করোনা মোকাবিলায় সারা পৃথিবীকে পথ দেখাক ভারতই

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    শুকনো কাশি, গলায় ব্যথা, গায়ে জ্বর। এইগুলি কোভিড-১৯ রোগের লক্ষণ। এই সিজন চেঞ্জের সময় এমনিতেও জ্বরজারি হয়। কিন্তু করোনা মহামারীর যুগে সামান্য ঠান্ডা লাগলেই ভয় পাচ্ছেন অনেকে। পাওয়া অস্বাভাবিক নয়।

    আতঙ্কিত হয়ে রয়েছে সারা পৃথিবী। ১০০-র বেশি দেশে ছড়িয়েছে করোনাভাইরাস। বিশ্বের এক বৃহৎ অংশে জারি লকডাউন। আমাদের দেশেও তাই। কারখানা বন্ধ, রাস্তায় যানবাহন নেই, এরোপ্লেনগুলো মাটিতে দাঁড়ানো। এককথায় মানব সভ্যতা থমকে গিয়েছে। শেষবার বিশ্বজোড়া মহামারী দেখা গিয়েছিল ১৯১৮ সালে। স্প্যানিশ ফ্লু সংক্রমণে পাঁচ কোটি লোকের প্রাণ গিয়েছিল। তার ১০০ বছর বাদে ফের এত বড় আকারে ফিরে এল মহামারী।

    তবে একটা কথা বলার, কোভিড-১৯ এর মারণক্ষমতা স্প্যানিশ ফ্লু-র মতো অত সাংঘাতিক নয়। এতে মৃত্যুর হার এক শতাংশের কম। দেখা যাচ্ছে, সুস্থ সবল শরীরের মানুষকে এই রোগ তেমন কাবু করতে পারে না। তাদের হলেও সেরে যায়। বিশ্বে তিন লক্ষের কছু বেশি মানুষ এখনও অবধি আক্রান্ত হয়েছেন বটে কিন্তু সেরেও উঠেছেন এক লক্ষ।

    মূলত বয়স্ক লোকজন, অথবা যাঁরা আগে থেকেই কোনও কঠিন রোগে ভুগছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেই নতুন রোগটা প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

    গত ১০০ বছরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনেক এগিয়েছে। মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তিও বেড়েছে বহুগুণ। তার কিছু নমুনা রয়েছে আমাদের সামনেই।

    যেখান থেকে করোনাভাইরাসের উৎপত্তি, সেই চিন মহামারীকে মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে এনে ফেলেছে। সেদেশে নতুন করে সংক্রমিত হচ্ছেন খুব কম লোক। করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় যে অস্থায়ী হাসপাতালগুলো তৈরি হয়েছিল, সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা এতদিনে ছুটি পাচ্ছেন। ক্লান্ত দেহে বাড়ি ফিরতে দেখা যাচ্ছে অনেককে। মহামারীর বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের জন্য তাঁদের অভিনন্দন জানাচ্ছেন পড়শিরা।

    আরও একটা খবর। চিনদেশে করোনা আক্রান্ত এক ১০৩ বছরের বৃদ্ধা নাকি সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

    দক্ষিণ কোরিয়াতেও গত এক সপ্তাহে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা কমেছে। কোভিড-১৯ কে নিয়ন্ত্রণে রাখতে একটা দূর অবধি সফল হয়েছিল হংকং। কিন্তু এই সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে তারা বিধিনিষেধ অনেকাংশে তুলে নিয়েছিল। তাতে নতুন করে কয়েকজনের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

    তাইওয়ান এবং সিঙ্গাপুরের মতো দেশও মহামারী মোকাবিলায় বাকিদের থেকে এগিয়ে আছে বলে জানা যায়।

    কোভিড-১৯ এর প্রতিষেধক তৈরির জন্য গবেষণা চলছে জোর কদমে। ইজরায়েলের বিজ্ঞানীরা এ ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটিয়েছেন। ইতিবাচক খবর আসছে আরও কয়েকটি দেশ থেকে। কানাডার মন্ট্রিয়েল গেজেট নামে সংবাদপত্র জানিয়েছে, অন্টারিও প্রদেশের একদল বিজ্ঞানী কোভিড-১৯ সংক্রমণের পিছনে মূল কারণটি চিহ্নিত করতে পেরেছেন।

    বিজ্ঞানীরা যদি শত্রুকে চিহ্নিত করতে পারেন, তাকে মারার ব্যবস্থা করতেও বেশি সময় লাগে না।

    আমেরিকার সান দিয়াগো বায়োটেক কোম্পানি মহামারীর প্রতিষেধক তৈরিতে অনেক দূর এগিয়েছে।

    এখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জৈব প্রযুক্তি সংস্থাগুলি চেষ্টা করছে যাতে খুব তাড়াতাড়ি কোভিড ১৯ এর ওষুধ বার করে ফেলা যায়। এই প্রতিযোগিতায় যে প্রথম হবে, সে বিপুল খ্যাতি ও অর্থের মালিক হবে বলাই বাহুল্য।

    যতদিন না ওষুধ বেরোচ্ছে, ততদিন বজায় রাখতে হবে সোশ্যাল ডিসট্যানসিং। অর্থাৎ কারও বেশি কাছাকাছি যাওয়া চলবে না। তা হলে রোগের বিস্তার হবে ধীর গতিতে। এমনকি অনেকাংশে তাকে থামিয়েও দেওয়া যাবে। এই জন্য এখন আমাদের দেশের এক বড় অংশ লক ডাউন হয়ে রয়েছে।

    আমাদের সরকার প্রাণপণে চেষ্টা করছে যাতে রোগটা তৃতীয় পর্যায়ে না যেতে পারে। সামাজিক মেলামেশার মাধ্যমে যখন করোনাভাইরাস ছড়ায়, তখন রোগটি প্রবেশ করে তৃতীয় পর্যায়ে। এই অবস্থায় আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় গুণোত্তর প্রগতিতে। এর পরে মহামারীর চতুর্থ পর্বটি সবচেয়ে খারাপ। তখন বিপুল সংখ্যক মানুষ মারা যায়।

    ভারতের জনসংখ্যা এখন প্রায় ১৩৫ কোটি। এমন ঘনবসতিপূর্ণ দেশে কোভিড- ১৯ কে যেভাবে দ্বিতীয় পর্যায়ে আটকে রাখা গিয়েছে, তার প্রশংসা করতে বাধ্য হয়েছে হু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্তা মাইকেল জে রায়ান বলেছেন, অতীতে স্মল পক্স ও পোলিও মহামারীর মোকাবিলা করেছে ভারত। এই দেশ করোনা মহামারীর মতো বিপর্যয় মোকাবিলার ক্ষমতা রাখে। রায়ানের আশা, চলতি মহামারী প্রতিরোধে ভারতই সারা বিশ্বকে পথ দেখাবে।

    গত কয়েক হাজার বছরে বহুবার জ্ঞান-বিজ্ঞান-দর্শনে বিশ্বকে পথ দেখিয়েছে আমাদের দেশ। একুশ শতকের গোড়ায় ভারত বিশ্ববাসীকে শেখাবে, কীভাবে অপমৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেতে হয়। সুতরাং প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকের এখন অনেক দায়িত্ব। তাঁরা যদি স্বাস্থ্যবিধিগুলি অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেন, লকডাউনের সময় বাইরে না বেরোন, তাহলে নিজেরা বাঁচবেন, বাকিদেরও বাঁচার পথ দেখাতে পারবেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More