ্গে চুক্তি ভেঙে দিয়েছে টেলিকম দফতরও। তা ছাড়া গতকাল বিহার সরকারও চিনা বাণিজ্যিক সংস্থার সঙ্গে একটি চুক্তি ভেঙে দিয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More