শনিবার, আগস্ট ১৭

সম্মতি থাকলেও পাক আকাশসীমা এড়াবেন মোদী, বিশকেক যাবেন ঘুরপথে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইসলামাবাদ নীতিগত সম্মতি দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাউথ ব্লক জানিয়ে দিল, পাক আকাশসীমা ব্যবহার করবেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

কিরঘিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে কাল বৃহস্পতিবার থেকে সাঙ্ঘাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) বৈঠক বসছে। নয়াদিল্লি থেকে বিশকেক যাওয়ার পথে পাক আকাশসীমা ব্যবহারের কথা গোড়ায় ভেবেছিল নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে সে ব্যাপারে জানানোও হয়েছিল ইসলামাবাদকে। তাতে নীতিগত সম্মতি দেয় ইমরান খান প্রশাসন। কিন্তু তার পরেও বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বুধবার দুপুরে জানিয়ে দেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিমান পাক আকাশ সীমার মধ্যেই ঢুকবেই না। উল্লেখ্য, পাকিস্তানও এসসিও-র সদস্য দেশ।

তা হলে কোন পথে বিশকেক পৌঁছবেন মোদী?

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ওমান-ইরান-মধ্য এশিয়ার আকাশ পথ ধরে কিরঘিজস্তানে পৌঁছোবেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ফিরবেনও সেই পথেই।

জম্মু কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর উপর জঙ্গি হানার পর ভারত-পাক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। তার জবাব দিতে পরবর্তী কালে পাক অধিকৃত বালাকোটে জঙ্গি শিবির ধ্বংস করতে বিমান হামলা চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা। তখন থেকে পাক আকাশসীমায় ভারতীয় বিমান প্রবেশের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইসলামাবাদ।
তবে ইসলামাবাদের যাই নিষেধাজ্ঞা থাকুক নিরাপত্তার কারণে তা এড়িয়ে চলাই বাঞ্ছনীয় বলে মনে করে ভারতীয় বেসরসকারি বিমান সংস্থাগুলিও। সেই কারণেই বিমান যাত্রার সময়ও বহু রুটে বেড়ে গিয়েছে।

এখন প্রশ্ন হল, ইসলামাবাদ সম্মত হলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভিভিআইপি বিমান কেন পাক আকাশসীমার মধ্যে প্রবেশ না করার সিদ্ধান্ত হল?

এর কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা এ দিন বিদেশ মন্ত্রক দেয়নি। তবে একটি সূত্রের দাবি, সাধারণ ভারতীয় নাগরিকদের জন্য পাক আকাশসীমা যখন বন্ধ, তখন প্রধানমন্ত্রী নিজে সুবিধা নিতে চাননি।

আবার অনেকের মতে, পাক আকাশসীমা ব্যবহার না করে জাতীয়তাবাদের প্রশ্নেও হাওয়া দিতে চাইছেন। কারণ, এমনিতেই ইসালামাবাদের নানান কার্যকলাপ নিয়ে ঘরোয়া রাজনীতিতে অসন্তোষ রয়েছে। বিশ্বকাপে ভারত-পাক ক্রিকেট ম্যাচের আগে পাকিস্তানে যে ধরনের বিজ্ঞাপন চলছে তা নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে এ দেশে। তাই প্রধানমন্ত্রীও কুশলী সিদ্ধান্ত নিলেন।
তবে কূটনীতিকদের কেউ কেউ বলছেন, এই সব সাত সতেরো ভাবনা অমূলক। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টিও ভাবতে হচ্ছে এসপিজি-কে। পাকিস্তানে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠনগুলির উপর সে দেশের সরকারের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। পাক সেনার মধ্যেও মৌলবাদী শক্তির প্রভাব রয়েছে। ফলে নিরাপত্তার দিকটি কোনও ভাবেই উপেক্ষা করা যায় না। হতে পারে সেই কারণেই ওমান, ইরানের মতো বন্ধু রাষ্ট্রের আকাশসীমা ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।

আরও পড়ুন:

মোদী বিশকেক যাচ্ছেন, কেমন সেই কিরঘিজ শহর

Comments are closed.